পাঠ ২ / ১৩অনুচ্ছেদ ২.৪, ২.৬
ভেক্টর যোগের জ্যামিতিক সূত্র: ত্রিভুজ, বহুভুজ ও বিনিময়-সংযোজনHead-to-tail addition: triangle & polygon laws, commutative & associative laws
একটি গুপ্তধনের মানচিত্রে (treasure map) লেখা: “3 ধাপ পূর্বে, 4 ধাপ উত্তরে, 2 ধাপ পশ্চিমে।” কার্ডগুলো যেকোনো ক্রমে চাপো — প্রতিটি ধাপ শুরু হবে আগের ধাপ যেখানে শেষ, সেখান থেকে। কয়েকটি আলাদা ক্রমে চেষ্টা করো:
কার্ডগুলো যেকোনো ক্রমে চাপো — প্রতিটি ধাপ শুরু হবে আগের ধাপ যেখানে শেষ, সেখান থেকে।
মোট হাঁটা হলো 3 + 4 + 2 = 9 ধাপ, অথচ গুপ্তধন শুরু থেকে মাত্র √17 ≈ 4.12 ধাপ দূরে। আর ক্রম যা-ই হোক, শেষ বিন্দু একই। ক্রম বদলালে শেষ বিন্দু কেন একই? আর সংখ্যার মতো যোগ করলে উত্তর মেলে না কেন? এই পাঠে ধাপে ধাপে উত্তর খুঁজব:
- ভেক্টর কেন সংখ্যার মতো যোগ হয় না
- মাথা-লেজ পদ্ধতি (head-to-tail method)
- ত্রিভুজ সূত্র (triangle law of vectors)
- বহুভুজ সূত্র (polygon law of vectors)
- বিনিময় (commutative) ও সংযোজন (associative) সূত্র
- বণ্টন সূত্র (distributive law)
- বন্ধ বহুভুজ আর সাম্যাবস্থা (equilibrium)
- এবার নিজে করে দেখো — মাথা-লেজ যোগের গবেষণাগার
ধাপ ১: ভেক্টর কেন সংখ্যার মতো যোগ হয় না
আগের পাঠে দেখেছ, ভেক্টর রাশির (vector quantity) মান (magnitude) আর দিক (direction) দুটোই আছে, আর একে তীর (arrow) দিয়ে আঁকা হয়: তীরের দৈর্ঘ্য মান, তীরের মুখ দিক। স্কেলার রাশি (scalar quantity) — ভর, সময়, তাপমাত্রা — শুধু সংখ্যা, তাই 2 kg + 3 kg = 5 kg।
ভেক্টরে সেটি খাটে না। বইয়ের উদাহরণটি ধরো: একটি নৌকা নদীর আড়াআড়ি (across) 8 km/h বেগে বাওয়া হচ্ছে, আর স্রোতের (current) বেগ 6 km/h। নৌকার আসল বেগ কি 8 + 6 = 14 km/h? না! দুটি বেগ পরস্পর লম্ব, তাই তীর দুটি মাথা-লেজ জুড়লে একটি সমকোণী ত্রিভুজ হয়:
এখানে θ মাপা হয়েছে বাওয়ার দিক থেকে, স্রোতের দিকে। লব্ধি (resultant) মানে কয়েকটি ভেক্টরের মিলিত ফল — যে একটিমাত্র ভেক্টর তাদের সবার কাজ একাই করে। লব্ধির মান 14 নয়, 10; আর দিকও কোনোটির সাথে মেলে না। শুধু দুটি ভেক্টর একই দিকে হলে মান সরাসরি যোগ হয় (8 + 6 = 14), আর বিপরীত দিকে হলে বিয়োগ (8 − 6 = 2)।
