পাঠ ১০ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.২ (প্রজনন, রূপান্তর)
ঘাসফড়িং-এর প্রজনন ও অসম্পূর্ণ রূপান্তরGrasshopper reproduction & incomplete metamorphosis
বর্ষার পরে মাঠের পাশে কোনো গাছের ডালে হঠাৎ দেখবে একটা আস্ত ঘাসফড়িং — চোখ, পা, শুঁড় সব আছে, কিন্তু ভেতরটা ফাঁপা, হালকা, পিঠ বরাবর ফাটা। কে রেখে গেল এটা, আর কেন? অনুমান করো, তারপর সময় টেনে দেখো:
উত্তর: একটি নিম্ফ (nymph) — ঘাসফড়িং-এর বাচ্চা — বড় হওয়ার জন্য তার পুরনো খোলস ফেলে গেছে। এই পাঠে ঘাসফড়িং-এর পুরো জীবনের গল্প — জন্ম কোথা থেকে, আর বাচ্চা কীভাবে ধাপে ধাপে বড় হয়:
- একলিঙ্গ প্রাণী (dioecious) ও লিঙ্গভেদ (sexual dimorphism)
- পুং জননতন্ত্র (male reproductive system)
- স্ত্রী জননতন্ত্র (female reproductive system)
- মিলন (copulation), নিষেক (fertilisation) ও মাটিতে ডিমের থলি (egg pod)
- ডায়াপজ (diapause) — ডিমের সুপ্ত দশা
- রূপান্তরের তিন ধরন (types of metamorphosis)
- খোলস বদল (moulting) ও তার হরমোন
- নিম্ফ বনাম পূর্ণাঙ্গ (nymph vs adult) ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
ধাপ ১: নারী-পুরুষ আলাদা
ঘাসফড়িং একলিঙ্গ (dioecious / unisexual) — একটি প্রাণী হয় পুরুষ, নয় স্ত্রী (হাইড্রার মতো একই দেহে দুই জননাঙ্গ নয়)। আর বাইরে থেকেই দুজনকে আলাদা করা যায় — একে বলে লিঙ্গভেদ (sexual dimorphism):
| বৈশিষ্ট্য | স্ত্রী (female) | পুরুষ (male) |
|---|---|---|
| আকার | সাধারণত বড় | সাধারণত ছোট |
| উদরের আগা | সূঁচালো, শক্ত কপাটিকাওয়ালা ডিম্বাধার (ovipositor) | ভোঁতা, উপরে বাঁকা নৌকার মতো সাবজেনিটাল প্লেট (subgenital plate) |
| সারকি (cerci) | আছে | আছে — তাই সারকি দিয়ে লিঙ্গ চেনা যায় না |
একটি ঘাসফড়িং স্ত্রী না পুরুষ, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে কী দেখে বলবে?
ধাপ ২: পুং জননতন্ত্র — শুক্রাণুর পথ
পুরুষের উদরের ভেতরে, পৌষ্টিকনালির উপরে:
- শুক্রাশয় (testes) — এক জোড়া, অনেক ঘাসফড়িং-এ মাঝখানে জুড়ে একটি দেহের মতো দেখায়। প্রতিটি অনেকগুলো সরু ফলিকল (follicles) নিয়ে গঠিত, যেখানে শুক্রাণু (sperm) তৈরি হয়।
- শুক্রনালি (vas deferens) — প্রতিটি শুক্রাশয় থেকে একটি, পেছনে গিয়ে মাঝখানে মেলে।
- শুক্রথলি (seminal vesicle) — শুক্রনালির শেষের ফোলা অংশ, শুক্রাণু জমা রাখে।
- আনুষঙ্গিক গ্রন্থি (accessory glands) — নলাকার গ্রন্থির গুচ্ছ; শুক্রাণুর মোড়ক স্পার্মাটোফোর (spermatophore) বানায়।
- ক্ষেপণনালি (ejaculatory duct) → এডিয়াগাস (aedeagus) — মিলনাঙ্গ, সাবজেনিটাল প্লেটের নিচে লুকানো।
ছবির প্রতিটি অঙ্গে ট্যাপ করো (মাথা বাঁ দিকে, উপর থেকে দেখা, পৌষ্টিকনালি সরিয়ে):
শুক্রাণু শুক্রাশয় থেকে বাইরে যাওয়ার সঠিক ক্রম কোনটি?
