পাঠ ৫ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.১ (শ্রমবণ্টন, মিথোজীবিতা, ব্যবহারিক)
মিথোজীবিতা, শ্রমবণ্টন ও হাইড্রা পর্যবেক্ষণ (ব্যবহারিক)Symbiosis, division of labour & Hydra slide practical
দুটো সবুজ হাইড্রাকে এক সপ্তাহের বেশি কিছু খেতে দেওয়া হলো না। একটা রইল আলোয়, অন্যটা অন্ধকার বাক্সে। কোনটা বেশি দিন টিকবে? আগে অনুমান করো, তারপর দিন বাড়িয়ে দেখো।
আকারের হার আনুমানিক (illustrative)। আসল পরীক্ষায় (Muscatine ও Lenhoff 1965) আলোয় রাখা সবুজ হাইড্রার ওজন অন্ধকারের চেয়ে ধীরে কমেছিল; সংখ্যাগুলো এখানে শুধু প্রবণতা দেখায়।
আলো কেন একটা প্রাণীর খিদে কমায়? উত্তর লুকিয়ে আছে হাইড্রার কোষের ভেতরে থাকা এক সবুজ অতিথির মধ্যে। এই পাঠে আমরা যা দেখব:
- শ্রমবণ্টন (division of labour): কোন কোষ কোন কাজ করে
- মিথোজীবিতা (mutualism) বনাম পরজীবিতা (parasitism)
- সবুজ হাইড্রা (Hydra viridissima) আর শৈবাল ক্লোরেলা (Chlorella): কে কাকে কী দেয়
- হাইড্রা কেন নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বের প্রাণী
- যৌগিক অণুবীক্ষণ (compound microscope) ব্যবহারের নিয়ম
- ব্যবহারিক: স্থায়ী স্লাইড (permanent slide) শনাক্ত করা, ছবি আঁকা আর লেবেল দেওয়া
ধাপ ১: শ্রমবণ্টন: প্রত্যেক কোষের নিজের কাজ
একটা অ্যামিবা একাই সব করে: খায়, নড়ে, বিপদ টের পায়, বিভাজিত হয়। বহুকোষী প্রাণীতে কাজগুলো ভাগ হয়ে যায়: একেক ধরনের কোষ একেকটা কাজে বিশেষজ্ঞ হয়। একে বলে শ্রমবণ্টন (division of labour)। এর লাভ: প্রতিটা কাজ আরও দক্ষভাবে হয়। এর দাম: কোনো কোষ আর একা বাঁচতে পারে না, সবাই সবার ওপর নির্ভরশীল।
পাঠ ১-এ দেখা হাইড্রার দেহপ্রাচীর আবার দেখো। প্রতিটা কোষে ট্যাপ করে তার কাজ জেনে নাও।
| কাজ | কোন কোষ | কোন স্তরে |
|---|---|---|
| আবরণ ও দেহ খাটো করা | পেশি-আবরণী কোষ (musculo-epithelial cell) | বহিঃত্বক |
| শিকার ধরা ও আত্মরক্ষা | নিডোসাইট (cnidocyte) | বহিঃত্বক (কর্ষিকায় ঘন) |
| পরিপাক ও দেহ সরু করা | পুষ্টি-পেশি কোষ (nutritive-muscular cell) | অন্তঃত্বক |
| এনজাইম ও শ্লেষ্মা ক্ষরণ | গ্রন্থিকোষ (gland cell) | অন্তঃত্বক (পাদচাকতিতে বহিঃত্বকে আঠালো গ্রন্থি) |
| উদ্দীপনা গ্রহণ ও সংকেত পরিবহন | সংবেদী কোষ ও স্নায়ুকোষ (sensory and nerve cell) | দুই স্তরেই |
| নতুন কোষ তৈরি | ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (interstitial cell) | মূলত বহিঃত্বক |
| জনন | জনন কোষ (germ cell) | বহিঃত্বক (জননাঙ্গে) |
হাইড্রায় শ্রমবণ্টন কোষ-স্তরের (cellular level): একই ধরনের কোষ মিলে টিস্যু (tissue) গড়ে, কিন্তু আলাদা অঙ্গ (organ) নেই। ওবেলিয়া (Obelia) বা পর্তুগিজ ম্যান-অফ-ওয়ারের (Physalia) মতো কলোনি-গড়া নিডারিয়ায় শ্রমবণ্টন আরও এক ধাপ ওপরে: পুরো একেকটা সদস্য (zooid) একেক কাজ করে। খাদ্যগ্রহণের জন্য পুষ্টিজুয়িড (gastrozooid), জননের জন্য জননজুয়িড (gonozooid)। একে বহুরূপতা (polymorphism) বলে।
হাইড্রার শ্রমবণ্টন কোন স্তরের?
