পাঠ ৬ / ৮অনুচ্ছেদ ২.৩ (মায়োসিস-২, তুলনা)

মায়োসিস-২ এবং মাইটোসিস বনাম মায়োসিসMeiosis II, and mitosis vs meiosis

মায়োসিস-১ শেষে প্রতিটি নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম সংখ্যা ইতিমধ্যে অর্ধেক — n। তাহলে কোষটি আবার ভাগ হয় কেন? নিচের নিউক্লিয়াসটি (n = 3) নিজে পরীক্ষা করে দেখো:

টেলোফেজ-১-এর নিউক্লিয়াস (telophase I nucleus)
ক্রোমোসোম (chromosomes) 3 = nক্রোমাটিড (chromatids) 6গ্যামেট হতে পারে? ?
1C2C4C
DNA = ?

ক্রোমোসোম সংখ্যা ইতিমধ্যে n = 3 — হ্যাপ্লয়েড! তাহলে কোষটি আবার ভাগ হয় কেন? আগে DNA মেপে দেখো।

উত্তর: সংখ্যা ঠিক হয়েছে, কিন্তু DNA-র পরিমাণ নয়। প্রতিটি ক্রোমোসোমে এখনো দুটি ক্রোমাটিড, আর সেগুলো আর অভিন্নও নয়। এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:

  1. মায়োসিস-১-এর পর কোষের অবস্থা — কেন আরেকটি বিভাজন
  2. মায়োসিস-২ (meiosis II)-এর চার দশা ও সাইটোকাইনেসিস-২
  3. ফলাফল: চারটি ভিন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ; শুক্রাণু বনাম ডিম্বাণু
  4. DNA আর ক্রোমোসোম সংখ্যার হিসাব — মাইটোসিস ও মায়োসিস পাশাপাশি
  5. মাইটোসিস বনাম মায়োসিস — শুদ্ধ করা তুলনা সারণি
  6. পাঠ্যক্রমের বাইরে: নন-ডিসজাংশন (nondisjunction)
  7. এবার নিজে করে দেখো — ক্রোমোসোম হিসাবরক্ষক

আগে জেনে নাও: মাইটোসিসের দশাগুলো (পাঠ ৩) আর মায়োসিস-১ (পাঠ ৫)।

ধাপ ১: মায়োসিস-১-এর পর — কেন আরেকটি বিভাজন

মনে করো, গোনার নিয়ম দুটি: ক্রোমোসোম (chromosome) = সেন্ট্রোমিয়ারের (centromere) সংখ্যা, আর ক্রোমাটিড (chromatid) = DNA অণুর সংখ্যা। DNA-র পরিমাণ মাপা হয় C-একক দিয়ে: 1C = একটি হ্যাপ্লয়েড জিনোমের DNA (মানুষে ≈ 3.2 pg)।

মায়োসিস-১-এর (টেলোফেজ-১) পর প্রতিটি নিউক্লিয়াসে:

মায়োসিস-২-এর কাজ এই সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো আলাদা করা। মাঝের বিরতিতে — ইন্টারকাইনেসিস (interkinesis) — কোনো DNA প্রতিলিপন হয় না; তাই 2C থেকে সোজা 1C।

নিজে যাচাই করো

মটরের (2n = 14) একটি কোষ সবে মায়োসিস-১ শেষ করেছে। প্রতিটি নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম, ক্রোমাটিড আর DNA কত?

ধাপ ২: মায়োসিস-২-এর দশাগুলো

মায়োসিস-২ দেখতে প্রায় মাইটোসিসের মতো — পার্থক্য শুধু এই যে কোষে n টি ক্রোমোসোম, আর আগে কোনো প্রতিলিপন হয়নি। মায়োসিস-১-এর দুটি কোষে এটি একসাথে চলে:

দশামূল ঘটনা
প্রোফেজ-২ (prophase II)খুব সংক্ষিপ্ত; নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস মিলিয়ে যায়; নতুন স্পিন্ডল (spindle) তৈরি হয়
মেটাফেজ-২ (metaphase II)একক ক্রোমোসোম (জোড়া নয়) বিষুবীয় তলে; একই ক্রোমোসোমের দুই সিস্টারের কাইনেটোকোর (kinetochore) বিপরীত মেরুর দিকে
অ্যানাফেজ-২ (anaphase II)সেন্ট্রোমিয়ারের সংযোগ (কোহেসিন, cohesin) কাটা পড়ে; সিস্টার আলাদা হয়ে মেরুর দিকে যায় — সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী V, L, J বা I আকারে
টেলোফেজ-২ (telophase II)চার মেরুতে চারটি নিউক্লিয়াস; পর্দা ও নিউক্লিওলাস ফিরে আসে; প্রতিটিতে n ক্রোমোসোম, 1C
সাইটোকাইনেসিস-২ (cytokinesis II)চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ; উদ্ভিদে পর্যায়ক্রমিক (successive) বা যুগপৎ (simultaneous) রীতিতে

ট্যাবগুলো ঘুরে দেখো। শেষ ট্যাবে দুই রীতির সাইটোকাইনেসিস তুলনা করো:

প্রোফেজ-২ (prophase II)

  • খুব সংক্ষিপ্ত; আগে কোনো DNA প্রতিলিপন হয়নি
  • নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস মিলিয়ে যায়
  • প্রতিটি কোষে নতুন স্পিন্ডল তৈরি শুরু (প্রথম স্পিন্ডলের সাথে সাধারণত সমকোণে)
নিজে যাচাই করো

মেটাফেজ-২ আর মাইটোসিসের মেটাফেজের মধ্যে আসল মিল কোনটি?

ধাপ ৩: ফলাফল — চারটি ভিন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ

একটি জনন মাতৃকোষ (meiocyte) থেকে পাওয়া যায় চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ, প্রতিটিতে 1C DNA। এরা পরস্পর থেকে এবং মাতৃকোষ থেকে জিনগতভাবে ভিন্ন, দুটি কারণে:

  1. ক্রসিংওভার — একই ক্রোমোসোমের দুই সিস্টার আলাদা নকশা পায় (উপরের হুক-এ দেখেছ);
  2. স্বাধীন বিন্যাস (independent assortment) — মেটাফেজ-১-এ প্রতিটি বাইভ্যালেন্ট স্বাধীনভাবে মুখ ঘোরায়; মানুষে 2²³ ≈ 84 লক্ষ রকম মিশ্রণ।

প্রাণীতে এই চার কোষের ভাগ্য লিঙ্গভেদে আলাদা:

শুক্রাণু তৈরি (spermatogenesis)2nnn4টি সমান কোষ → 4টিকার্যকর শুক্রাণু (sperm)বয়ঃসন্ধি থেকে আজীবন চলেডিম্বাণু তৈরি (oogenesis)2nMInMIIn1টি বড় ডিম্বাণু (egg)+ 2–3টি ছোট পোলার বডি(polar body) — অসম সাইটোকাইনেসিসছোট বৃত্ত = পোলার বডি; ড্যাশ = প্রথম পোলার বডি ভাগ হলে (সব প্রাণীতে হয় না)
একটি জনন মাতৃকোষ থেকে পুরুষে 4টি শুক্রাণু, কিন্তু নারীতে মাত্র 1টি ডিম্বাণু — বাকি নিউক্লিয়াসগুলো সামান্য সাইটোপ্লাজমসহ পোলার বডি হয়ে নষ্ট হয়, যাতে ডিম্বাণু প্রায় সব খাদ্য-সঞ্চয় পায়। মানুষে মায়োসিস-২ শেষ হয় কেবল শুক্রাণু প্রবেশের পর (নিষেকের সময়)।
নিজে যাচাই করো

100টি প্রাইমারি উসাইট আর 100টি প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইট মায়োসিস শেষ করলে মোট কয়টি ডিম্বাণু ও কয়টি শুক্রাণু হবে?