3 N আর 4 N মানের দুটি বলের লব্ধি নিচের কোনটি কখনোই হতে পারে না?
ধাপ ২: মাথা-লেজ পদ্ধতি
ভেক্টর যোগের মূল কৌশল একটিই — মাথা-লেজ পদ্ধতি (head-to-tail method)। বই একে ভেক্টর যোগের “সাধারণ সূত্র” (general law) বলে:
- প্রথম ভেক্টরটি আঁকো।
- দ্বিতীয় ভেক্টরটিকে মান আর দিক না বদলে সরিয়ে আনো, যাতে তার লেজ (tail) প্রথমটির মাথায় (head) বসে। ভেক্টর সমান্তরালে সরালে বদলায় না — মান আর দিক একই থাকে।
- এভাবে একের পর এক জুড়তে থাকো। প্রথমটির লেজ থেকে শেষটির মাথা পর্যন্ত টানা তীরটিই লব্ধি।
গুপ্তধনের খেলায় ঠিক এটাই করেছ: প্রতিটি ধাপ আগের ধাপের শেষ বিন্দু থেকে শুরু হয়েছে, আর শুরু থেকে গুপ্তধন পর্যন্ত সোজা তীরটি হলো লব্ধি সরণ (resultant displacement)।
একটি শর্ত মনে রাখো: শুধু একই জাতের ভেক্টর (like vectors) যোগ করা যায় — সরণের সাথে সরণ, বলের সাথে বল। 3 m সরণ আর 5 N বল যোগ করার কোনো অর্থ নেই, ঠিক যেমন 3 kg + 5 s অর্থহীন।
মাথা-লেজ পদ্ধতিতে লব্ধি কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত আঁকা হয়?
ধাপ ৩: ত্রিভুজ সূত্র
দুটি ভেক্টরের জন্য মাথা-লেজ পদ্ধতিই হলো ত্রিভুজ সূত্র (triangle law of vectors):
কোনো ত্রিভুজের দুটি বাহু একই ক্রমে (in order) নিলে যদি দুটি ভেক্টরের মান ও দিক নির্দেশ করে, তবে ত্রিভুজের তৃতীয় বাহুটি বিপরীত ক্রমে (in reverse order) তাদের লব্ধির মান ও দিক নির্দেশ করে।
চিত্রে -এর মাথায় -এর লেজ, তাই
এখান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল: ত্রিভুজ ABC-এর তিন বাহু একই ক্রমে (A → B → C → A) ঘুরে এলে আমরা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানেই ফিরি, তাই মোট সরণ শূন্য:
এখানে — একই মান, উল্টো দিক।
ত্রিভুজ PQR-এর বাহুগুলো দিয়ে নিচের কোন যোগফলটি শূন্য ভেক্টর?
ধাপ ৪: বহুভুজ সূত্র
দুইয়ের বেশি ভেক্টর হলে একই কাজ বারবার করো — এটিই বহুভুজ সূত্র (polygon law of vectors):
কয়েকটি ভেক্টরকে মান ও দিক ঠিক রেখে একের পর এক মাথা-লেজ জুড়লে একটি খোলা বহুভুজ (polygon) হয়। প্রথম ভেক্টরের লেজ থেকে শেষ ভেক্টরের মাথা পর্যন্ত বহুভুজের বন্ধকারী বাহুটি (closing side) — বিপরীত ক্রমে — তাদের লব্ধি।
বহুভুজ সূত্র নতুন কিছু নয় — এটি ত্রিভুজ সূত্র বারবার প্রয়োগ: প্রথমে , তার সাথে , এভাবে। গুপ্তধনের তিন ধাপ ছিল তিন বাহুর একটি খোলা বহুভুজ; লব্ধি , যার মান ধাপ। এখানে পূর্ব দিকের আর উত্তর দিকের একক ভেক্টর (unit vector)।
একজন লোক 5 m পূর্বে, তারপর 12 m উত্তরে, তারপর 5 m পশ্চিমে হাঁটল। তার লব্ধি সরণ কত?