ধাপ ২: মিথোজীবিতা বনাম পরজীবিতা
দুটো ভিন্ন প্রজাতির জীব যখন দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে থাকে, তাকে বলে সিমবায়োসিস (symbiosis)। কে লাভবান (+), কে ক্ষতিগ্রস্ত (−), আর কার কিছু যায়-আসে না (0), তা দিয়ে এর ধরন ঠিক হয়:
| ধরন | জীব ১ | জীব ২ | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| মিথোজীবিতা (mutualism) | + | + | সবুজ হাইড্রা ও ক্লোরেলা; লাইকেন (ছত্রাক + শৈবাল); শিমের মূলে রাইজোবিয়াম (Rhizobium) |
| পরজীবিতা (parasitism) | + (পরজীবী) | − (পোষক) | মানুষের অন্ত্রে ফিতাকৃমি; লোহিত কণিকায় ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium) |
| সহভোজিতা (commensalism) | + | 0 | হাঙরের গায়ে লেগে থাকা রেমোরা মাছ |
পরজীবিতা আর মিথোজীবিতার মূল পার্থক্য:
| বিষয় | মিথোজীবিতা | পরজীবিতা |
|---|---|---|
| লাভ | দুজনেরই | শুধু পরজীবীর |
| পোষকের ওপর প্রভাব | উপকার | ক্ষতি, রোগ, কখনো মৃত্যু |
| সম্পর্ক | পারস্পরিক সহযোগিতা | একতরফা শোষণ |
| উদাহরণ | হাইড্রা ও ক্লোরেলা | মানুষ ও ফিতাকৃমি |
লাইকেনে ছত্রাক পানি ও আশ্রয় দেয়, শৈবাল খাবার বানায়। এটা কোন সম্পর্ক?
ধাপ ৩: সবুজ হাইড্রা আর ক্লোরেলা
বাংলাদেশের পুকুরে পাওয়া সবুজ হাইড্রা (Hydra viridissima, green hydra) নিজে সবুজ নয়। এর অন্তঃত্বকের পুষ্টি কোষে (gastrodermal digestive cell) বাস করে হাজার হাজার এককোষী সবুজ শৈবাল ক্লোরেলা (Chlorella sp.)। পাঠ্যবই এদের পুরোনো নাম Zoochlorella লিখেছে; বোর্ড দুটো নামই গ্রহণ করে।
- কোথায় থাকে: প্রতিটি পুষ্টি কোষে প্রায় 15–20টি শৈবাল, কোষের গোড়ার দিকে, প্রত্যেকটা নিজের আলাদা গহ্বরে (vacuole) (Muscatine ও Lenhoff 1965)। এই গহ্বরে লাইসোসোম মেশে না, তাই হাইড্রা শৈবালকে হজম করে ফেলে না।
- শৈবাল পায়: থাকার নিরাপদ জায়গা (আশ্রয়), হাইড্রার শ্বসনের CO₂, আর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (nitrogenous waste)। হাইড্রার বর্জ্য অ্যামোনিয়া (NH₄⁺); হাইড্রা সেটা দিয়ে গ্লুটামিন (glutamine) বানিয়ে শৈবালকে দেয় (Hamada ও সহকর্মী 2018)। শৈবাল এটা দিয়ে নিজের প্রোটিন বানায়।
