পাঠ ৮ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.২ (সংবহন, শ্বসন)
ঘাসফড়িং-এর মুক্ত সংবহন ও ট্রাকিয়া শ্বসনOpen circulation & tracheal breathing
একটি ঘাসফড়িং চুপচাপ বসে আছে, কিন্তু তার পেট তালে তালে ওঠানামা করছে। এটা কি শ্বাস নেওয়া, না রক্ত পাম্প করা? আগে অনুমান করো, তারপর ভেতরটা দেখো:
উত্তর: দুটোই চলছে, কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা দুই তন্ত্রে। মানুষের রক্ত O₂ বয়ে নেয়; ঘাসফড়িং-এর রক্ত প্রায় বয় না, বাতাস নিজেই নল বেয়ে কোষে পৌঁছায়। এই পাঠের ধাপগুলো:
- মুক্ত (open) বনাম বদ্ধ (closed) সংবহন
- হিমোসিল (haemocoel) — তিনটি সাইনাস (sinus) ও দুটি ডায়াফ্রাম (diaphragm)
- হৃৎপিণ্ড (heart) — অস্টিয়া (ostia), অ্যালারি পেশি (alary muscles), অ্যাওর্টা (aorta)
- হিমোলিম্ফ (haemolymph) — রক্ত, কিন্তু O₂-বাহক নয়
- ট্রাকিয়াতন্ত্র (tracheal system) — শ্বাসরন্ধ্র (spiracle), ট্রাকিয়া, ট্রাকিওল (tracheole)
- বায়ু চলাচল (ventilation) — পেট পাম্প, সামনে দিয়ে ঢোকে, পেছন দিয়ে বেরোয়
- পতঙ্গ কেন ছোট — বিস্তারের দূরত্ব (diffusion distance)
ধাপ ১: মুক্ত না বদ্ধ সংবহন?
মানুষ, মাছ বা কেঁচোর রক্ত সবসময় নালির ভেতরে থাকে: হৃৎপিণ্ড → ধমনি → কৈশিকনালি → শিরা → আবার হৃৎপিণ্ড। একে বলে বদ্ধ সংবহন (closed circulation)। ঘাসফড়িং-সহ সব আর্থ্রোপোডে হৃৎপিণ্ড থেকে বেরোনো রক্ত একটু পরেই নালি ছেড়ে খোলা দেহগহ্বরে ছড়িয়ে পড়ে; অঙ্গগুলো সরাসরি সেই রক্তে ডুবে থাকে। একে বলে মুক্ত সংবহন (open circulation)। এই দেহগহ্বরের নাম হিমোসিল (haemocoel), আর তার তরলের নাম হিমোলিম্ফ (haemolymph) — রক্ত (blood) ও কলারস (lymph) একসাথে।
| বৈশিষ্ট্য | বদ্ধ (মানুষ, কেঁচো) | মুক্ত (ঘাসফড়িং) |
|---|---|---|
| রক্ত কোথায় | সবসময় নালিতে | নালি থেকে বেরিয়ে হিমোসিলে |
| কৈশিকনালি (capillary) | আছে | নেই |
| চাপ ও বেগ | বেশি | কম, ধীর |
| O₂ বহন | রক্তই করে (হিমোগ্লোবিন) | ট্রাকিয়া করে; রক্ত প্রায় না |
নিচের কোনটি মুক্ত সংবহনের বৈশিষ্ট্য?