ধাপ ৫: বিনিময় ও সংযোজন সূত্র
গুপ্তধনের খেলায় দেখেছ ক্রম বদলালেও শেষ বিন্দু একই। নিচে চারটি ভেক্টর A, B, C, D আছে — বারবার ক্রম এলোমেলো করো আর হলুদ লব্ধি R লক্ষ করো। তারপর “প্রথম দুটি জোড়া দেখাও” চালু করো:
R = A + B + C + D · |R| = 7.07 একক, পূর্ব থেকে 45.0° — বদলায়নি।
24টি সম্ভাব্য ক্রমের 1টি দেখেছ।
বিনিময় সূত্র (commutative law): দুটি ভেক্টর যেকোনো ক্রমে যোগ করা যায়।
প্রমাণ: সামান্তরিক OACB আঁকো, যেখানে আর (সামান্তরিকের বিপরীত বাহু সমান ও সমান্তরাল)। ত্রিভুজ OAC থেকে ; ত্রিভুজ OBC থেকে । দুটিই একই কর্ণ , তাই — মান ও দিক দুটোই সমান।
সংযোজন সূত্র (associative law): তিন বা বেশি ভেক্টর যোগে যেকোনো দুটিকে আগে জুড়ে নেওয়া যায়।
প্রমাণ: , , মাথা-লেজ আঁকো। তাহলে আর । এখন এবং । দুই দিকেই ।
এই দুই সূত্র একসাথে বলে: অনেকগুলো ভেক্টর যেকোনো ক্রমে, যেকোনো দলে যোগ করলেও লব্ধি একই। গুপ্তধনের 6টি ক্রম আর ওপরের 24টি ক্রম সব একই জায়গায় শেষ হয় সেজন্যই।
বিনিময় সূত্র P + Q = Q + P আসলে কী বলে?
ধাপ ৬: বণ্টন সূত্র
কোনো ভেক্টরকে স্কেলার m দিয়ে গুণ করলে মান m গুণ হয়, আর দিক একই থাকে (m ঋণাত্মক হলে দিক উল্টে যায়)। বণ্টন সূত্র (distributive law):
প্রমাণ: , , তাই । এবার OA-কে বাড়িয়ে নাও, আর A’ থেকে AB-এর সমান্তরালে আঁকো। ত্রিভুজ OAB আর OA’B’ সদৃশ (similar) — দুই বাহু m অনুপাতে আর তাদের মাঝের কোণ সমান। তাই B’ বিন্দু OB রেখার ওপরেই, আর । অর্থাৎ ।
m(P + Q) = mP + mQ কোন সূত্র?
ধাপ ৭: বন্ধ বহুভুজ আর সাম্যাবস্থা
ত্রিভুজের বাহু একই ক্রমে নিলে যোগফল শূন্য — বহুভুজের ক্ষেত্রেও তাই। কোনো বস্তুর ওপর কয়েকটি বল (force) ক্রিয়া করছে, আর বলগুলো মাথা-লেজ সাজালে বহুভুজটি বন্ধ হয় (শেষ মাথা প্রথম লেজে ফেরে) — তাহলে লব্ধি বল শূন্য, আর বস্তুটি সাম্যাবস্থায় (equilibrium) থাকে:
দড়ি টানাটানিতে (tug-of-war) দুই দল সমান বলে বিপরীত দিকে টানলে দড়ি নড়ে না — দুই বাহুর “বহুভুজ”, যোগফল শূন্য। নিচে তিনটি বল দেওয়া আছে; চতুর্থ বল -এর মাথার বৃত্তটি টেনে (বা তীর বোতামে) এমন জায়গায় আনো যাতে বহুভুজ বন্ধ হয়:
বৃত্তটি (F₄-এর মাথা) টেনে বা তীর বোতাম দিয়ে সরাও। কোণ মাপা হচ্ছে পূর্ব (+x) দিক থেকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে। ঘরের মাপ 1 N।
বহুভুজ বন্ধ হলো হলে, যার মান N। লক্ষ করো, বাকি তিনটির লব্ধির সমান ও বিপরীত: । একে বলে সাম্যকারী বল (equilibrant)।