- হাইড্রা পায়: সালোকসংশ্লেষণে তৈরি শর্করা, প্রধানত মল্টোজ (maltose) (Muscatine 1965), আর O₂। তাই খাবার না পেলেও আলোয় রাখা সবুজ হাইড্রা অন্ধকারেরটার চেয়ে ধীরে শুকায়: হুকের পরীক্ষাটা এটাই দেখায়।
- পরের প্রজন্মে যায় কীভাবে: মুকুল তৈরির সময় শৈবালসহ অন্তঃত্বক মুকুলে ঢোকে, আর যৌন জননে শৈবাল ডিম্বাণুর ভেতরে চলে যায়। মা থেকে সরাসরি সন্তানে যাওয়াকে বলে উল্লম্ব স্থানান্তর (vertical transmission)। তাই সবুজ হাইড্রার বাচ্চা জন্ম থেকেই সবুজ।
নিচের ছবিতে কোন পদার্থ কোন দিকে যায় নিজে পাঠাও। ভুল দিকে পাঠালে ফিরে আসবে।
হলুদ তীর: হাইড্রা → শৈবাল। নীল তীর: শৈবাল → হাইড্রা। ছবিটা একটা কোষ আর একটা শৈবাল দেখায়; আসলে প্রতিটি কোষে প্রায় 15–20টি শৈবাল থাকে।
সম্পর্কটা কতটা অপরিহার্য? ক্লোরেলার এই জাত হাইড্রার বাইরে বাঁচতে পারে না; প্রয়োজনীয় কিছু জিনই হারিয়ে ফেলেছে (Kawaida 2013; Hamada 2018)। কিন্তু হাইড্রা শৈবাল ছাড়াও বাঁচে: গবেষণাগারে অন্ধকারে রেখে বা সালোকসংশ্লেষণ-রোধী রাসায়নিক (DCMU) দিয়ে শৈবালমুক্ত সাদা সবুজ-হাইড্রা (aposymbiotic hydra) বানানো যায়, আর নিয়মিত খেতে দিলে সেটা দিব্যি বেঁচে থাকে (Pardy 1976; Habetha 2003)। তবে তার বৃদ্ধি আর মুকুল তৈরি কমে যায়।
সবুজ হাইড্রা তার শৈবালের কাছ থেকে প্রধানত কোন খাদ্য পায়?
ধাপ ৪: হাইড্রা কেন নিডারিয়া পর্বের প্রাণী
হাইড্রার শ্রেণিবিন্যাস: জগৎ Animalia → পর্ব Cnidaria → শ্রেণি Hydrozoa → গণ Hydra। একে নিডারিয়া পর্বে রাখার পাঁচটি কারণ:
- নিডোসাইট (cnidocyte): হুল ফোটানো কোষ শুধু এই পর্বেই আছে। পর্বের নামও এখান থেকে (গ্রিক knide = বিছুটি)।
- দ্বিস্তরী (diploblastic): বহিঃত্বক আর অন্তঃত্বক, মাঝে কোষহীন মেসোগ্লিয়া (mesoglea)।
- অরীয় প্রতিসাম্য (radial symmetry): মুখের চারপাশে কর্ষিকা চাকার স্পোকের মতো সাজানো।
- একমুখী পরিপাক-সংবহন গহ্বর (gastrovascular cavity): সিলেন্টেরন; মুখই খাবার ঢোকা ও অপাচ্য অংশ বের হওয়ার একমাত্র পথ, পায়ু নেই।
- স্নায়ুজাল (nerve net) আর টিস্যু-স্তরের গঠন: মস্তিষ্ক নেই, সত্যিকারের অঙ্গ নেই।
নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি শুধু নিডারিয়া পর্বেই পাওয়া যায়?