ধাপ ৩: স্ত্রী জননতন্ত্র — ডিমের পথ
- ডিম্বাশয় (ovaries) — এক জোড়া, পৌষ্টিকনালির উপরে। প্রতিটি অনেকগুলো ডিম্বনালিকা (ovarioles) দিয়ে তৈরি। প্রতিটি ডিম্বনালিকায় ডিম একটার পর একটা সারিতে বড় হয় — গোড়ার দিকের (ডিম্বনালির কাছের) ডিমটি সবচেয়ে বড় ও পরিণত।
- পার্শ্ব ডিম্বনালি (lateral oviducts) — প্রতিটি ডিম্বাশয় থেকে একটি; দুটি পেছনে মিলে সাধারণ ডিম্বনালি (common oviduct)।
- যোনি / জনন প্রকোষ্ঠ (vagina / genital chamber) — ডিম এখান দিয়ে বেরোয়; মিলনে স্পার্মাটোফোরও এখানে আসে।
- শুক্রাধার (spermatheca) — প্যাঁচানো নালিসহ ছোট থলি; মিলনে পাওয়া শুক্রাণু অনেক দিন জমা রাখে।
- আনুষঙ্গিক গ্রন্থি (accessory glands) — ডিম পাড়ার সময় ফেনার মতো আঠালো রস দেয়।
- ডিম্বাধার (ovipositor) — উদরের আগায় শক্ত, বাঁকা কপাটিকা (দুই জোড়া বড়, এক জোড়া ছোট); মাটি খোঁড়ার যন্ত্র।
মিলনের কয়েক দিন পরে ডিম পাড়লেও ডিম নিষিক্ত হয় কীভাবে?
ধাপ ৪: মিলন, নিষেক আর মাটির নিচে ডিমের থলি
মিলন (copulation): পুরুষ স্ত্রীর পিঠে চড়ে নিজের উদরের আগা বাঁকিয়ে স্ত্রীর উদরের আগার নিচে আনে। শুক্রাণু সরাসরি তরলে নয়, একটি মোড়কে — স্পার্মাটোফোর — স্ত্রীর জনন প্রকোষ্ঠে দেওয়া হয়। মিলন কয়েক ঘণ্টা চলতে পারে। শুক্রাণু শুক্রাধারে জমা হয়; ডিম পাড়ার সময় নিষেক (fertilisation) হয় — শরীরের ভেতরে, তাই অন্তঃনিষেক (internal fertilisation)।
ডিম পাড়া (oviposition): স্ত্রী মাটিতে গর্ত খুঁড়ে একসাথে অনেকগুলো ডিম পাড়ে আর ফেনায় মুড়ে দেয়। প্রজাতিভেদে একটি থলিতে প্রায় 20 থেকে 100-এর বেশি ডিম (মরু পঙ্গপালের দলবদ্ধ স্ত্রী প্রায় 60–80টি, FAO); একটি স্ত্রী কয়েকটি থলি পাড়ে। ধাপে ধাপে দেখো:
ডিমের থলির উপরের ফেনার ছিপির (froth plug) কাজ কী?