ধাপ ৪: হিসাব — DNA আর ক্রোমোসোম সংখ্যা

পুরো মায়োসিসে DNA একবার দ্বিগুণ হয়, তারপর দুবার অর্ধেক:

2C  →  S    4C  →  meiosis I    2C  →  meiosis II    1C2C \;\xrightarrow{\;S\;}\; 4C \;\xrightarrow{\;\text{meiosis I}\;}\; 2C \;\xrightarrow{\;\text{meiosis II}\;}\; 1C

ক্রোমোসোম সংখ্যা চলে অন্য পথে: 2n থেকে মায়োসিস-১-এ n — সেখানেই থাকে; শুধু অ্যানাফেজ-২-এ সাময়িকভাবে 2n (সিস্টার আলাদা হলে প্রতিটি ক্রোমাটিড নিজেই ক্রোমোসোম), তারপর প্রতি নিউক্লিয়াসে আবার n।

দশা (প্রতি কোষ; টেলোফেজের পর প্রতি নিউক্লিয়াস)ক্রোমোসোমক্রোমাটিড (DNA অণু)বাইভ্যালেন্টDNA
মায়োসিসের আগের G12n2n02C
G2 / প্রোফেজ-১ / মেটাফেজ-১2n4n0 / n / n4C
অ্যানাফেজ-১ (পুরো কোষ)2n (প্রতি মেরুতে n)4n04C
টেলোফেজ-১ / প্রোফেজ-২ / মেটাফেজ-২n2n02C
অ্যানাফেজ-২ (পুরো কোষ)2n2n02C
টেলোফেজ-২ / গ্যামেটnn01C
তুলনা: মাইটোসিসের অ্যানাফেজ4n4n04C

নিচে একটি স্লাইডার দিয়ে দুটি কোষ (2n = 4) পাশাপাশি চালাও। লক্ষ করো ঠিক কোন ধাপে পথ আলাদা হয়, আর গ্রাফ দুটি কীভাবে চলে:

মাইটোসিস (mitosis): ইন্টারফেজ G1 (interphase G1)
মায়োসিস (meiosis): ইন্টারফেজ G1 (interphase G1)

দুই কোষই G1-এ: 4টি ক্রোমোসোম, 2C।

DNA (C) — প্রতি কোষ/নিউক্লিয়াস0C1C2C3C4C12345678910ক্রোমোসোম সংখ্যা (chromosomes)0246812345678910
সবুজ ড্যাশ = মাইটোসিস · হলুদ = মায়োসিস · মডেল কোষ 2n = 4 (লাল = মাতৃ, নীল ডোরা = পিতৃ, হলুদ বৃত্ত = কায়াজমা) · টেলোফেজের পর মান প্রতি নিউক্লিয়াসে
নিজে যাচাই করো

ধানের (2n = 24) একটি কোষ অ্যানাফেজ-২-এ। পুরো কোষে ক্রোমোসোম ও DNA কত?

ধাপ ৫: মাইটোসিস বনাম মায়োসিস

বোর্ড পরীক্ষার সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্ন। নিচের সারণিটি পাঠ্যবইয়ের সারণি থেকে শুদ্ধ করা (কোন সারি বইয়ে ভুল, তা নিচের সতর্কতা বাক্সে):

বিষয়মাইটোসিস (mitosis)মায়োসিস (meiosis)
১. কোথায় ঘটেদেহকোষে (somatic cell), যেমন মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যু, ত্বকশুধু জনন মাতৃকোষে (meiocyte): শুক্রাশয়, ডিম্বাশয়, পরাগধানী, ডিম্বক
২. বিভাজনের সংখ্যাএকবারপরপর দুবার (মায়োসিস-১ ও ২)
৩. অপত্য কোষ2টি4টি
৪. ক্রোমোসোম সংখ্যাঅপত্য কোষে মাতৃকোষের সমান (2n → 2n)অর্ধেক (2n → n)
৫. DNA প্রতিলিপনএকবার, আগের ইন্টারফেজের S দশায়একবারই, মায়োসিস-১-এর আগের ইন্টারফেজের S দশায়; মায়োসিস-১ ও ২-এর মাঝে নয়
৬. প্রোফেজসরল, তুলনামূলক সংক্ষিপ্তপ্রোফেজ-১ দীর্ঘ ও জটিল — পাঁচ উপপর্যায়
৭. সিন্যাপসিস (synapsis)হয় না; বাইভ্যালেন্ট নেইজাইগোটিনে হয়; n টি বাইভ্যালেন্ট
৮. ক্রসিংওভার ও কায়াজমাস্বাভাবিকভাবে হয় নাহয় (প্যাকাইটিনে ক্রসিংওভার, ডিপ্লোটিনে কায়াজমা দেখা যায়)
৯. মেটাফেজে বিন্যাসএকক ক্রোমোসোম; সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় তলেমেটাফেজ-১-এ বাইভ্যালেন্ট জোড়ায়; দুই সমসংস্থের সেন্ট্রোমিয়ার তলের দুই পাশে
১০. সিস্টার কাইনেটোকোরদুই সিস্টার বিপরীত মেরুমুখী; অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ারের সংযোগ ভাঙেমেটাফেজ-১-এ দুই সিস্টার একই মেরুমুখী; সেন্ট্রোমিয়ারের সংযোগ টিকে থাকে মায়োসিস-২ পর্যন্ত
১১. অ্যানাফেজে মেরুতে যায়সিস্টার ক্রোমাটিডঅ্যানাফেজ-১-এ পুরো সমসংস্থ ক্রোমোসোম; অ্যানাফেজ-২-এ ক্রোমাটিড
১২. জিনগত গঠনঅপত্য কোষ মাতৃকোষের মতো অভিন্নচারটি কোষ পরস্পর ও মাতৃকোষ থেকে ভিন্ন
১৩. হ্যাপ্লয়েড কোষেহতে পারে (যেমন মসের দেহ, পুরুষ মৌমাছি)স্বাভাবিকভাবে হয় না — সমসংস্থ জোড়া লাগে
১৪. ভূমিকাবৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, অযৌন জননগ্যামেট/স্পোর তৈরি; প্রজন্মে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা; প্রকরণ (variation); মেন্ডেলের পৃথকীকরণ ও স্বাধীন বিন্যাস সূত্রের কোষীয় ভিত্তি
নিজে যাচাই করো

