পাঠ ৭ / ১০অনুচ্ছেদ ১.৭, ১.৮
বিকারক বোতল, হ্যাজার্ড প্রতীক (GHS) ও SDSReagent bottles, hazard pictograms (GHS) & safety data sheets
তোমার বাসার বাথরুমে টয়লেট ক্লিনার, রান্নাঘরে ব্লিচ, আর শোবার ঘরে মশা মারার স্প্রে আছে? এদের গায়ে ছোট ছোট লাল হীরার মতো ছবি থাকে — কেউ খেয়াল করে না। নিচের তাক থেকে বোতলগুলো উল্টে পেছনের লেবেল (label) দেখো:
বাথরুম আর রান্নাঘরের তাক — বোতলে চাপ দিয়ে উল্টাও, পেছনের লেবেল (label) পড়ো:
লেবেলগুলো সাধারণ উদাহরণ (illustrative) — ব্র্যান্ড ও ঘনমাত্রা (concentration) অনুযায়ী আসল লেবেল একটু আলাদা হতে পারে।
তুমি আসলে প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক বিপদ-প্রতীক (hazard pictogram) হাতে নিচ্ছ! রসায়ন ল্যাবের প্রতিটি বোতলেও একই প্রতীক। এগুলো কী বলে, আর ল্যাবের বিকারক (reagent) বোতল নিরাপদে ও বিশুদ্ধ রেখে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় — এই পাঠে সেটাই শিখব।
এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:
- বিকারক (reagent) ও বিকারক বোতল (reagent bottle) ব্যবহারের নিয়ম — কেন ড্রপার (dropper) বদলানো যায় না
- গাঢ় (concentrated) NaOH কেন কাচের ছিপিযুক্ত (glass-stoppered) বোতলে রাখা যায় না
- বেঞ্চ বিকারক (bench reagent) তৈরি — “দাগ পর্যন্ত” (made up to the mark) আর নির্দেশক (indicator)
- বিপদ (hazard) বনাম ঝুঁকি (risk), আর কেন সারা পৃথিবীতে একটি পদ্ধতি — GHS
- GHS-এর ৯টি প্রতীক (pictograms), সংকেত-শব্দ (signal word), H- ও P-বাক্য (hazard and precautionary statements)
- বইয়ের পুরোনো ১০টি কমলা প্রতীক (old EU symbols) আর GHS-এর সাথে তাদের মিল
- অন্যান্য চিহ্ন — তেজস্ক্রিয়তা (radioactivity) ও জৈব-বিপদ (biohazard)
- নিরাপত্তা তথ্যপত্র (safety data sheet, SDS) — আগে যাকে MSDS বলা হতো
- এবার নিজে করে দেখো — লেবেল ল্যাব (label lab)
ধাপ ১: বিকারক ও বিকারক বোতল
বিকারক (reagent) হলো বিশ্লেষণে (analysis) ব্যবহৃত যে রাসায়নিক অন্য পদার্থের সাথে বিক্রিয়া (reaction) করে তাকে শনাক্ত বা পরিমাপ করে — যেমন AgNO₃ দ্রবণ, NH₄OH দ্রবণ, সোডিয়াম ধাতু। ল্যাবের তাকে যে বোতলে এগুলোর দ্রবণ সারি করে রাখা থাকে, সেগুলো বিকারক বোতল (reagent bottle) — সাধারণত শক্ত কাচ বা পাইরেক্স (Pyrex) কাচের, 50–250 mL।
একটি বিকারক বোতল দিয়ে সারা ক্লাসের শত শত পরীক্ষা হয়। তাই এর একটিমাত্র লক্ষ্য: বোতলের ভেতরের জিনিস যেন কখনো দূষিত (contaminated) না হয়। নিয়মগুলো সব এখান থেকেই এসেছে:
- লেবেল দুবার পড়ো — তোলার আগে একবার, ঢালার আগে আরেকবার। “Conc.” মানে গাঢ় (concentrated), “Dil.” মানে লঘু (dilute)। লেবেল অস্পষ্ট হলে আন্দাজে ব্যবহার করবে না, শিক্ষককে জিজ্ঞেস করো।
- প্রতিটি বোতলের নিজস্ব ড্রপার (dropper) — অন্য বোতলের ড্রপার কখনো নয়, আর ড্রপারের আগা টেস্টটিউবের দ্রবণে ডোবাবে না।
- ছিপি (stopper) টেবিলে রাখবে না। ঢালার সময় ছিপিটি হাতের মধ্যমা ও অনামিকার ফাঁকে ধরে রাখো, বাকি আঙুলে বোতল ধরো। টেবিলে রাখলে ছিপিতে ময়লা লাগে, আর দুই বোতলের ছিপি অদলবদল হতে পারে।
- কাজ শেষে সঙ্গে সঙ্গে ছিপি বন্ধ করে বোতল নিজের জায়গায় ফেরত দাও। খোলা বোতলে বাতাসের জলীয় বাষ্প (moisture), CO₂ বা O₂ ঢুকে বিকারক বদলে যায় (যেমন NaOH → Na₂CO₃)।
- বেশি তুলে ফেললে বোতলে ফেরত দেবে না — ফেরত দিলে পুরো বোতল দূষিত হওয়ার ঝুঁকি।
- কোনো বোতলের মুখ শুঁকবে না, আর ছিটকে পড়লে দস্তানা (gloves) পরে পরিষ্কার করো।
ড্রপারের নিয়মটা কেন এত কঠোর, নিচে নিজে ভুল করে দেখো। টেস্টটিউবে NaCl দ্রবণ আছে; AgNO₃ দিলে সাদা AgCl অধঃক্ষেপ (precipitate) পড়ে — এটাই ক্লোরাইড পরীক্ষা (chloride test)। কিন্তু তারপর?