ধাপ ৫: ডায়াপজ — ডিমের ভেতরে অপেক্ষা
অনেক ঘাসফড়িং-এর ডিম পাড়ার পরেই ফোটে না। ভ্রূণ (embryo) কিছুটা বেড়ে থেমে যায়, আর শুকনো বা শীতের মৌসুম পার করে, তারপর বর্ষায় বা বসন্তে আবার বাড়ে। একে বলে ডায়াপজ (diapause) — ভ্রূণের আগে থেকে নির্ধারিত (programmed) বৃদ্ধি-বিরতি। শুধু ঠান্ডায় ধীর হয়ে যাওয়া নয়: খারাপ মৌসুম আসার আগেই দিনের দৈর্ঘ্য বা তাপমাত্রার সংকেত পেয়ে ভ্রূণ থামে, আর মাঝে ভালো আবহাওয়া এলেও সহজে ছাড়ে না। ফলে নিম্ফরা ঠিক এমন সময় ফোটে যখন কচি ঘাস প্রচুর।
- নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘাসফড়িং ও পঙ্গপালে (যেমন Locusta migratoria-র কিছু জনগোষ্ঠী) ডিমের ডায়াপজ আছে।
- মরু পঙ্গপাল (Schistocerca gregaria)-এর ডায়াপজ নেই — ভেজা মাটি পেলেই ডিম বাড়ে, তাই বৃষ্টির পরে হঠাৎ বিস্ফোরণ।
ডায়াপজ আর সাধারণ ‘ঠান্ডায় ধীর হওয়া’-র মূল পার্থক্য কী?
ধাপ ৬: রূপান্তর — তিন রকম
ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পথে চেহারার বদলকে বলে রূপান্তর (metamorphosis)। পতঙ্গে তিন রকম:
| ধরন | জীবনচক্র | বাচ্চা দেখতে | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| অ-রূপান্তর (ametabolous) | ডিম → বাচ্চা → পূর্ণাঙ্গ | ছোট্ট পূর্ণাঙ্গের মতো, ডানা কখনো হয় না | সিলভারফিশ |
| অসম্পূর্ণ (incomplete / hemimetabolous) | ডিম → নিম্ফ → পূর্ণাঙ্গ | পূর্ণাঙ্গের মতো, কিন্তু ছোট, ডানার বদলে ডানার প্যাড (wing pads) | ঘাসফড়িং, তেলাপোকা, ফড়িং |
| সম্পূর্ণ (complete / holometabolous) | ডিম → লার্ভা → পিউপা → পূর্ণাঙ্গ | একদম আলাদা (শুঁয়োপোকা, মশার লার্ভা) | প্রজাপতি, মশা, মৌমাছি, গুবরে পোকা |
ঘাসফড়িং-এ নিম্ফ আর পূর্ণাঙ্গ একই জায়গায় থাকে, একই ঘাস খায় — এই ধরনটিকে আলাদা করে পরোমেটাবোলাস (paurometabolous) বলা হয়। ফড়িং (dragonfly)-এর বাচ্চা পানিতে থাকে, তাকে নায়াড (naiad) বলে — সেটিও অসম্পূর্ণ রূপান্তর। পিউপা দশা নেই বলেই একে “অসম্পূর্ণ” বলা হয়।
ঘাসফড়িং-এর রূপান্তরকে ‘অসম্পূর্ণ’ বলা হয় কেন?