5 N মানের তিনটি বল একটি বিন্দুতে ক্রিয়া করছে, পরস্পরের মধ্যে 120° কোণে। লব্ধি কত?
ধাপ ৮: এবার নিজে করে দেখো
এখন তুমি নিজেই শিকল বানাবে। নিচের গবেষণাগারে:
- A, B, … বোতাম দিয়ে একটি ভেক্টর বেছে নাও; স্লাইডারে তার মান (magnitude) আর দিক (direction) ঠিক করো, অথবা তীরের মাথার বৃত্তটি টেনে আনো। দিক মাপা হয় পূর্ব (+x) থেকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে; পাশে উত্তর থেকে কোণও (bearing) দেখাবে।
- + যোগ চেপে 6টি পর্যন্ত ভেক্টর জোড়ো। হলুদ তীর R সবসময় প্রথম লেজ থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত — তার মান আর কোণ উপাংশ (components) থেকে হিসাব করা।
- ক্রম উল্টাও, সব ×2, আর স্কেল বোতাম দিয়ে সূত্রগুলো যাচাই করো; প্রতিটি পরীক্ষা খাতায় লেখো।
মাথা-লেজ যোগের গবেষণাগার
Head-to-tail vector addition labতীরের মাথার বৃত্ত টেনে আনলে মাথাটি গ্রিডে বসে যায় (½ ঘর ধাপে)। স্লাইডারে সূক্ষ্ম মান দাও।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/6- 4 km উত্তর (north) + 10 km পূর্ব (east) বানাও (1 একক = 1 km)। লব্ধির মান আর উত্তর থেকে কোণ পড়ো।
- তিনটি বল (force) বানাও যারা একটি আংটাকে (ring) সাম্যাবস্থায় রাখবে: |R| ≈ 0।
- অন্তত দুটি ভেক্টর নিয়ে “ক্রম উল্টাও” চাপো — P + Q = Q + P কি না দেখো।
- 5টি ভেক্টর বানাও যাদের যোগফল শূন্য।
- অন্তত দুটি ভেক্টর নিয়ে “সব ×2” চাপো: 2(P + Q) = 2P + 2Q?
- “অসম্পূর্ণ শিকল” চাপো: A, B, C দেওয়া আছে — D এমনভাবে ঠিক করো যাতে শিকল বন্ধ হয়।
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
শিকল বানিয়ে “খাতায় লেখো” চাপো — প্রতিটি পরীক্ষার লব্ধি এখানে জমা হবে।
বই পড়ার সময় সাবধান — এই অংশে বইয়ে বড় ভুল কম, তবে দুটি জিনিস খেয়াল রাখো:
- অধ্যায়ের সারসংক্ষেপে (summary) বিনিময় সূত্রকে বলা হয়েছে “যোগফলের মান অপরিবর্তিত থাকে”। এটি অর্ধেক কথা। আসলে ভেক্টর হিসেবে সত্য — লব্ধির মান এবং দিক দুটোই এক। শুধু মান মিললে দুটি ভেক্টর সমান হয় না।
- “ভেক্টর যোগের পাঁচটি সূত্র” (সাধারণ সূত্র, ত্রিভুজ, সামান্তরিক, বহুভুজ, উপাংশ সূত্র) বইয়ের ও বোর্ডের নিজস্ব তালিকা — পরীক্ষায় এভাবেই লেখো। তবে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে “সাধারণ সূত্র”কে সাধারণত শুধু মাথা-লেজ পদ্ধতি (head-to-tail method) বলা হয়, আর উপাংশ সূত্র আসলে ভেক্টরকে উপাংশে ভেঙে যোগ করার পদ্ধতি।
- একইভাবে বণ্টন সূত্র কঠোর অর্থে স্কেলার দিয়ে গুণের নিয়ম; বোর্ড একে যোগের সূত্রের তালিকায় রাখে, তাই MCQ-তে “বণ্টন সূত্র” দাগাও।
ঘরে বসে পরীক্ষা: সুতোর বহুভুজ
তিনটি বল সাম্যাবস্থায় থাকলে তারা সত্যিই বন্ধ ত্রিভুজ বানায় কি না, নিজে যাচাই করো।
- একটি ছোট আংটা (key ring বা চুড়ি) নাও, তাতে তিনটি সুতো বাঁধো।
- টেবিলে একটি বড় কাগজ রাখো, আংটাটি তার ওপরে। দুই বন্ধু দুটি সুতো আর তুমি তৃতীয়টি টানো (অথবা দুটি সুতো চেয়ারের পায়ায় বেঁধে নাও), যাতে আংটাটি স্থির হয়ে যায়।