AgNO₃ বোতলের নিজস্ব ড্রপার (dropper) দিয়ে টেস্টটিউবের NaCl দ্রবণে (Cl⁻ আছে) AgNO₃ দাও — ক্লোরাইড পরীক্ষা (chloride test)।
AgCl-এর দ্রাব্যতা গুণফল (solubility product) এত ছোট যে স্টকে Ag⁺ বেশি থাকায় ড্রপারে বয়ে আসা প্রায় সব Cl⁻ সঙ্গে সঙ্গে অধঃক্ষিপ্ত হয়। এক ফোঁটা (≈ 0.05 mL) 0.1 M Cl⁻ থেকে ≈ 0.7 mg AgCl — পরিমাণে সামান্য, কিন্তু বোতলটি ঘোলা, আর কতটা নষ্ট হলো কেউ জানে না। পরের সবার ফল সন্দেহজনক হয়ে যায়।
ভুল করে Na₂SO₄ বোতলের ছিপি BaCl₂ বোতলে লাগিয়ে দিলে কী হবে?
ধাপ ২: গাঢ় NaOH কেন কাচের ছিপিতে নয়
কাচের যত্নের পাঠে দেখেছ: কাচের প্রধান উপাদান সিলিকা (silica, SiO₂), আর শক্ত ক্ষার (strong alkali) কাচকে ধীরে ধীরে আক্রমণ করে। গাঢ় NaOH দ্রবণ বোতলের গলায় আর কাচের ছিপিতে লেগে থাকে, সেখানে দুটি বিক্রিয়া ঘটে:
সোডিয়াম সিলিকেট (Na₂SiO₃, “ওয়াটার গ্লাস” — একধরনের আঠা) আর বাতাসের CO₂ থেকে তৈরি Na₂CO₃ ছিপি আর গলার মাঝের ফাঁকে শক্ত সাদা স্তর জমায় — ছিপি আটকে (seize) যায়, আর খোলা যায় না। সমাধান: রবারের ছিপি বা পলিথিনের (polyethylene) বোতল। সময় বাড়িয়ে নিজে খুলে দেখো:
দিন বাড়াও, তারপর দুটো ছিপিই খুলে দেখো।
কত দিনে আটকাবে তা বাস্তবে বোতল কতবার খোলা হয় ও মুখে কতটা দ্রবণ লাগে তার ওপর নির্ভর করে — এখানে সময়টা উদাহরণমাত্র (illustrative)।
গাঢ় NaOH-এর বোতলের ছিপি আটকে যাওয়ার জন্য কোন দুটি পদার্থ দায়ী?
ধাপ ৩: বেঞ্চ বিকারক তৈরি — “দাগ পর্যন্ত” পাতলা করা
পরীক্ষার টেবিলের লঘু এসিড, লঘু ক্ষার আর পরীক্ষণ-বিকারকগুলো (test reagents) একটি নির্দিষ্ট মোলার ঘনমাত্রায় (molar concentration, M) বানানো হয়। মোলারিটি (molarity) মানে প্রতি লিটার মোট দ্রবণে দ্রবের মোল সংখ্যা:
খেয়াল করো — হরে (denominator) আছে দ্রবণের মোট আয়তন, যোগ করা পানির আয়তন নয়। তাই সঠিক কথা হলো “1 L পর্যন্ত পাতলা করো (dilute / make up to 1 L)”: আয়তনিক ফ্লাস্কে (volumetric flask) দ্রব বা স্টক নিয়ে পানি দিয়ে দাগ (mark) পর্যন্ত ভরতে হয়। বইয়ের সারণিতে লেখা “+ 1 L পানি” আক্ষরিক মানলে মোট আয়তন 1 L-এর বেশি হয়, ঘনমাত্রা কম আসে। যেমন 350 mL গাঢ় অ্যামোনিয়া (14.3 M):
বইয়ের সারণির প্রতিটি সারি নিজে যাচাই করো — কয়েকটির ভরও ভুল:
বই লিখেছে: 350 mL গাঢ় NH₄OH (14.3 M) + 1000 mL পানি = 5 M
⚠ 350 mL গাঢ় অ্যামোনিয়া পানিতে ঢেলে 1 L পর্যন্ত পাতলা করো। বইয়ের “+ 1 L পানি” আক্ষরিক মানলে ঘনমাত্রা কম হবে।
গাঢ় এসিড পাতলা করার একটি নিয়ম কখনো ভুলবে না: সবসময় পানিতে এসিড (acid into water), উল্টো নয়। গাঢ় H₂SO₄ পানিতে মিশলে প্রচুর তাপ বের হয়; এসিডের ওপর অল্প পানি ঢাললে সেই পানি মুহূর্তে ফুটে এসিডসহ ছিটকে আসে।
অম্ল-ক্ষার নির্দেশক (acid–base indicator): যে রঞ্জক pH বদলালে রং বদলায়। বইয়ে তিনটির প্রস্তুতি আছে; এদের রং বদলের pH-পরিসর (transition range, CRC Handbook):
| নির্দেশক | এসিডে | ক্ষারে | pH-পরিসর | প্রস্তুতি (বই) |
|---|---|---|---|---|
| লিটমাস (litmus) | লাল | নীল | 4.5–8.3 | ≈ 1 g, 100 mL পানিতে |
| মিথাইল অরেঞ্জ (methyl orange) | লাল | হলুদ | 3.1–4.4 | ≈ 0.1 g, 150 mL গরম পানিতে |
| ফেনলফথ্যালিন (phenolphthalein) | বর্ণহীন | গোলাপি | 8.2–10.0 | ≈ 1 g, 100 mL ইথানলে, পানি দিয়ে 500 mL |
নির্দেশকও নিরীহ নয়: কঠিন মিথাইল অরেঞ্জ গিললে বিষাক্ত (GHS06), আর কঠিন ফেনলফথ্যালিন ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী (carcinogen, GHS08) হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। লঘু দ্রবণ ড্রপারে দু-এক ফোঁটা ব্যবহারে বিপদ সামান্য, কিন্তু গুঁড়া হাতে নিও না।