ধাপ ৭: খোলস বদল — কে বলে কখন, কে বলে কী হবে
ঘাসফড়িং-এর দেহ শক্ত কিউটিকল (cuticle)-এ মোড়া — বহিঃকঙ্কাল (exoskeleton)। কিউটিকল টানলে বাড়ে না, তাই বড় হতে হলে মাঝে মাঝে পুরনোটা ফেলে দিতে হয়: খোলস বদল (moulting)। ধাপগুলো:
- পুরনো কিউটিকল ত্বক (epidermis) থেকে আলগা হয়; নিচে নতুন, ভাঁজ করা নরম কিউটিকল তৈরি হয়।
- একডাইসিস (ecdysis) — বাতাস গিলে আর হিমোলিম্ফের চাপে দেহ ফোলে; পুরনো খোলস মাথা ও বক্ষের পিঠ বরাবর ফাটে, প্রাণী বেরিয়ে আসে। পড়ে থাকা খোলস: এক্সুভিয়া (exuvia)। ট্রাকিয়া, অগ্র- ও পশ্চাৎ-পৌষ্টিকনালির আস্তরণও এর সাথে বেরোয়।
- নতুন কিউটিকল ফুলে বড় হয়, তারপর কয়েক ঘণ্টায় শক্ত ও রঙিন হয় (sclerotisation)।
দুটি খোলস বদলের মাঝের দশাকে বলে ইনস্টার (instar) বা নিম্ফ দশা। ঘাসফড়িং-এ সাধারণত 5টি নিম্ফ দশা (প্রজাতি, লিঙ্গ ও পরিবেশভেদে 4–6)। মানে ডিম ফোটার পর 5 বার খোলস বদল — 4 বার নিম্ফ থেকে নিম্ফ, শেষ বার নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গ। পূর্ণাঙ্গ আর খোলস বদলায় না।
হরমোন দুটি প্রশ্নের উত্তর দেয়:
- কখন? — মস্তিষ্কের নিউরোসিক্রেটরি কোষ PTTH (prothoracicotropic hormone) ছাড়ে → বক্ষের প্রোথোরাসিক গ্রন্থি (prothoracic gland) একডাইসোন (ecdysone) ছাড়ে (দেহে সক্রিয় রূপ 20-হাইড্রক্সিএকডাইসোন) → খোলস বদল শুরু।
- কী হবে? — মাথার পেছনের কর্পোরা অ্যালাটা (corpora allata) ছাড়ে জুভেনাইল হরমোন (juvenile hormone, JH)। JH বেশি থাকলে খোলস বদলে আবার নিম্ফ; শেষ দশায় JH কমে গেলে খোলস বদলে পূর্ণাঙ্গ।
সংক্ষেপে: একডাইসোন খোলস বদল ঘটায়, JH রূপান্তর ঠেকিয়ে রাখে। নিজে চালিয়ে দেখো:
আকার কীভাবে বাড়ে? প্রতি খোলস বদলে শক্ত অংশের মাপ (যেমন মাথার চওড়া) প্রায় একই গুণে বাড়ে — Dyar-এর নিয়ম (Dyar’s rule):
ধরা যাক আর প্রথম দশার দৈর্ঘ্য 12 mm (উদাহরণ)। তাহলে পঞ্চম দশা mm, পূর্ণাঙ্গ mm। কিন্তু ডানার প্যাড দেহের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়ে, আর শেষের দুই দশায় প্যাড উল্টে পিঠের উপর উঠে যায় — পেছনের ডানার প্যাড সামনেরটাকে ঢেকে রাখে। শেষ খোলস বদলে ডানা স্বাভাবিক অবস্থানে আসে।
একটি নিম্ফের কর্পোরা অ্যালাটা কেটে বাদ দিলে পরের খোলস বদলে কী হবে?
ধাপ ৮: নিম্ফ বনাম পূর্ণাঙ্গ, আর ঘাসফড়িং আমাদের কী করে
| বৈশিষ্ট্য | নিম্ফ (nymph) | পূর্ণাঙ্গ (adult / imago) |
|---|---|---|
| আকার | ছোট, প্রতি দশায় বাড়ে | সবচেয়ে বড়, আর বাড়ে না |
| ডানা | শুধু ডানার প্যাড — উড়তে পারে না | পূর্ণ দুই জোড়া ডানা, ওড়ে |
| জননাঙ্গ | অপরিণত | পরিণত — প্রজনন করে |
| খোলস বদল | হয় | হয় না |
| খাদ্য ও বাসস্থান | পূর্ণাঙ্গের মতোই (ঘাস, পাতা) | একই |