ধাপ ৫: অণুবীক্ষণ ব্যবহারের নিয়ম
ব্যবহারিক পরীক্ষায় তুমি যৌগিক অণুবীক্ষণ (compound microscope) দিয়ে স্থায়ী স্লাইড দেখবে। এতে দুটো লেন্স: চোখের কাছে অভিনেত্র (eyepiece), আর স্লাইডের কাছে অবজেক্টিভ (objective)। মোট বিবর্ধন দুটোর গুণফল:
বিবর্ধন যত বাড়ে, স্লাইডের তত ছোট অংশ দেখা যায়। ×10 অভিনেত্রের দৃষ্টিক্ষেত্রের সংখ্যা (field number) সাধারণত 18 mm, তাই ×40 অবজেক্টিভে দৃষ্টিক্ষেত্রের ব্যাস (field of view):
ফোকাসের গভীরতাও (depth of field) বিবর্ধন বাড়লে কমে: ×10-এ প্রায় 9 µm, ×40-এ প্রায় 1.3 µm। এ থেকেই নিয়মগুলো আসে:
- সবসময় কম বিবর্ধনে (low power) শুরু করো, জিনিসটা দৃষ্টিক্ষেত্রের মাঝখানে আনো, তারপর বেশি বিবর্ধনে যাও।
- স্থূল ফোকাস (coarse adjustment) শুধু কম বিবর্ধনে। ×40-এ শুধু সূক্ষ্ম ফোকাস (fine adjustment), নইলে লেন্স স্লাইডে ঠেকে কাচ ভাঙতে পারে।
- আসল অণুবীক্ষণে ছবি উল্টো (inverted) দেখায়: স্লাইড ডানে সরালে ছবি বাঁয়ে যায়। (নিচের সিমুলেশনে বোঝার সুবিধার জন্য বোতাম সরাসরি দৃশ্য সরায়।)
অভিনেত্র ×10 আর অবজেক্টিভ ×10 হলে মোট বিবর্ধন কত?
ধাপ ৬: ব্যবহারিক: স্লাইড শনাক্তকরণ
ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষক একটা স্লাইড দিয়ে বলেন: “শনাক্ত করো, কারণ দেখাও, চিত্র আঁকো ও চিহ্নিত করো।” উত্তর তিন ভাগে লেখো: নাম, শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য (identifying features), আর লেবেল দেওয়া চিত্র।
| স্লাইড | শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| হাইড্রার পূর্ণদেহ (whole mount) | নলাকার দেহ; এক প্রান্তে কোণাকার হাইপোস্টোম, চূড়ায় মুখ; মুখ ঘিরে 6–10টি সরু ফাঁপা কর্ষিকা; অন্য প্রান্তে পাদচাকতি |
| মুকুলসহ হাইড্রা (budding) | ওপরের সব, আর দেহের নিচের দিকে পাশে একটা ছোট শাখা (মুকুল) যার মাথায় ছোট কর্ষিকা; মুকুলের গহ্বর মায়ের সিলেন্টেরনের সঙ্গে যুক্ত |
| যৌন জননরত হাইড্রা (sexual) | মুখের দিকে কয়েকটি ছোট কোণাকার শুক্রাশয় (testis); পাদচাকতির দিকে একটি বড় গোল ডিম্বাশয় (ovary) |
| সবুজ হাইড্রার প্রস্থচ্ছেদ (TS) | গোল আংটির মতো দেহপ্রাচীর: বাইরে বহিঃত্বক, মাঝে পাতলা মেসোগ্লিয়া, ভেতরে লম্বা কোষের অন্তঃত্বক; অন্তঃত্বকের কোষে সবুজ শৈবাল; মাঝে ফাঁকা সিলেন্টেরন |
চিত্র আঁকার নিয়ম: পেনসিলে আঁকবে, রেখা পরিষ্কার ও এক টানে; লেবেলের রেখা রুলার দিয়ে সোজা, একটা আরেকটাকে কাটবে না; লেবেল এক পাশে সারি করে; নিচে চিত্রের নাম।
এবার নিজে করে দেখো