0.1 M AgNO₃ দ্রবণ 1 L বানাতে কত গ্রাম AgNO₃ (M = 169.87 g/mol) লাগবে?
ধাপ ৪: বিপদ বনাম ঝুঁকি — আর কেন একটি বিশ্বব্যাপী পদ্ধতি
দুটি শব্দ আলাদা করে বোঝো:
- বিপদ (hazard): পদার্থটির নিজের ক্ষতি করার ক্ষমতা — যেমন গাঢ় H₂SO₄ ত্বক পুড়িয়ে দেয়। এটা বোতলের ভেতরের জিনিসের ধর্ম, বদলায় না।
- ঝুঁকি (risk): আসলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ও মাত্রা — নির্ভর করে তুমি কীভাবে ব্যবহার করছ। গগলস (goggles) পরে, অল্প পরিমাণে, সাবধানে ঢাললে একই এসিডের ঝুঁকি অনেক কম।
লেবেল তোমাকে বিপদ জানায়, যাতে তুমি ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নিতে পারো।
একসময় প্রতিটি দেশের নিজস্ব প্রতীক ছিল — একই রাসায়নিক এক দেশে “বিষাক্ত”, আরেক দেশে শুধু “ক্ষতিকর”। রাসায়নিকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়ায় এই বিশৃঙ্খলা বিপজ্জনক হয়ে উঠল। তাই জাতিসংঘ (United Nations) তৈরি করল GHS — Globally Harmonized System of Classification and Labelling of Chemicals (রাসায়নিকের শ্রেণিবিভাগ ও লেবেলিংয়ের বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদ্ধতি), যার মূলমন্ত্র “এক রাসায়নিক, এক লেবেল — সারা বিশ্বে” (one chemical, one label, worldwide):
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| 1992 | রিও ডি জেনেইরোর জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলন (Rio Earth Summit, Agenda 21) একটি সমন্বিত পদ্ধতি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় |
| 2002 | জোহানেসবার্গ বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন (World Summit) 2008-এর মধ্যে GHS চালুর লক্ষ্য ঠিক করে |
| 2003 | GHS-এর প্রথম সংস্করণ (“Purple Book”) প্রকাশ |
| 2008 | ইউরোপীয় ইউনিয়নের CLP রেগুলেশন (Regulation (EC) 1272/2008 — Classification, Labelling and Packaging) |
| 2010 / 2015 | EU-তে বিশুদ্ধ পদার্থ (substances) / মিশ্রণে (mixtures) GHS বাধ্যতামূলক; পুরোনো কমলা প্রতীক বাতিল |
| 2017 | পুরোনো লেবেলের মজুত বিক্রির শেষ সুযোগও শেষ (31 May 2017) |
আজ Sigma-Aldrich, Merck, Loba-র মতো সরবরাহকারীর (supplier) প্রতিটি বোতলে GHS লেবেল থাকে — বাংলাদেশের ল্যাবে যে বোতল আসে, তাতেও।
একই বোতল গাঢ় HCl দুই ল্যাবে রাখা। ক ল্যাবে ছাত্ররা ফিউম হুডে গগলস পরে কাজ করে, খ ল্যাবে খোলা টেবিলে খালি হাতে। কোনটি ঠিক?