| মাথা দেহের তুলনায় | বড় দেখায় | তুলনায় ছোট |
অর্থনৈতিক গুরুত্ব (economic importance)
- ক্ষতি: ধানের ঘাসফড়িং (Oxya, Hieroglyphus) ধান ও অন্য ফসলের পাতা খায়। সবচেয়ে ভয়ংকর পঙ্গপাল (locust) — মরু পঙ্গপাল (Schistocerca gregaria) আর পরিযায়ী পঙ্গপাল (Locusta migratoria)। ভিড়ে থাকলে এরা একা-চলা রূপ বদলে দলবদ্ধ (gregarious) রূপ নেয়, কোটি কোটি পতঙ্গের ঝাঁক (swarm) তৈরি করে। FAO-র হিসাবে একটি পূর্ণাঙ্গ মরু পঙ্গপাল দিনে প্রায় নিজের ওজনের (≈ 2 g) সমান তাজা খাবার খায়, আর এক বর্গকিলোমিটারের ঝাঁকে 4–8 কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে — এমন ঝাঁক একদিনে প্রায় 35,000 মানুষের খাবারের সমান খায়। 2019–2021 সালে পূর্ব আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত এমন প্রাদুর্ভাব হয়েছিল।
- উপকার: খাদ্যশৃঙ্খলে (food chain) পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকি, মাকড়সার প্রধান খাবার; ঘাস খেয়ে পুষ্টি মাটিতে ফেরায়; অনেক দেশে মানুষের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (শুকনো ওজনের অর্ধেকের বেশি প্রোটিন); গবেষণাগারে স্নায়ু ও হরমোন গবেষণার মডেল প্রাণী।
পঙ্গপালের প্রাদুর্ভাব দমনে নিম্ফ দশায় (হপার ব্যান্ড) আঘাত করা কেন সুবিধাজনক?
এবার নিজে করে দেখো
▶ চালাও চাপো বা সময়ের স্লাইডার টেনে ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ পর্যন্ত যাও। নিচের mm স্কেলে দেহ আর ডানার প্যাড মাপো; প্রতিটি নতুন দশা খাতায় নিজে থেকে লেখা হবে — পরপর দুই দশার দৈর্ঘ্যের অনুপাত বের করে Dyar-এর গুণক যাচাই করো। তাপমাত্রা বদলাও, ডায়াপজ চালু করো, JH সবসময় বেশি রেখে দেখো কী হয়। সময়ের হিসাব ও মাপ উদাহরণমাত্র (illustrative) — ধরন সত্যি, মান কোনো এক প্রজাতির মাপা নয়।
ঘাসফড়িং-এর জীবনচক্র
Grasshopper life cycle — illustrative modelডানার প্যাড কখন উল্টায়? (wing-pad flip)
রূপান্তর সাজাও (sort by metamorphosis)
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
সময় চালালে প্রতিটি নতুন দশা এখানে নিজে থেকেই লেখা হবে।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/5- ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হতে 40 দিনের কম লাগুক — তাপমাত্রা বদলে চালিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যন্ত যাও।
- ডিমকে সুপ্ত দশায় (diapause) পাঠাও আর সেই দশাটা চালিয়ে দেখো।
- সময় টেনে প্রতিটি নিম্ফ দশা দেখো: কোন দশায় ডানার প্যাড প্রথম উল্টে পিঠের উপর ওঠে? নিচের কার্ডে উত্তর দাও।
- এমন “দৈত্য নিম্ফ” বানাও যা কখনো পূর্ণাঙ্গ হয় না — নিম্ফ দশা 7 পর্যন্ত চালাও।
- নিচের ৮টি পতঙ্গকে তিন রকম রূপান্তরে সাজাও।