ধাপ ২: হিমোসিল — তিন কক্ষের দেহগহ্বর
ঘাসফড়িং-এর দেহগহ্বর দুটি পাতলা, ছিদ্রযুক্ত পর্দায় তিন ভাগ:
- ডর্সাল ডায়াফ্রাম (dorsal diaphragm) — পিঠের দিকে; এর উপরের কক্ষ পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস (pericardial sinus), যেখানে হৃৎপিণ্ড থাকে।
- মাঝের সবচেয়ে বড় কক্ষ পেরিভিসেরাল সাইনাস (perivisceral sinus) — পৌষ্টিকনালি, জননাঙ্গ, ফ্যাট বডি এখানে।
- ভেন্ট্রাল ডায়াফ্রাম (ventral diaphragm) — পেটের দিকে; এর নিচে পেরিনিউরাল সাইনাস (perineural sinus), যেখানে অঙ্কীয় স্নায়ুরজ্জু।
প্রস্থচ্ছেদে প্রতিটি অংশে ট্যাপ করো, তারপর “হিমোলিম্ফ অনুসরণ করো” চেপে একটি পুরো চক্র ঘোরো:
ঘাসফড়িং-এর হৃৎপিণ্ড কোন সাইনাসে থাকে?
ধাপ ৩: হৃৎপিণ্ড — পিঠের নিচে লম্বা নল
ঘাসফড়িং-এর হৃৎপিণ্ড পিঠ বরাবর লম্বা একটি নল (dorsal vessel)। উদরের অংশটি কয়েকটি প্রকোষ্ঠে (chambers) ভাগ; প্রতিটি প্রকোষ্ঠের দুই পাশে এক জোড়া ছিদ্র — অস্টিয়া (ostia)। অস্টিয়ায় একমুখী কপাট: হিমোলিম্ফ শুধু ভেতরে ঢুকতে পারে। হৃৎপিণ্ডের সামনের সরু অংশ অ্যাওর্টা (aorta) বক্ষ পেরিয়ে মাথায় গিয়ে খোলা মুখে শেষ হয়। হৃৎপিণ্ডকে ঝুলিয়ে রাখে পাখার মতো ছড়ানো অ্যালারি পেশি (alary muscles), জোড়ায় জোড়ায় (সংখ্যা প্রজাতিভেদে আলাদা)।
একটি স্পন্দনে দুটি দশা:
- ডায়াস্টোল (diastole) — স্থিতিস্থাপক তন্তু ও অ্যালারি পেশির টানে হৃৎপিণ্ড চওড়া হয়, অস্টিয়া খোলে, পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস থেকে হিমোলিম্ফ ঢোকে।
- সিস্টোল (systole) — হৃৎপিণ্ডের নিজের পেশি পেছন থেকে সামনে ঢেউয়ের মতো সংকুচিত হয়, অস্টিয়া বন্ধ থাকে, হিমোলিম্ফ অ্যাওর্টা দিয়ে মাথায় যায়।
পথ: সাইনাস → অস্টিয়া → হৃৎপিণ্ড → অ্যাওর্টা → মাথা → হিমোসিল দিয়ে পেছনে → আবার সাইনাস। এবার নিজে হৃৎপিণ্ড চালাও, পাশের বদ্ধ তন্ত্রের সাথে মিলিয়ে দেখো:
সিস্টোলের সময় অস্টিয়া বন্ধ থাকা জরুরি কেন?
ধাপ ৪: হিমোলিম্ফ — রক্ত, কিন্তু অক্সিজেন-বাহক নয়
হিমোলিম্ফ দুই ভাগে: তরল প্লাজমা (plasma) আর তাতে ভাসমান কোষ হিমোসাইট (haemocytes)। প্রধান তথ্য (Chapman 2013):
| বিষয় | মান |
|---|---|
| পানি | প্রায় 85–90% |
| দেহের আয়তনের কত ভাগ | পূর্ণাঙ্গে প্রায় 15–20% |
| হিমোসাইট | প্রায় 10⁴–10⁵ টি প্রতি mm³ (প্রজাতি ও অবস্থাভেদে অনেক বদলায়) |
| শ্বসন রঞ্জক (respiratory pigment) | নেই — হিমোগ্লোবিন বা হিমোসায়ানিন নেই |
| রং | বর্ণহীন থেকে হালকা সবুজ-হলুদ (ক্যারোটিনয়েড জাতীয় রঞ্জক, O₂ বয় না) |
কাজ: খাদ্যরস, হরমোন ও বর্জ্য পরিবহন; হিমোসাইট দিয়ে জীবাণু গ্রাস (phagocytosis) ও ক্ষত বন্ধ (clotting); পানি জমা রাখা; চাপ দিয়ে খোলস বদলানো, ডানা মেলা ও ডিম ফোটায় সাহায্য।
O₂ কেন বয় না? পানিতে O₂ খুব কম গলে। 25 °C-এ এক লিটার বাতাসে প্রায় 8.6 mmol O₂, অথচ বাতাসে সম্পৃক্ত এক লিটার পানিতে মাত্র 0.26 mmol — প্রায় 3%। হিমোগ্লোবিনওয়ালা মানুষের রক্তে লিটারে প্রায় 8.9 mmol — হিমোলিম্ফের প্রায় 35 গুণ:
ঘাসফড়িং-এর হিমোলিম্ফ শ্বসনে প্রায় ভূমিকা রাখে না কেন?