কোন বক্তব্যটি মাইটোসিস ও মায়োসিস দুটির ক্ষেত্রেই সত্য?

ধাপ ৬: পাঠ্যক্রমের বাইরে — যখন ভাগ ভুল হয়

পাঠ্যক্রমের বাইরে (beyond the syllabus) — তবে “মায়োসিসে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব থাকে” কথাটির গুরুত্ব বোঝায়।

কখনো কখনো একজোড়া ক্রোমোসোম ঠিকমতো আলাদা হয় না — একে বলে নন-ডিসজাংশন (nondisjunction):

  • মায়োসিস-১-এ ব্যর্থ (সমসংস্থ জোড়া এক মেরুতে): চারটি গ্যামেটই অস্বাভাবিক — দুটি n+1, দুটি n−1।
  • মায়োসিস-২-এ ব্যর্থ (একটি কোষে সিস্টার এক মেরুতে): দুটি স্বাভাবিক (n), একটি n+1, একটি n−1।
  • n+1 গ্যামেট স্বাভাবিক গ্যামেটের সাথে মিললে জাইগোট 2n+1 — ট্রাইসোমি (trisomy)। মানুষে 21 নম্বর ক্রোমোসোমের ট্রাইসোমি (47,+21) হলো ডাউন সিনড্রোম (Down syndrome) — প্রায় 700 জন্মে 1 জন; 90 %-এর বেশি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্রোমোসোমটি আসে মায়ের মায়োসিস থেকে (বেশিরভাগ মায়োসিস-১), আর মায়ের বয়স বাড়লে ঝুঁকি বাড়ে (সূত্র: NCBI MedlinePlus Genetics)।
n = 23n = 23n = 23n = 23মাতৃকোষমায়োসিস-১
একটি গ্যামেটে ট্যাপ করে স্বাভাবিক (n = 23) গ্যামেটের সাথে নিষেক করাও।

স্বাভাবিক গ্যামেট: 4 / 4

লাল = মাতৃ (maternal) · নীল ডোরা = পিতৃ (paternal) · শুধু 21 নম্বর ক্রোমোসোম দেখানো; বাকি 22টি স্বাভাবিকভাবে ভাগ হয় ধরে নেওয়া

ধাপ ৭: এবার নিজে করে দেখো — ক্রোমোসোম হিসাবরক্ষক

এখন যেকোনো জীবের যেকোনো দশার হিসাব নিজে করো:

ক্রোমোসোম হিসাবরক্ষক (chromosome accountant)

যেকোনো জীব, যেকোনো দশা — নিজে গুনে মেলাও
↗
ইন্টারফেজ G1 (interphase G1)ফলের মাছি: 2n = 8, n = 4গোনো: পুরো কোষে (per cell)