বই পড়ার সময় সাবধান — এই অংশে মনে রাখার মতো কয়েকটি সূক্ষ্ম জায়গা:
- নিম্ফ দশার সংখ্যা: বইয়ের ছবিতে 5টি নিম্ফ — এটা সাধারণত ঠিক, কিন্তু নির্দিষ্ট নয়; প্রজাতি, লিঙ্গ ও পরিবেশভেদে 4–6 (একা-চলা মরু পঙ্গপালে কখনো 6)। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: 5টি নিম্ফ দশা।
- “৫ বার খোলস বদল” আর “৫টি নিম্ফ দশা” একই কথা: ডিম ফোটার পর 5 বার খোলস বদল — শেষটি নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গ। “৬ বার” বা “৪ বার” লিখে ফেলো না।
- অনেক নোটে লেখা “জুভেনাইল হরমোন রূপান্তর ঘটায়” — উল্টো। খোলস বদল ঘটায় একডাইসোন; JH রূপান্তর ঠেকিয়ে নিম্ফ রাখে।
- “নিম্ফের ডানা থাকে না” — পুরোপুরি ঠিক নয়: ডানার প্যাড থাকে, প্রতি দশায় বাড়ে, শুধু উড়তে পারে না।
- ফড়িং (dragonfly) আর ঘাসফড়িং (grasshopper) আলাদা বর্গের পতঙ্গ; দুজনেরই অসম্পূর্ণ রূপান্তর, তবে ফড়িং-এর বাচ্চা পানিতে থাকে (নায়াড)।
ঘরে বসে পরীক্ষা
খোলস শিকার। বর্ষায় (জুন–সেপ্টেম্বর) বাড়ির আশেপাশের ঝোপ, ঘাসের ডগা, গাছের গুঁড়ি বা দেয়ালে খুঁজে দেখো — ঘাসফড়িং বা ঝিঁঝিঁপোকা/সিকাডা (cicada)-র ফেলে যাওয়া খোলস (exuvia) পাবে। একটি সাদা কাগজে রেখে দেখো: (১) পিঠের কোথায় ফাটল; (২) ভেতরে সাদা সুতোর মতো কিছু আছে কি না (ওগুলো ট্রাকিয়ার পুরনো আস্তরণ); (৩) স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপো। কয়েকটি খোলস পেলে আকার অনুযায়ী সাজাও — দৈর্ঘ্যগুলো কি মোটামুটি একই অনুপাতে লাফিয়ে বাড়ে? ডানার প্যাড চোখে পড়ে কি? খাতায় ছবি এঁকে রাখো।
নিরাপত্তা: শুধু খালি খোলস তুলবে, জীবিত পতঙ্গ ধরবে না বা কষ্ট দেবে না। খোলস মুখে দেবে না, খাবে না। আকন্দ ফড়িং (Poekilocerus) খালি হাতে ছোঁবে না — বিষাক্ত ফেনা ছিটাতে পারে। কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোবে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. (জ্ঞান) ইনস্টার (instar) ও ডায়াপজ (diapause) কাকে বলে?
উত্তর দেখো
ইনস্টার: পতঙ্গের দুটি পরপর খোলস বদলের মাঝের দশা; ঘাসফড়িং-এ ডিম ফোটা থেকে প্রথম খোলস বদল পর্যন্ত প্রথম ইনস্টার। সাধারণত 5টি নিম্ফ ইনস্টার। ডায়াপজ: প্রতিকূল মৌসুম পার করার জন্য হরমোন-নিয়ন্ত্রিত, আগে থেকে নির্ধারিত বৃদ্ধি-বিরতি; ঘাসফড়িং-এ সাধারণত ডিমের ভ্রূণ দশায় (embryonic diapause)।
২. (তুলনা) অসম্পূর্ণ ও সম্পূর্ণ রূপান্তরের চারটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
| অসম্পূর্ণ (ঘাসফড়িং) | সম্পূর্ণ (প্রজাপতি) |
|---|---|
| ডিম → নিম্ফ → পূর্ণাঙ্গ (3 দশা) | ডিম → লার্ভা → পিউপা → পূর্ণাঙ্গ (4 দশা) |
| পিউপা নেই | পিউপা আছে |
| বাচ্চা (নিম্ফ) দেখতে পূর্ণাঙ্গের মতো | বাচ্চা (লার্ভা) সম্পূর্ণ আলাদা |