ধাপ ৫: ট্রাকিয়াতন্ত্র — বাতাসের পাইপলাইন
- শ্বাসরন্ধ্র (spiracle) — 10 জোড়া: বক্ষে 2 (মধ্য ও পশ্চাদ্বক্ষ), উদরে 8 (খণ্ড 1–8)। সব শ্বাসরন্ধ্র কার্যকর, তাই একে বলে হলোনিউস্টিক (holopneustic)। প্রতিটির মুখে শক্ত বলয় পেরিট্রিম (peritreme), ভেতরে ছোট প্রকোষ্ঠ অ্যাট্রিয়াম (atrium) ও ধুলো আটকানো ছাঁকনি লোম (filter hairs), আর পেশিচালিত কপাটিকা (valve) — বন্ধ রেখে পানি হারানো কমায়।
- ট্রাকিয়া (trachea) — কিউটিকলে মোড়া নল; ভেতরে প্যাঁচানো কাইটিনের সুতো টিনিডিয়া (taenidia) নলকে চুপসে যেতে দেয় না। ব্যাস মূল নলে কয়েকশো µm থেকে শাখায় কয়েক µm।
- বায়ুথলি (air sac) — টিনিডিয়াহীন পাতলা থলি; চুপসে-ফুলে পাম্পের কাজ করে, বাতাস জমায়, দেহ হালকা রাখে।
- ট্রাকিওল (tracheole) — ট্রাকিয়ার শেষ প্রান্তকোষ থেকে বেরোনো 1 µm-এর চেয়ে সরু নল, কোষের গা ঘেঁষে বা ভেতরে ঢোকে। আগায় তরল থাকে; পেশি খাটলে সেই তরল টেনে নেওয়া হয়, বাতাস কোষের আরও কাছে আসে।
ট্রাকিয়া ও ট্রাকিওলের পার্থক্য কোনটি ঠিক?
ধাপ ৬: বায়ু চলাচল — সামনে দিয়ে ঢোকে, পেছন দিয়ে বেরোয়
শুধু বিস্তারে (diffusion) চলে না — ঘাসফড়িং সক্রিয়ভাবে বাতাস পাম্প করে। উদরের পৃষ্ঠ-অঙ্কীয় পেশি (dorsoventral muscles) সংকুচিত হলে পেট চ্যাপ্টা হয়, বায়ুথলি চেপে বাতাস বের হয় (expiration); পেশি শিথিল হলে স্থিতিস্থাপকতায় পেট ফোলে, বাতাস ঢোকে (inspiration)। তার সাথে কপাটিকার তাল মেলানো: বিশ্রামরত পঙ্গপালে বাতাস ঢোকে সামনের শ্বাসরন্ধ্র 1, 2 ও 4 দিয়ে, বেরোয় পেছনের 10 দিয়ে (Miller 1960)। ফলে বাতাস নলের ভেতর একমুখী (unidirectional) প্রবাহিত হয়। ওড়ার সময় ডানার পেশির নড়াচড়াও বক্ষের বায়ুথলি চেপে বাড়তি বাতাস টানে।
শ্বাসরন্ধ্রের কপাটিকা তাল মিলিয়ে খোলা-বন্ধ না হলে কী হতো?