ধাপ ৫: GHS-এর ৯টি প্রতীক, সংকেত-শব্দ, H- ও P-বাক্য
GHS প্রতীক হলো লাল সীমানার হীরা (red-bordered diamond), সাদা জমিন, কালো ছবি। মোট ৯টি — GHS01 থেকে GHS09। এদের তিন দলে ভাগ করা যায়: ভৌত বিপদ (physical hazards) — বিস্ফোরক, দাহ্য, জারক, চাপযুক্ত গ্যাস, ক্ষয়কারী; স্বাস্থ্য-বিপদ (health hazards) — খুলি, বিস্ময়বোধক চিহ্ন, স্বাস্থ্য-ঝুঁকি (ক্ষয়কারীও); আর পরিবেশ-বিপদ (environmental hazard)। প্রতিটি হীরায় চাপ দিয়ে দেখো সেটি কোন বিপদের কথা বলছে:
যেকোনো হীরায় (diamond) চাপ দাও:
দাহ্য তরলের বাষ্প (vapour) দূরের শিখা পর্যন্ত গিয়ে জ্বলে ওঠে।
GHS02 · দাহ্য (Flammable)
সহজে আগুন ধরে; বাষ্প দূরের শিখা থেকেও জ্বলে উঠতে পারে। Na, LiAlH₄ পানির সাথে H₂ গ্যাস ছেড়ে জ্বলে — তাই এরাও এই প্রতীক পায়।
- দাহ্য গ্যাস, অ্যারোসল, তরল ও কঠিন (Flammable gases, aerosols, liquids, solids)
- স্বতঃজ্বলনশীল ও স্ব-উত্তপ্ত পদার্থ (Pyrophoric and self-heating substances)
- পানির সংস্পর্শে দাহ্য গ্যাস ছাড়ে (Substances which emit flammable gas with water)
- স্ব-বিক্রিয়াশীল পদার্থ ও জৈব পারক্সাইড (Self-reactive substances, organic peroxides)
কয়েকটি জিনিস বিশেষভাবে মনে রাখো:
- GHS02 শিখা শুধু “সহজে জ্বলে” নয় — পানির সংস্পর্শে দাহ্য গ্যাস ছাড়ে এমন পদার্থও (Na, NaH, LiAlH₄: ) এই প্রতীক পায়।
- GHS03 (বৃত্তের ওপর শিখা) আর GHS02 আলাদা: জারক নিজে না জ্বলেও অক্সিজেন জুগিয়ে আগুন বাড়ায়। দুটোকে কখনো এক তাকে রাখবে না।
- তিনটি প্রতীক GHS-এ নতুন বা নতুনভাবে এসেছে: গ্যাস সিলিন্ডার (GHS04 — পুরোনো পদ্ধতিতে ছিলই না), স্বাস্থ্য-ঝুঁকি (GHS08 — ক্যান্সার, জিনগত ত্রুটি, প্রজনন-ক্ষতি; আগে শুধু T বা Xn), আর বিস্ময়বোধক চিহ্ন (GHS07 — পুরোনো ক্রস চিহ্ন Xn/Xi-এর জায়গায়)।
- খুলি (GHS06) বনাম স্বাস্থ্য-ঝুঁকি (GHS08): খুলি মানে তীব্র (acute) বিষ — একবারেই মৃত্যু হতে পারে। GHS08 মানে দীর্ঘমেয়াদি (chronic) ক্ষতি — বছরের পর বছর পরে।
প্রতীক ছাড়াও লেবেলে থাকে:
- সংকেত-শব্দ (signal word): গুরুতর বিপদে Danger (বিপদ), কম গুরুতরে Warning (সতর্কতা)। লেবেলে একটিই থাকে — একটিও Danger-ক্যাটাগরি থাকলে পুরো লেবেলে Danger।
- H-বাক্য (hazard statement): কী বিপদ। নম্বরের প্রথম অঙ্ক বলে কোন ধরনের: H2xx ভৌত, H3xx স্বাস্থ্য, H4xx পরিবেশ। যেমন H225 “উচ্চ দাহ্য তরল ও বাষ্প”, H314 “ত্বক মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে দেয় ও চোখ নষ্ট করে”।
- P-বাক্য (precautionary statement): কী করবে — যেমন P280 “দস্তানা ও চশমা পরো”, P210 “তাপ ও শিখা থেকে দূরে রাখো”।
- পণ্যের পরিচয় (product identifier) — নাম, সংকেত, CAS নম্বর
- বিপদ-প্রতীক (hazard pictograms) — লাল হীরা
- সংকেত-শব্দ (signal word) — Danger (বিপদ) বা Warning (সতর্কতা), একটিই
- বিপদ-বাক্য (hazard statements, H) — কী বিপদ: H2xx ভৌত, H3xx স্বাস্থ্য, H4xx পরিবেশ
- সতর্কতা-বাক্য (precautionary statements, P) — কী করবে: প্রতিরোধ, প্রতিকার, সংরক্ষণ, নিষ্পত্তি
- সরবরাহকারী (supplier) — নাম, ঠিকানা, ফোন
অগ্রাধিকার নিয়ম (precedence rule): একই লেবেলে খুলি (GHS06) থাকলে বিস্ময়বোধক চিহ্ন (GHS07) আর আঁকা হয় না — বড় বিপদ ছোটটিকে ঢেকে দেয়। তেমনি ক্ষয়কারী (GHS05) থাকলে ত্বক/চোখের জ্বালার জন্য GHS07 বাদ যায়। (CLP Article 26)
একটি বোতলের লেবেলে আছে: শিখা (GHS02), বিস্ময়বোধক চিহ্ন (GHS07), সংকেত-শব্দ Danger, H225, H319, H336। এটি কোনটি হতে পারে?