- আংটা স্থির থাকা অবস্থায় কাগজে প্রতিটি সুতোর দিক বরাবর রেখা টানো।
- প্রতিটি সুতোর টান আন্দাজ করো — সবচেয়ে সহজ হলো তিনজনে সমান জোরে টানা, অথবা সুতোর মাথায় সমান ওজনের পানির বোতল ঝুলিয়ে টেবিলের কিনারা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া।
- এবার অন্য একটি কাগজে তিনটি রেখার দিকে সমান (বা টানের অনুপাতে) দৈর্ঘ্যের তীর মাথা-লেজ আঁকো। দেখবে, তীরগুলো প্রায় একটি বন্ধ ত্রিভুজ বানায় — সমান টান হলে সুতোগুলোর মাঝের কোণ প্রায় 120°।
নিরাপত্তা: রাবার ব্যান্ড বা ইলাস্টিক ব্যবহার করলে টেনে হঠাৎ ছেড়ে দিও না — ছিটকে চোখে লাগতে পারে। সুতো আঙুলে পেঁচিয়ে খুব জোরে টানবে না।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. ভেক্টর যোগের ত্রিভুজ সূত্র ও বহুভুজ সূত্র বিবৃত করো ও ব্যাখ্যা করো। (জ্ঞান/অনুধাবন)
ত্রিভুজ সূত্র: কোনো ত্রিভুজের দুটি বাহু একই ক্রমে নিলে যদি দুটি ভেক্টরের মান ও দিক নির্দেশ করে, তবে তৃতীয় বাহুটি বিপরীত ক্রমে তাদের লব্ধির মান ও দিক নির্দেশ করে। , হলে ।
বহুভুজ সূত্র: কয়েকটি ভেক্টরকে একটি বহুভুজের বাহু হিসেবে একই ক্রমে (মাথা-লেজ) সাজালে, বহুভুজের বন্ধকারী বাহুটি বিপরীত ক্রমে তাদের লব্ধি নির্দেশ করে। — প্রথম ভেক্টরের লেজ থেকে শেষ ভেক্টরের মাথা পর্যন্ত।
২. এক ব্যক্তি 4 km উত্তরে এবং পরে 10 km পূর্বে গেল। তার লব্ধি সরণ ও তার দিক নির্ণয় করো। (CKRUET 2021-22 ধরনের)
দুটি সরণ পরস্পর লম্ব, তাই
উত্তর দিকের সাথে কোণ θ হলে , তাই ।
উত্তর: 10.77 km, উত্তর দিক থেকে পূর্ব দিকে 68.2° কোণে (অর্থাৎ পূর্ব দিক থেকে 21.8° উত্তরে)। সিমুলেশনের প্রথম চ্যালেঞ্জে এটি মিলিয়ে দেখো।
৩. প্রমাণ করো যে একটি ত্রিভুজের তিনটি বাহু একই ক্রমে নিলে তাদের নির্দেশিত ভেক্টরগুলোর যোগফল শূন্য। (প্রয়োগ)
ত্রিভুজ ABC-তে ত্রিভুজ সূত্র অনুযায়ী ।
উভয় পাশে যোগ করে: ।
কিন্তু (একই মান, বিপরীত দিক), তাই ।
ভৌত অর্থ: তিনটি সমতলীয় বল এভাবে বন্ধ ত্রিভুজ বানালে বস্তুটি সাম্যাবস্থায় থাকে।
৪. MCQ: m(A + B) = mA + mB — এটি কোন সূত্র? (ক) বিনিময় (খ) সংযোজন (গ) বণ্টন (ঘ) ত্রিভুজ
(গ) বণ্টন সূত্র (distributive law)। স্কেলার m যোগফলের প্রতিটি পদে বণ্টিত হয়। ভেক্টরের দিক বদলায় না (m > 0 হলে), শুধু মান m গুণ হয় — সদৃশ ত্রিভুজ দিয়ে প্রমাণ (ধাপ ৬)।
৫. জ্যামিতিক পদ্ধতিতে প্রমাণ করো: P + Q = Q + P এবং (P + Q) + R = P + (Q + R)। (উচ্চতর দক্ষতা)
বিনিময় সূত্র: সামান্তরিক OACB আঁকো যাতে , । ত্রিভুজ OAC: ; ত্রিভুজ OBC: । ।
সংযোজন সূত্র: , , নাও। , । ত্রিভুজ OBC: ; ত্রিভুজ OAC: । ।
৬. একটি বস্তুর ওপর 3 N পূর্বমুখী, 4 N উত্তরমুখী আর 6 N পশ্চিমমুখী বল ক্রিয়া করছে। বস্তুটিকে সাম্যাবস্থায় রাখতে চতুর্থ বলটি কত হবে? (প্রয়োগ)
পূর্বকে , উত্তরকে ধরে তিন বলের লব্ধি:
সাম্যাবস্থায় বহুভুজ বন্ধ হতে হবে, তাই ।
উত্তর: 5 N, পূর্ব দিক থেকে 53.13° দক্ষিণে।