ধাপ ৭: পতঙ্গ কেন ছোট?
ট্রাকিওলের শেষ অংশে O₂ পৌঁছায় বিস্তারে। বিস্তারে দূরত্ব যেতে মোটামুটি সময় লাগে
যেখানে বিস্তার সহগ (diffusion coefficient): বাতাসে O₂-এর , পানিতে মাত্র — প্রায় দশ হাজার গুণ কম। 1 cm পুরু পতঙ্গে কেন্দ্র পর্যন্ত :
একই পথ টিস্যুর পানি দিয়ে গেলে প্রায় 1.7 ঘণ্টা — তাই বাতাসের নল কোষের দোরগোড়া পর্যন্ত যেতেই হয়। আর দেহ 100 গুণ পুরু (1 m) হলে বাতাসের নলেও সময় গুণ, প্রায় 1.7 ঘণ্টা। ট্রাকিয়া-নির্ভর শ্বসনের এই সীমাই (পা ও কঙ্কালের সীমার সাথে) পতঙ্গকে ছোট রাখার একটি বড় কারণ। (প্রাচীন কার্বোনিফেরাস যুগে বাতাসে O₂ বেশি ছিল, তখন ড্রাগনফ্লাই-জাতীয় পতঙ্গের ডানা প্রায় 70 cm চওড়া ছিল।)
বিস্তারের দূরত্ব 10 গুণ হলে সময় কত গুণ হয়?
এবার নিজে করে দেখো
কাজের মাত্রা (activity) স্লাইডার বিশ্রাম থেকে ওড়া পর্যন্ত সরাও — পেট পাম্প, হৃৎস্পন্দন আর উড্ডয়ন পেশির O₂ মিটার দেখো। রক্ত/বাতাস বোতামে আলাদা স্তর দেখো, হৃৎস্পন্দনের ঢেউয়ের দিক বেছে নাও, বক্ষের শ্বাসরন্ধ্র বন্ধ করে দেখো কী হয়, উদর জুম করে শ্বাসরন্ধ্র গোনো। নিচের দুটি কার্ডে রং আর আকারের প্রশ্নের উত্তর খোঁজো। পাম্প হার, হৃৎস্পন্দন ও O₂ মডেলের সংখ্যা উদাহরণমাত্র (illustrative) — ধরন সত্যি, মান মাপা নয়।
মুক্ত সংবহন ও ট্রাকিয়া শ্বসন
Open circulation & tracheal breathing — illustrative modelহিমোলিম্ফ লাল নয় কেন? (why not red?)
দেহ বড় হলে? (diffusion vs size)
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
কাজের মাত্রা বদলে “খাতায় লেখো” চাপো — পাম্প, হৃৎস্পন্দন আর O₂ এখানে জমা হবে।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/5- বক্ষের শ্বাসরন্ধ্র 1–2 বন্ধ করো, তারপর ঘাসফড়িংকে ওড়াও — উড্ডয়ন পেশির O₂ 50%-এর নিচে নামাও।
- “উদর জুম” চেপে এক পাশের সব শ্বাসরন্ধ্রে ট্যাপ করে গোনো। (0/10)
- রক্ত-স্তর দেখাও আর হৃৎস্পন্দনের ঢেউ এমনভাবে চালাও যাতে হিমোলিম্ফ হৃৎপিণ্ড দিয়ে মাথার দিকে যায়।
- নিচের কার্ডে বলো: ঘাসফড়িং-এর হিমোলিম্ফ লাল নয় কেন?