ধাপ ৬: বইয়ের পুরোনো ১০টি কমলা প্রতীক
তোমার বই আর বোর্ডের অনেক প্রশ্ন এখনো পুরোনো ইউরোপীয় (EU) প্রতীক ব্যবহার করে — কমলা বর্গের ভেতরে কালো ছবি, পাশে একটি অক্ষর-সংকেত (code letter)। এগুলো ছিল 1967 সালের EU নির্দেশনার (Directive 67/548/EEC) প্রতীক; GHS আসার পর 2010–2017-এর মধ্যে বাতিল হয়েছে:
| সংকেত | নাম | GHS-এ এখন |
|---|---|---|
| E | বিস্ফোরক (explosive) | GHS01 |
| O | জারক (oxidising) | GHS03 |
| F / F+ | উচ্চ দাহ্য / অতি দাহ্য (highly / extremely flammable) | GHS02 |
| T / T+ | বিষাক্ত / অতি বিষাক্ত (toxic / very toxic) | GHS06 (ক্যান্সার ইত্যাদির জন্য T হলে GHS08) |
| Xn | ক্ষতিকর (harmful) | GHS07 বা GHS08 |
| Xi | উত্তেজক (irritant) | GHS07 (চোখের গুরুতর ক্ষতিতে GHS05) |
| C | ক্ষয়কারী (corrosive) | GHS05 |
| N | পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক (dangerous for the environment) | GHS09 |
দুই পদ্ধতিই চিনতে হবে — বোর্ডের সৃজনশীল প্রশ্নে (CQ) এখন GHS হীরাও আসে। কমলা বর্গগুলো টেনে তাদের নতুন হীরার ওপর ছাড়ো; ভুল হলে কারণ দেখবে:
পুরোনো ১০টি কমলা প্রতীক (old EU symbols) · মেলানো হয়েছে 0/10
একটি কমলা বর্গ টেনে (drag) তার নতুন GHS হীরার ওপর ছাড়ো — অথবা বর্গে চাপ দিয়ে তারপর হীরায় চাপ দাও।
পুরোনো লেবেলে Xn ছিল এমন একটি দ্রাবককে GHS-এ ক্যান্সার-সন্দেহজনক (H351) বলা হয়েছে। নতুন লেবেলে কোন প্রতীক যাবে?
ধাপ ৭: অন্যান্য চিহ্ন — তেজস্ক্রিয়তা ও জৈব-বিপদ
রাসায়নিকের ৯টি GHS প্রতীকের বাইরে ল্যাব ও হাসপাতালে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক চিহ্ন দেখবে:
- ট্রিফয়েল (trefoil, ISO 361): আয়নীকারক বিকিরণের (ionising radiation) উৎস। বিকিরণ মানে শুধু “আলোক রশ্মি” নয় — এতে আছে α ও β কণা, নিউট্রন (particles) আর γ ও X-রশ্মি (high-energy photons)।
- সম্পূরক চিহ্ন (ISO 21482, 2007): লাল ত্রিভুজে বিকিরণ-তরঙ্গ, খুলি আর দৌড়ানো মানুষ — খুব শক্তিশালী উৎসের ভেতরের যন্ত্রাংশে লাগানো হয়, যাতে কেউ খুলে না দেখে, সরে যায়।
- জৈব-বিপদ (biohazard, ISO 7010 W009): জীবাণু, রক্ত বা সংক্রামক নমুনা।
নিচের কোনটি আয়নীকারক বিকিরণ নয়?
ধাপ ৮: নিরাপত্তা তথ্যপত্র (SDS)
লেবেলে জায়গা কম — বিস্তারিত থাকে নিরাপত্তা তথ্যপত্রে (safety data sheet, SDS)। পুরোনো নাম MSDS = Material Safety Data Sheet; GHS-এ এখন শুধু SDS। SDS লেখে রাসায়নিকের প্রস্তুতকারক বা সরবরাহকারী (manufacturer / supplier), আর প্রতিটি বিপজ্জনক রাসায়নিকের সাথে দিতে বাধ্য। শিক্ষক বা ল্যাব-সহকারী এগুলো সংগ্রহ করে ল্যাবে এক জায়গায় রাখেন, আর রাসায়নিকের তালিকা (inventory) রাখেন।
পৃথিবীর সব SDS-এ ১৬টি অংশ একই ক্রমে থাকে — তাই একবার শিখলে যেকোনো SDS-এ দ্রুত উত্তর খুঁজে পাবে। সবচেয়ে বেশি দরকারি অংশগুলো:
| অংশ | কী আছে | কখন খুলবে |
|---|---|---|
| 2 | বিপদ শনাক্তকরণ (hazard identification): প্রতীক, সংকেত-শব্দ, H/P | বোতল খোলার আগে |
| 4 | প্রাথমিক চিকিৎসা (first-aid measures) | দুর্ঘটনার পর |
| 5 | আগুন নেভানো (fire-fighting measures) | আগুন লাগলে — কোন নির্বাপক চলবে না |
| 7 | ব্যবহার ও সংরক্ষণ (handling and storage) | তাকে সাজানোর সময় |
| 8 | সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণ ও PPE (exposure controls / personal protection) | কোন দস্তানা, চশমা |
| 13 | বর্জ্য নিষ্পত্তি (disposal considerations) | কাজ শেষে |
একটি রাসায়নিক বেছে অংশগুলো খুলে দেখো — যেমন সোডিয়ামের আগুনে পানি কেন নিষেধ:
রাসায়নিক বেছে নাও, তারপর যেকোনো অংশে (section) চাপ দাও:
- পানি, CO₂ বা ফোম কখনো নয়!