তোমার সামনে একটা ভার্চুয়াল যৌগিক অণুবীক্ষণ, চারটি স্থায়ী স্লাইড সহ। প্রথমে ×4-এ স্থূল ফোকাস ঘুরিয়ে ছবি স্পষ্ট করো। তারপর অবজেক্টিভ বদলাও, সূক্ষ্ম ফোকাস ঠিক করো, স্লাইড সরিয়ে অংশের ওপর ট্যাপ করে চেনো। নিচে নিজের আঁকা ছবিতে লেবেল বসাও। যা যা চিনবে, খাতায় জমা হবে।
ভার্চুয়াল অণুবীক্ষণ: হাইড্রার স্লাইড
Hydra slide practical — virtual microscopeস্লাইড (slide)
অবজেক্টিভ (objective)
ফোকাস (focus) · মঞ্চের উচ্চতা 170 µm
স্লাইড সরাও (move slide)
অভিনেত্র (eyepiece) ×10। দৃষ্টিক্ষেত্র = 18 mm ÷ অবজেক্টিভের বিবর্ধন; ফোকাসের গভীরতা ≈ λ/NA² (আনুমানিক)। নমুনার আকার বাস্তবের কাছাকাছি: সংকুচিত দেহ প্রায় 2.6 mm, প্রস্থচ্ছেদ প্রায় 0.7 mm চওড়া।
তোমার আঁকা ছবিতে লেবেল দাও (label your drawing)
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
অণুবীক্ষণে কোনো অংশ চিনলে স্লাইড, বিবর্ধন আর অংশের নাম এখানে জমা হবে।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/5- মুকুলসহ স্লাইডে ×10 অবজেক্টিভে ফোকাস করে মুকুল (bud) খুঁজে ট্যাপ করো।
- ×40-এ কর্ষিকার নিডোসাইট ব্যাটারি (cnidocyte battery) খুঁজে ট্যাপ করো।
- নিজের আঁকা ছবিতে ৬টি অংশের লেবেল বসাও। (0/6)
- যৌন জননরত হাইড্রার স্লাইডে একটি শুক্রাশয় ও একটি ডিম্বাশয় চিনে নাও। (0/2)
- সবুজ হাইড্রার প্রস্থচ্ছেদে ×40-এ শৈবাল (Chlorella) খুঁজে ট্যাপ করো।
বই পড়ার সময় সাবধান: পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে।
- “এরা একটি হতে অপরটি কখনোই বিচ্ছিন্ন হতে পারে না”: পুরোপুরি ঠিক নয়। শৈবাল হাইড্রার বাইরে বাঁচতে পারে না, কিন্তু গবেষণাগারে শৈবালমুক্ত সবুজ হাইড্রা বানানো যায় এবং খেতে দিলে বেঁচে থাকে (Muscatine ও Lenhoff 1965; Pardy 1976; Habetha 2003)। অপরিহার্যতা কেবল শৈবালের দিক থেকে।
- শৈবাল পায় “N₂ জাত বর্জ্য”: N₂ (নাইট্রোজেন গ্যাস) প্রাণীর বর্জ্য নয়। হাইড্রার বর্জ্য অ্যামোনিয়া (NH₄⁺), যা নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য। লেখো: “নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (অ্যামোনিয়া)”। আর শৈবাল হাইড্রাকে দেয় মল্টোজ।
- “নিডারিয়াতেই সর্বপ্রথম কোষের গঠনমূলক বৈষম্য ও শ্রমবণ্টন”: স্পঞ্জেও (Porifera) কয়েক ধরনের বিশেষায়িত কোষ আছে। নিডারিয়া হলো প্রথম প্রাণী যাদের সত্যিকারের টিস্যু (true tissue) আর স্নায়ুজাল আছে (Campbell Biology)। লেখো: “নিডারিয়ায় সর্বপ্রথম টিস্যু-স্তরের সংগঠন দেখা যায়।”