- দেহের পুরুত্ব 1 cm ও 100 cm (1 m) — দুটিতেই বসিয়ে বিস্তারের সময় তুলনা করো।
বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে:
- “প্লাজমার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগই পানি” (পৃ. 43): পতঙ্গের হিমোলিম্ফে পানি প্রায় 85–90% (Chapman 2013)।
- “ঘাসফড়িংয়ের হিমোলিম্ফ বর্ণহীন” (পৃ. 43): প্রায়ই হালকা সবুজ বা হলুদাভ — ক্যারোটিনয়েড/বিলিভার্ডিন জাতীয় রঞ্জকের জন্য। তবে এগুলো শ্বসন রঞ্জক নয়; “O₂ বহনকারী রঞ্জক নেই” কথাটি ঠিক। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: “বর্ণহীন, কারণ হিমোগ্লোবিন নেই”।
- “প্রায় ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসবিশিষ্ট … ট্রাকিয়া” (পৃ. 46): ট্রাকিয়ার ব্যাস মূল নলে কয়েকশো µm থেকে শাখায় কয়েক µm পর্যন্ত; 1 µm-এর চেয়ে সরু নলগুলো ট্রাকিওল (সাধারণত 0.1–1 µm)।
- অনেক বই লেখে “অ্যালারি পেশির সংকোচনে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে”। আসলে চাপ (সিস্টোল) দেয় হৃৎপিণ্ডের নিজের পেশি; অ্যালারি পেশি হৃৎপিণ্ড ঝুলিয়ে রাখে ও প্রসারণে (ডায়াস্টোল) সাহায্য করে।
ঘরে বসে পরীক্ষা
পেট পাম্প গোনো। বাগানে বা ঘাসে একটি বসে থাকা ঘাসফড়িং (বা ঘরের তেলাপোকা) খুঁজে নাও। মোবাইলের স্টপওয়াচ চালিয়ে 30 সেকেন্ডে পেট কতবার ওঠানামা করে গোনো, দুই দিয়ে গুণ করে প্রতি মিনিটের হার বের করো। প্রাণীটি নিজে থেকে একটু লাফিয়ে বা দৌড়ে আবার বসলে সঙ্গে সঙ্গে আবার গোনো। খাতায় দুটি সংখ্যা লেখো — কাজের পরে হার বাড়ল কি? রোদ আর ছায়ায় (তাপমাত্রা) হার আলাদা কি না, সেটাও তুলনা করতে পারো।
নিরাপত্তা: শুধু দেখো, ধরবে না, তাড়া করবে না — প্রাণীটিকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। আকন্দ ফড়িং (Poekilocerus) খালি হাতে ছোঁবে না, বিষাক্ত ফেনা ছিটাতে পারে। তেলাপোকা দেখার পর সাবান দিয়ে হাত ধোবে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. (জ্ঞান) হিমোসিল ও হিমোলিম্ফ কাকে বলে?
উত্তর দেখো
হিমোসিল (haemocoel): আর্থ্রোপোডের রক্তে পূর্ণ দেহগহ্বর, যেখানে অঙ্গগুলো সরাসরি রক্তে ডুবে থাকে; ঘাসফড়িং-এ দুটি ডায়াফ্রাম একে পেরিকার্ডিয়াল, পেরিভিসেরাল ও পেরিনিউরাল — এই তিন সাইনাসে ভাগ করে। হিমোলিম্ফ (haemolymph): হিমোসিলের তরল — প্লাজমা আর হিমোসাইট; রক্ত ও কলারসের কাজ একসাথে করে, কিন্তু শ্বসন রঞ্জক নেই।
২. (তুলনা) মুক্ত ও বদ্ধ সংবহনতন্ত্রের চারটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