- শুকনো বালি, শুকনো NaCl/সোডা অ্যাশ বা Class D পাউডার দিয়ে ঢেকে দাও।
ল্যাবে ইথানলের বোতল থেকে আগুন ধরল। কোন নির্বাপক চলবে তা জানতে SDS-এর কোন অংশ দেখবে?
ধাপ ৯: এবার নিজে করে দেখো — লেবেল ল্যাব
এখন তুমি ল্যাবের দায়িত্বে। নতুন রাসায়নিক এসেছে, বোতলে লেবেল লাগাতে হবে। চারটি কাজ:
- 🏷 লেবেল: বোতল বেছে নিয়ে তার প্রতীক, সংকেত-শব্দ আর ২–৩টি H-বাক্য বেছে নাও, তারপর “যাচাই করো” — আসল SDS-এর শ্রেণিবিভাগের (classification) সাথে মিলিয়ে দেখাবে কোথায় ভুল আর কেন। ফাঁদ আছে: বইয়ের সারণি যে দুটিকে “দাহ্য” বলেছে, সেগুলোও আছে!
- ⏱ দ্রুত বাছাই: 15টি বোতল একটির পর একটি — প্রতিটির সব প্রতীক বেছে নাও।
- 📄 SDS: প্রশ্নের উত্তর কোন অংশে আছে, খুঁজে বের করো।
- 🧪 লঘু করো: গাঢ় HNO₃ থেকে 1 L 2 M HNO₃ বানাও — আয়তন, মেশানোর ক্রম আর শেষ ধাপ ঠিক করতে হবে।
লেবেল ল্যাব — GHS লেবেল ও SDS
Label lab: GHS labels & safety data sheetsচ্যালেঞ্জ (challenges)
0/7- লেবেল বানাও: গাঢ় H₂SO₄, NaOH দানা, ইথানল, অ্যাসিটোন, KMnO₄ আর Na ধাতু। (0/6)
- ফাঁদ: ব্রোমিন (Br₂) আর ক্লোরোফর্মের (CHCl₃) সঠিক লেবেল বানাও।
- LPG সিলিন্ডারের লেবেল বানাও।
- পুরোনো লেবেল T + N কে GHS প্রতীকে অনুবাদ করো।
- SDS-এ খুঁজে বের করো: আগুন নেভানোর অংশ আর বর্জ্য নিষ্পত্তির অংশ।
- 16 M গাঢ় HNO₃ থেকে 1 L 2 M HNO₃ বানাও।
- দ্রুত বাছাই: 15টি বোতলের অন্তত 12টির প্রতীক ঠিক করো।
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
এখনো কিছু লেখা হয়নি। একটি লেবেল বানিয়ে “যাচাই করো” চাপো।
বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশের অনেক তথ্য পুরোনো বা ভুল। পরীক্ষায় যেখানে বইয়ের উত্তর চাওয়া হয় সেখানে তা লেখো, কিন্তু আসল নিয়মটি জেনে রাখো:
- “আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হ্যাজার্ড প্রতীক ১০টি” (পৃ. 36, MCQ): ওগুলো পুরোনো EU প্রতীক (E, O, F, F+, T, T+, Xn, Xi, C, N; আসলে ছবি ৭টি, অক্ষর-সংকেত ১০টি), যা 2010–2017-এ বাতিল। এখনকার আন্তর্জাতিক পদ্ধতি GHS-এ প্রতীক ৯টি (GHS01–09, লাল হীরা)। বোর্ডের উত্তর: ১০টি; আসল/বর্তমান: GHS-এর ৯টি।
- সারণি 1.2-এর “H = Harmful” (পৃ. 39): “H” নামে কোনো প্রতীক কখনো ছিল না — ক্ষতিকর ছিল Xn। ইথানল এখন GHS02 + GHS07; বেনজিন ও টলুইন GHS02 + GHS07 + GHS08 (বেনজিন নিশ্চিত ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী)।
- ব্রোমিন ও ক্লোরোফর্ম “F + T” (পৃ. 40): কোনোটিই দাহ্য নয় (ক্লোরোফর্ম একসময় অগ্নিনির্বাপকে ব্যবহার হতো)। Br₂: GHS05 + GHS06 + GHS09; CHCl₃: GHS06 + GHS08। ক্লোরোফেনল ও নাইট্রোঅ্যানিলিনও দাহ্য নয় (2-ক্লোরোফেনল GHS07 + GHS09; 4-নাইট্রোঅ্যানিলিন GHS06 + GHS08)। অ্যাসিটোনাইট্রাইল “T” নয়, “ক্ষতিকর”: GHS02 + GHS07।
- NaN₃ বিস্ফোরক (পৃ. 38): GHS-এ সোডিয়াম অ্যাজাইড বিস্ফোরক নয়, অতি বিষাক্ত (GHS06, H300)। বিস্ফোরক হলো সীসার মতো ভারী ধাতুর অ্যাজাইড — Pb(N₃)₂ (H200), তাই ডেটোনেটরে লেড অ্যাজাইড। NH₄NO₃-কেও GHS সাধারণত জারক (GHS03) হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে।