চারটি ঘর পূরণ করে “যাচাই করো” চাপো। ক্রোমোসোম = সেন্ট্রোমিয়ারের সংখ্যা; ক্রোমাটিড = DNA অণুর সংখ্যা; 1C = একটি হ্যাপ্লয়েড জিনোমের DNA।

DNA ভর (DNA mass): একটি মানুষের G1 নিউক্লিয়াসে 6.4 pg DNA। একটি শুক্রাণুতে কত pg?
নন-ডিসজাংশন (nondisjunction): কোন ব্যর্থতায় চারটি গ্যামেটের একটিও স্বাভাবিক হয় না?
ছবিটি স্কিম্যাটিক মডেল কোষ, 2n = 4 (লাল = মাতৃ, নীল ডোরা = পিতৃ, হলুদ = কাইনেটোকোর/কায়াজমা); তোমার উত্তর বেছে নেওয়া জীবের প্রকৃত সংখ্যায়।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/6
  1. মানুষের প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইট, মেটাফেজ-১: চারটি সংখ্যাই ঠিক লেখো।
  2. মানুষের সেকেন্ডারি স্পার্মাটোসাইট, মেটাফেজ-২: চারটি সংখ্যা।
  3. ফাঁদ প্রশ্ন: মানুষের একটি কোষ অ্যানাফেজ-২-এ — পুরো কোষে কয়টি ক্রোমোসোম?
  4. পেঁয়াজের মূলের কোষ, মাইটোসিসের অ্যানাফেজ: চারটি সংখ্যা।
  5. একটি G1 নিউক্লিয়াসে 6.4 pg DNA হলে একটি শুক্রাণুতে কত pg? (নিচের কার্ডে লেখো)
  6. নন-ডিসজাংশন: কোন ব্যর্থতায় একটিও স্বাভাবিক গ্যামেট হয় না?

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

“যাচাই করো” চাপলে এখানে লেখা হবে।

বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের মাইটোসিস-মায়োসিস তুলনা সারণিতে (পৃ. 97) কয়েকটি ভুল:

  • সারি ১১: “মায়োসিসে DNA রেপ্লিকেশন প্রোফেজ দশায় ঘটে” — ভুল। DNA প্রতিলিপন হয় মায়োসিস-১-এর আগের ইন্টারফেজের S দশায়, মাইটোসিসের মতোই। বই নিজেই পৃ. 90-তে বলেছে “DNA-এর দ্বিগুণ হয় প্রোফেজ-১ এর পূর্বে” — অধ্যায়ের সবচেয়ে স্পষ্ট স্ববিরোধ। (প্যাকাইটিনে ক্রসিংওভারের সময় সামান্য মেরামতি সংশ্লেষণ হয়, মোট DNA-র নগণ্য অংশ — সেটিকে প্রতিলিপন বলা যায় না।) (Campbell Ch. 13; Alberts Ch. 17)
  • সারি ৪: “মায়োসিসের পূর্বের ইন্টারফেজ ক্ষণস্থায়ী” — উল্টো। একই জীবে মায়োসিসের আগের S দশা সাধারণত মাইটোসিসের S দশার চেয়ে দীর্ঘ (Alberts Ch. 17)। এই সারিটি উত্তরে লিখো না।
  • সারি ১০ (ও পৃ. 93): “মাইটোসিসে মেটাফেজে সেন্ট্রোমিয়ারসহ ক্রোমোসোম অনুদৈর্ঘ্যে বিভক্ত হয়; মায়োসিসে মেটাফেজ-১-এ সেন্ট্রোমিয়ার অবিভক্ত থাকে” — সরলীকৃত। আসল পার্থক্য: মাইটোসিস ও মায়োসিস-২-এ দুই সিস্টার কাইনেটোকোর বিপরীত মেরুমুখী, অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ারের সংযোগ (কোহেসিন) কাটা পড়ে; মায়োসিস-১-এ দুই সিস্টার একই মেরুমুখী, আর সেন্ট্রোমিয়ারের কোহেসিন (শুগোশিন, shugoshin প্রোটিন দিয়ে) সুরক্ষিত থাকে অ্যানাফেজ-২ পর্যন্ত। বোর্ডের উত্তরে বইয়ের সরল রূপটি চলবে।
  • সারি ১৩: “মায়োসিস কখনো হ্যাপ্লয়েড কোষে হয় না” — নিয়ম হিসেবে ঠিক, তবে “স্বাভাবিকভাবে” যোগ করো: হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে মায়োসিস শুরু হয় কিন্তু জোড়া না থাকায় ব্যর্থ হয়, গ্যামেট বন্ধ্যা হয়।
  • পৃ. 95: “পৃথিবীর প্রায় সাতশ কোটি মানুষ” — এখন প্রায় 820 কোটি (UN World Population Prospects 2024)। তথ্যটি পুরনো, মূল কথা ঠিক।