| মুক্ত (ঘাসফড়িং) | বদ্ধ (মানুষ) |
|---|---|
| রক্ত নালি ছেড়ে হিমোসিলে যায় | রক্ত সবসময় নালিতে |
| কৈশিকনালি ও শিরা নেই | ধমনি, কৈশিকনালি, শিরা আছে |
| চাপ ও বেগ কম | চাপ ও বেগ বেশি |
| রক্ত O₂ প্রায় বয় না | রক্তের হিমোগ্লোবিন O₂ বয় |
| রক্ত অস্টিয়া দিয়ে হৃৎপিণ্ডে ফেরে | রক্ত শিরা দিয়ে হৃৎপিণ্ডে ফেরে |
৩. (বহুনির্বাচনি) ঘাসফড়িং-এর হৃৎপিণ্ডে হিমোলিম্ফ ঢোকে কোন পথে? (ক) অ্যাওর্টা (খ) অস্টিয়া (গ) শ্বাসরন্ধ্র (ঘ) ম্যালপিজিয়ান নালিকা
উত্তর দেখো
(খ) অস্টিয়া — ডায়াস্টোলে পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস থেকে একমুখী কপাটযুক্ত অস্টিয়া দিয়ে ঢোকে; অ্যাওর্টা দিয়ে বেরোয়। শ্বাসরন্ধ্র বাতাসের পথ।
৪. (অনুধাবন) একটি শ্বাসরন্ধ্রের গঠন বর্ণনা করো। ট্রাকিয়া ও ট্রাকিওলের দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
শ্বাসরন্ধ্র: বাইরে শক্ত বলয় পেরিট্রিম; ভেতরে অ্যাট্রিয়াম, যার দেয়ালে ছাঁকনি লোম ধুলো আটকায়; তারপর পেশিচালিত কপাটিকা, যা খুলে-বন্ধ করে বাতাসের দিক ও পানি হারানো নিয়ন্ত্রণ করে; ভেতরে ট্রাকিয়ার সাথে যুক্ত। পার্থক্য: (১) ট্রাকিয়া মোটা (কয়েক থেকে কয়েকশো µm), ট্রাকিওল 1 µm-এর চেয়ে সরু। (২) ট্রাকিয়ায় টিনিডিয়া থাকে ও খোলস বদলানোর সময় আস্তরণ ঝরে; ট্রাকিওল একটি প্রান্তকোষের ভেতরের নল, আগায় তরল, গ্যাস বিনিময়ের আসল জায়গা।
৫. (প্রয়োগ, গাণিতিক) বাতাসে O₂-এর বিস্তার সহগ । ধরে 2 mm ও 2 cm বিস্তারের সময় বের করো। কী সিদ্ধান্ত নেবে?
উত্তর দেখো
; । দূরত্ব 10 গুণ হলে সময় 100 গুণ। বড় দেহে শুধু বিস্তারে O₂ সময়মতো পৌঁছায় না, তাই পতঙ্গ পাম্প করে বাতাস চালায় আর আকারে ছোট থাকে।
৬. (সৃজনশীল ঘ) “ঘাসফড়িং-এর জীবনধারণে ট্রাকিয়াতন্ত্র অপরিহার্য” — বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
(১) হিমোলিম্ফে শ্বসন রঞ্জক নেই; একই আয়তনে তা বাতাসের মাত্র ~3% O₂ ধরে, হিমোগ্লোবিন-রক্তের প্রায় 1/35 ভাগ — তাই রক্ত দিয়ে O₂ সরবরাহ অসম্ভব। (২) ট্রাকিওল বাতাসকে প্রায় প্রতিটি কোষের গা পর্যন্ত নিয়ে যায়, আর বাতাসে O₂-এর বিস্তার পানির চেয়ে প্রায় 10⁴ গুণ দ্রুত। (৩) ওড়ার সময় পেশির O₂ চাহিদা বহু গুণ বাড়ে; উদর পাম্প, একমুখী প্রবাহ (সামনে 1, 2, 4 দিয়ে ঢোকা, 10 দিয়ে বেরোনো) আর বায়ুথলি সেই চাহিদা মেটায়। (৪) কপাটিকা বন্ধ রেখে পানি হারানো কমে — স্থলজীবনে জরুরি। তাই ট্রাকিয়াতন্ত্র ছাড়া ঘাসফড়িং শ্বসন চালাতে পারত না; এটি অপরিহার্য।