- NaH, LiAlH₄ “বিষাক্ত, T” (পৃ. 37, পৃ. 42): এরা পানির সাথে দাহ্য H₂ ছাড়ে (GHS02, H260) ও ক্ষয়কারী (GHS05) — “বিষাক্ত” নয়।
- গাঢ় এসিড ও ক্ষারে C ও N প্রতীক (পৃ. 41–42): GHS-এ গাঢ় H₂SO₄, HCl, HNO₃, NaOH, KOH পরিবেশ-প্রতীক (GHS09) পায় না। (অ্যামোনিয়া দ্রবণ পায়।)
- জারকের তালিকায় FeCl₃, CuSO₄, আয়োডিন, K₃[Fe(CN)₆] (পৃ. 43): এগুলো GHS-এ জারক নয় (GHS03 নেই)। আসল উদাহরণ: KMnO₄, K₂Cr₂O₇, KNO₃, AgNO₃, গাঢ় HNO₃, Cl₂।
- পরিবেশ-প্রতীক খুলি দিয়ে আঁকা (পৃ. 43): পরিবেশের প্রতীক (GHS09, পুরোনো N) হলো মরা গাছ ও মরা মাছ। খুলি হলো তীব্র বিষ (GHS06)।
- স্বাস্থ্য-ঝুঁকি চিহ্ন “জীবাণু সংক্রমণ ঘটাতে পারে (mutagenic)” (পৃ. 39): mutagenic মানে জিনে পরিবর্তন (mutation) ঘটায়, সংক্রমণ নয়। সংক্রমণের চিহ্ন হলো জৈব-বিপদ (biohazard)।
- ট্রিফয়েল = “ক্ষতিকর আলোক রশ্মি” (পৃ. 39): আয়নীকারক বিকিরণে কণাও (α, β, নিউট্রন) থাকে, শুধু রশ্মি নয়।
- “শ্রেণিশিক্ষক MSDS তৈরি করেন” (পৃ. 39): SDS লেখে প্রস্তুতকারক/সরবরাহকারী; শিক্ষক তা সংগ্রহ করেন ও রাসায়নিকের তালিকা রাখেন। আর নাম এখন SDS, ১৬টি নির্দিষ্ট অংশসহ (MSDS পুরোনো নাম — পূর্ণরূপ পরীক্ষায় লিখতে পারো)।
- বিকারক প্রস্তুতির সারণি (পৃ. 35): “+ 1 L পানি” নয়, “1 L পর্যন্ত পাতলা করো”। AgNO₃ “10 g = 0.1 M” ভুল — 0.1 M-এর জন্য 16.99 g (10 g = 0.059 M)। (NH₄)₂C₂O₄ “12.5 g = 0.25 M” ভুল — লাগবে 35.5 g (NH₄)₂C₂O₄·H₂O (12.5 g ≈ 0.10 M)। CH₃COOH “85 mL (17.5 M) + 300 mL = 5 M” ভুল — 5 M-এর জন্য 286 mL, 1 L পর্যন্ত। K₄[Fe(CN)₆] “37 g” শুধু অনার্দ্র লবণের জন্য ঠিক; সাধারণ ত্রিহাইড্রেটে 42.2 g।
ঘরে বসে পরীক্ষা: লেবেল শিকার
তোমার বাসা বা কাছের দোকানে অন্তত ৫টি পণ্য খুঁজে বের করো যার গায়ে বিপদ-প্রতীক আছে — যেমন টয়লেট ক্লিনার, ব্লিচ, কেরোসিন, মশা মারার স্প্রে, ন্যাপথলিন বল, এলপিজি সিলিন্ডার, নেইলপলিশ রিমুভার (অ্যাসিটোন), কীটনাশক।
- প্রতিটির লেবেলের ছবি তোলো বা প্রতীকগুলো খাতায় এঁকে নাও।
- খাতায় একটি সারণি বানাও: পণ্য → প্রতীক (GHS কোড) → কী বিপদ → লেবেলে ছাপা সতর্কতা (P-বাক্য)।
- কোন পণ্যে নতুন GHS হীরা আর কোনটিতে পুরোনো কমলা বর্গ (বা কোনো প্রতীকই নেই) দেখলে? সংকেত-শব্দ Danger না Warning?
- এমন দুটি পণ্য খোঁজো যাদের কখনো একসাথে মেশানো বা পাশাপাশি রাখা উচিত নয়, আর কেন — লেবেল পড়েই বের করো।
নিরাপত্তা: শুধু লেবেল পড়বে আর ছবি তুলবে — কোনো বোতল খুলবে না, শুঁকবে না, ঝাঁকাবে না। ব্লিচ আর টয়লেট ক্লিনার (বা যেকোনো এসিড, ভিনেগার) কখনো মেশাবে না — বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস তৈরি হয়। গ্যাস সিলিন্ডারের ভাল্ভ ছোঁবে না। দোকানে ছবি তোলার আগে অনুমতি নিও।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. হ্যাজার্ড প্রতীক কাকে বলে? MSDS-এর পূর্ণরূপ কী? আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হ্যাজার্ড প্রতীক কয়টি?