| ডানা বাইরে প্যাড হিসেবে ধীরে বাড়ে | ডানা ভেতরে লুকিয়ে বাড়ে, পিউপায় গড়ে ওঠে |
| নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গের খাদ্য-বাসস্থান সাধারণত একই | লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গের খাদ্য-বাসস্থান প্রায়ই আলাদা |
৩. (বহুনির্বাচনি) ঘাসফড়িং-এর খোলস বদল শুরু করে কোন হরমোন, আর তা কোথা থেকে আসে? (ক) জুভেনাইল হরমোন — কর্পোরা অ্যালাটা (খ) একডাইসোন — প্রোথোরাসিক গ্রন্থি (গ) একডাইসোন — কর্পোরা অ্যালাটা (ঘ) থাইরক্সিন — থাইরয়েড
উত্তর দেখো
(খ) — মস্তিষ্কের PTTH-এর সংকেতে প্রোথোরাসিক গ্রন্থি একডাইসোন ছাড়ে, তাতেই খোলস বদল শুরু। JH (কর্পোরা অ্যালাটা) ঠিক করে খোলস বদলের পর নিম্ফ হবে না পূর্ণাঙ্গ।
৪. (প্রয়োগ, গাণিতিক) একটি ঘাসফড়িং-এর প্রথম নিম্ফ দশায় মাথার চওড়া 1.0 mm; Dyar-এর গুণক 1.3। পঞ্চম দশায় মাথার চওড়া কত? একটি খোলসের মাথা 2.2 mm হলে সেটি কোন দশার?
উত্তর দেখো
mm। থেকে — অর্থাৎ চতুর্থ দশা ( mm)।
৫. (অনুধাবন) একই প্রজাতির ঘাসফড়িং-এর ডিম 30 °C-এ 35 °C-এর চেয়ে দেরিতে ফোটে কেন? ডিগ্রি-দিন মডেলে ডিমের দরকার 220 °C·day, ভিত্তি তাপমাত্রা 15 °C হলে দুই তাপমাত্রায় সময় বের করো।
উত্তর দেখো
পতঙ্গ শীতল রক্তের (ectotherm) — দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার পরিবেশের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। ভিত্তির উপরের প্রতিটি ডিগ্রি প্রতিদিন কিছুটা বৃদ্ধি দেয়:
(এটি সরল মডেল; খুব বেশি তাপে বৃদ্ধি আর বাড়ে না, বরং ক্ষতি হয়।)
৬. (সৃজনশীল ঘ) “ঘাসফড়িং কৃষির শত্রু, আবার প্রকৃতির বন্ধু” — জীবনচক্রের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
শত্রু: (১) নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ দুই দশাই একই ফসলের পাতা খায় (অসম্পূর্ণ রূপান্তর), তাই পুরো জীবন জুড়ে ক্ষতি। (২) একটি স্ত্রী কয়েকটি থলিতে শত শত ডিম পাড়ে; গরম ও ভেজা মাটিতে অল্প দিনে ফোটে, প্রজন্ম দ্রুত বাড়ে। (৩) পঙ্গপাল দলবদ্ধ হয়ে ঝাঁক বানায়; একেকটি দিনে নিজের ওজনের সমান খায়, ঝাঁক শত কিলোমিটার উড়ে ফসল ধ্বংস করে (2019–2021 প্রাদুর্ভাব)। বন্ধু: (১) খাদ্যশৃঙ্খলে পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকির প্রধান খাবার; (২) ঘাস খেয়ে ও মল দিয়ে পুষ্টি মাটিতে ফেরায়; (৩) উচ্চ প্রোটিনের খাদ্য; (৪) হরমোন-গবেষণার মডেল। জীবনচক্র দিয়ে নিয়ন্ত্রণ: ডিমের থলি চাষ দিয়ে উল্টে রোদে শুকানো, ডানাহীন নিম্ফ (হপার) দশায় দমন — ঝাঁক তৈরির আগেই। তাই সিদ্ধান্ত: সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঘাসফড়িং বাস্তুতন্ত্রের দরকারি সদস্য; প্রাদুর্ভাব হলে ভয়ংকর শত্রু।