- নাম Zoochlorella: এটা পুরোনো অনানুষ্ঠানিক নাম; সবুজ হাইড্রার শৈবালটি Chlorella sp. (Kawaida 2013)। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: Zoochlorella-ও গ্রহণযোগ্য
ঘরে বসে পর্যবেক্ষণ
মিথোজীবিতা নিজের চোখে দেখতে চাও? পুরোনো দেয়াল, ইটের প্রাচীর বা গাছের বাকলে ধূসর-সবুজ বা হলদে চাপড়ার মতো লাইকেন (lichen) খোঁজো। প্রতিটি লাইকেন আসলে একটি ছত্রাক আর একটি শৈবালের (বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার) জোট: ছত্রাক পানি ধরে রাখে ও আশ্রয় দেয়, শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে খাবার বানায়। একটা হাতলেন্স (hand lens) দিয়ে কাছ থেকে দেখো, রং আর গড়ন খাতায় আঁকো। পানির ফোঁটা দিলে শুকনো লাইকেন কীভাবে বেশি সবুজ হয়ে ওঠে, সেটাও লক্ষ করো: ভেজা অবস্থায় শৈবালের সবুজ রং বেশি দেখা যায়।
নিরাপত্তা: লাইকেন মুখে দেবে না, খাবে না। গাছ বা দেয়াল থেকে খুঁটে তুলবে না, যেখানে আছে সেখানেই দেখো। কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোবে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. মিথোজীবিতা কাকে বলে? হাইড্রার উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব যখন ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে বাস করে এবং দুজনেই উপকৃত হয়, তাকে মিথোজীবিতা (mutualism) বলে। সবুজ হাইড্রার (Hydra viridissima) অন্তঃত্বকের পুষ্টি কোষে এককোষী শৈবাল ক্লোরেলা (Chlorella, বইয়ে Zoochlorella) বাস করে। হাইড্রা শৈবালকে আশ্রয়, শ্বসনের CO₂ আর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (অ্যামোনিয়া) দেয়; শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে তৈরি মল্টোজ আর O₂ হাইড্রাকে দেয়। দুজনেই লাভবান, তাই এটি মিথোজীবিতা। শৈবাল ডিম্বাণু ও মুকুলের মাধ্যমে পরের প্রজন্মে যায়।
২. মিথোজীবিতা ও পরজীবিতার পার্থক্য লেখো।
উত্তর
(১) মিথোজীবিতায় দুই সঙ্গীই লাভবান; পরজীবিতায় শুধু পরজীবী লাভবান। (২) মিথোজীবিতায় সঙ্গীর উপকার হয়; পরজীবিতায় পোষকের ক্ষতি বা রোগ হয়। (৩) মিথোজীবিতা পারস্পরিক সহযোগিতা; পরজীবিতা একতরফা শোষণ। (৪) উদাহরণ: হাইড্রা ও ক্লোরেলা, লাইকেন; বনাম মানুষ ও ফিতাকৃমি, ম্যালেরিয়া পরজীবী।
৩. হাইড্রার দেহে শ্রমবণ্টন কীভাবে ঘটেছে, কোষগুলোর কাজসহ লেখো।
উত্তর
হাইড্রার দেহে বিভিন্ন কোষ বিভিন্ন কাজে বিশেষায়িত: পেশি-আবরণী কোষ আবরণ দেয় ও দেহ খাটো করে; নিডোসাইট শিকার ধরে ও আত্মরক্ষা করে; পুষ্টি-পেশি কোষ পরিপাক করে ও দেহ সরু করে; গ্রন্থিকোষ এনজাইম, শ্লেষ্মা ও আঠালো রস ক্ষরণ করে; সংবেদী ও স্নায়ুকোষ উদ্দীপনা গ্রহণ ও পরিবহন করে; ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ নতুন কোষ তৈরি করে; জনন কোষ জননে অংশ নেয়। একই ধরনের কোষ মিলে টিস্যু গড়ে, কিন্তু অঙ্গ নেই; তাই এটি কোষ বা টিস্যু-স্তরের শ্রমবণ্টন।