বিপজ্জনক রাসায়নিকের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য পাত্রের লেবেলে যে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে হ্যাজার্ড প্রতীক (hazard symbol / pictogram) বলে।
MSDS = Material Safety Data Sheet (এখন GHS-এ নাম SDS — Safety Data Sheet, ১৬টি অংশ)।
বোর্ডের উত্তর: ১০টি (পুরোনো EU প্রতীক E, O, F, F+, T, T+, Xn, Xi, C, N)। বর্তমান আন্তর্জাতিক পদ্ধতি: GHS-এ ৯টি প্রতীক (GHS01–GHS09)।
২. গাঢ় NaOH দ্রবণ কাচের ছিপিযুক্ত বোতলে সংরক্ষণ করা যায় না কেন? (য. বো. ২০১৯)
কাচের প্রধান উপাদান SiO₂। গাঢ় NaOH বোতলের গলায় ও ছিপিতে লেগে থেকে SiO₂-এর সাথে সোডিয়াম সিলিকেট এবং বাতাসের CO₂-এর সাথে সোডিয়াম কার্বনেট তৈরি করে:
এই দুটি কঠিন পদার্থ ছিপি আর গলার মাঝে জমে আঠার মতো জুড়ে দেয়, ফলে ছিপি আটকে যায়। তাই গাঢ় NaOH রবারের ছিপি বা পলিথিনের বোতলে রাখা হয়।
৩. 37% (w/w) HCl-এর ঘনত্ব 1.18 g/mL। এর মোলারিটি কত? এ থেকে 1 L 5 M HCl কীভাবে বানাবে?
আয়তনিক ফ্লাস্কে আগে ≈ 400 mL পাতিত পানি নাও, ফিউম হুডে মাপন সিলিন্ডারে 418 mL গাঢ় HCl মেপে ধীরে ধীরে পানিতে ঢালো (পানিতে এসিড), ঠান্ডা করে পানি দিয়ে 1 L-এর দাগ পর্যন্ত ভরো, তারপর ঝাঁকিয়ে মেশাও। (বইয়ের সারণিতে 417 mL — একই হিসাব।)
৪. 250 mL 0.1 M AgNO₃ দ্রবণ তৈরিতে কত গ্রাম AgNO₃ লাগবে? কেউ 10 g AgNO₃ পানিতে গলিয়ে 1 L করলে তার ঘনমাত্রা কত? (Ag = 107.87, N = 14.007, O = 15.999)
M(AgNO₃) = 107.87 + 14.007 + 3 × 15.999 = 169.87 g/mol
g
10 g, 1 L: M — অর্থাৎ 0.1 M নয়, প্রায় 0.06 M। AgNO₃ আলোতে বিয়োজিত হয়, তাই দ্রবণ বাদামি বোতলে রাখতে হয়।
৫. একটি তাকে NaOH, KMnO₄, LiAlH₄ ও C₂H₅OH একসাথে রাখা আছে। প্রতিটির হ্যাজার্ড প্রতীক উল্লেখ করো। এভাবে রাখা কি যুক্তিযুক্ত? (কু. বো. ২০১৯)
| পদার্থ | বোর্ডের উত্তর (পুরোনো প্রতীক) | GHS প্রতীক |
|---|---|---|
| NaOH | C (ক্ষয়কারী) | GHS05 |
| KMnO₄ | O (জারক) | GHS03, GHS07, GHS08, GHS09 |
| LiAlH₄ | F (দাহ্য) | GHS02 (পানিতে H₂), GHS05 |
| C₂H₅OH | F (দাহ্য) | GHS02, GHS07 |
যুক্তিযুক্ত নয়:
- KMnO₄ (জারক) + C₂H₅OH (দাহ্য): জারক দাহ্য পদার্থের আগুন ধরাতে ও বাড়াতে পারে; ছড়িয়ে মিশলে আগুন লাগতে পারে। জারক ও দাহ্য পদার্থ আলাদা জায়গায় রাখতে হয়।
- LiAlH₄: পানি বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে — দাহ্য H₂ জ্বলে উঠতে পারে, পাশে ইথানলও দাহ্য। আবার LiAlH₄ ইথানলের (–OH) সাথেও বিক্রিয়া করে H₂ ছাড়ে। একে শুকনো, বায়ুরোধী পাত্রে, পানি ও অ্যালকোহল থেকে দূরে রাখতে হয়।
- NaOH: ক্ষয়কারী, আর্দ্রতা ও CO₂ শোষে — আলাদা ক্ষারের তাকে, বায়ুরোধী প্লাস্টিকের পাত্রে।
৬. একটি বোতলের লেবেলে লাল হীরার ভেতরে “বৃত্তের ওপর শিখা” আঁকা। প্রতীকটির অর্থ কী? দুটি উদাহরণ দাও। একে দাহ্য প্রতীক থেকে আলাদা করা জরুরি কেন?
এটি GHS03 — জারক (oxidising) পদার্থ (পুরোনো প্রতীক O)। উদাহরণ: KMnO₄, K₂Cr₂O₇, AgNO₃, KNO₃, গাঢ় HNO₃।
দাহ্য পদার্থ (GHS02) নিজে জ্বলে; জারক নিজে সাধারণত জ্বলে না কিন্তু অক্সিজেন জুগিয়ে অন্যের আগুন শুরু করে বা বাড়িয়ে দেয়। দুটো একসাথে থাকলে আগুনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি — তাই জারককে দাহ্য পদার্থ, কাগজ, কাঠ থেকে আলাদা করে রাখতে হয়, আর সংরক্ষণের সময় দুটি প্রতীক আলাদা করে চিনতে হয়।