৪. হাইড্রাকে নিডারিয়া পর্বের অন্তর্ভুক্ত করার যুক্তি দাও।
উত্তর
(১) দেহে নিডোসাইট (হুল ফোটানো কোষ) আছে; (২) দেহ দ্বিস্তরী, মাঝে মেসোগ্লিয়া; (৩) দেহ অরীয় প্রতিসাম্যযুক্ত; (৪) একমুখী পরিপাক-সংবহন গহ্বর বা সিলেন্টেরন আছে, পায়ু নেই; (৫) স্নায়ুতন্ত্র জালের মতো (nerve net), মস্তিষ্ক নেই, আর দেহ টিস্যু-স্তরের সংগঠনযুক্ত।
৫. ব্যবহারিক: একটি স্লাইডে হাইড্রার দেহের নিচের দিকে পাশে একটি ছোট শাখা ও তার মাথায় কর্ষিকা দেখা গেল। স্লাইডটি শনাক্ত করো এবং দুটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর
শনাক্তকরণ: মুকুলসহ হাইড্রা (Hydra, budding)। কারণ: (১) নলাকার দেহের এক প্রান্তে হাইপোস্টোম ও মুখ ঘিরে কর্ষিকা, অন্য প্রান্তে পাদচাকতি, তাই এটি হাইড্রা; (২) দেহকাণ্ডের নিচের দিকে পার্শ্বীয় মুকুল আছে, যার মাথায় নিজস্ব কর্ষিকা গজাচ্ছে এবং গহ্বর মায়ের সিলেন্টেরনের সঙ্গে যুক্ত; এটি অযৌন জননের দশা।
৬. সৃজনশীল: রিয়া একই পুকুর থেকে দুটি সবুজ হাইড্রা এনে একটিকে জানালার পাশে, অন্যটিকে অন্ধকার আলমারিতে রাখল; কোনোটিকেই খেতে দিল না। দুই সপ্তাহ পরে জানালার পাশেরটি বেশি বড় ও বেশি সবুজ রইল। (গ) হাইড্রার ভেতরের সবুজ জীবটি কোথায় থাকে, ব্যাখ্যা করো। (ঘ) এই সম্পর্কে দুই সঙ্গীর লাভ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
(গ) সবুজ জীবটি শৈবাল ক্লোরেলা। এটি হাইড্রার অন্তঃত্বকের পুষ্টি কোষের ভেতরে, কোষের গোড়ার দিকে, প্রত্যেকটি নিজের আলাদা গহ্বরে থাকে; প্রতি কোষে প্রায় 15–20টি। এই গহ্বরে লাইসোসোম মেশে না, তাই শৈবাল হজম হয় না।
(ঘ) জানালার পাশে আলো থাকায় শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ করে মল্টোজ তৈরি করেছে এবং তা হাইড্রাকে দিয়েছে; সঙ্গে O₂। তাই না খেয়েও সেই হাইড্রা ধীরে শুকিয়েছে এবং সবুজ রয়েছে। অন্ধকারে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ, শৈবাল খাবার দিতে পারেনি, উল্টো নিজেও হাইড্রার সঞ্চিত খাদ্যের ওপর নির্ভর করেছে; ফলে হাইড্রা দ্রুত ছোট ও ফ্যাকাশে হয়েছে। অন্যদিকে শৈবাল হাইড্রার দেহে নিরাপদ আশ্রয়, শ্বসনের CO₂ আর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (অ্যামোনিয়া) পায়, যা দিয়ে সে সালোকসংশ্লেষণ ও প্রোটিন তৈরি করে। দুজনেই লাভবান, তাই সম্পর্কটি মিথোজীবিতা। এই সুবিধা নির্ভর করে আলোর ওপর।