ঘরে বসে পরীক্ষা

কাগজের ফিতার “ক্রোমোসোম ব্যাংক”। লাগবে: দুই রঙের কাগজ (বা পুরনো খাতার পাতা, দুই রঙের কলমে দাগানো), কাঁচি, স্ট্যাপলার, একটি খাতা।

  1. লাল কাগজের দুটি লম্বা (10 cm) আর দুটি ছোট (6 cm) ফিতা কাটো; নীল কাগজেও একই। দুটি সমান লাল ফিতা একটি স্ট্যাপল দিয়ে জুড়ে দাও — এটি দুই ক্রোমাটিডসহ একটি মাতৃ ক্রোমোসোম (স্ট্যাপল = সেন্ট্রোমিয়ার)। এভাবে মোট 4টি ক্রোমোসোম বানাও: 2n = 4।
  2. মাইটোসিস: চারটিকে একটি লাইনে রাখো, প্রতিটির স্ট্যাপল খুলে এক ফিতা বাঁয়ে, এক ফিতা ডানে সরাও। প্রতি পাশে কয়টি ক্রোমোসোম? খাতায় লেখো।
  3. আবার জুড়ে নাও। মায়োসিস-১: সমসংস্থ জোড়া (লম্বা লাল + লম্বা নীল) পাশাপাশি রাখো, একটি লাল আর একটি নীল নন-সিস্টার ফিতার মাথা কেটে বদলে টেপ দাও (ক্রসিংওভার)। এবার স্ট্যাপল না খুলে পুরো ক্রোমোসোম দুই পাশে সরাও।
  4. মায়োসিস-২: প্রতি পাশের প্রতিটি ক্রোমোসোমের স্ট্যাপল খুলে ফিতা দুটি আলাদা করো — মোট 4টি স্তূপ। প্রতিটি ধাপে ক্রোমোসোম (স্ট্যাপল + একা ফিতা), ক্রোমাটিড (ফিতা) গুনে সিমুলেশনের সাথে মেলাও। চারটি স্তূপের রঙের নকশা কি একই?

নিরাপত্তা: কাঁচি ও স্ট্যাপলার সাবধানে ব্যবহার করো; খোলা স্ট্যাপল পিন ছড়িয়ে না রেখে একটি কাগজে মুড়ে ফেলে দাও।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (প্রয়োগ, গ) মাইটোসিস ও মায়োসিসের পাঁচটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
মাইটোসিসমায়োসিস
দেহকোষে ঘটেজনন মাতৃকোষে ঘটে
একবার বিভাজন, 2টি অপত্য কোষদুবার বিভাজন, 4টি অপত্য কোষ
ক্রোমোসোম সংখ্যা অপরিবর্তিত (2n → 2n)ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক (2n → n)
সিন্যাপসিস ও ক্রসিংওভার হয় নাজাইগোটিনে সিন্যাপসিস, প্যাকাইটিনে ক্রসিংওভার
অপত্য কোষ মাতৃকোষের মতো অভিন্নঅপত্য কোষ জিনগতভাবে ভিন্ন

সাবধান: “মায়োসিসে DNA প্রোফেজে প্রতিলিপিত হয়” — এমন পার্থক্য লিখো না; দুটিতেই প্রতিলিপন হয় আগের S দশায়।

২. (MCQ গাণিতিক) একটি উদ্ভিদের মূলকোষে 20টি ক্রোমোসোম। (ক) মেটাফেজ-১-এ বাইভ্যালেন্ট, (খ) মেটাফেজ-২-এ প্রতি কোষে ক্রোমাটিড, (গ) অ্যানাফেজ-২-এ পুরো কোষে ক্রোমোসোম, (ঘ) একটি পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম কত?

উত্তর দেখো

2n = 20, n = 10। (ক) বাইভ্যালেন্ট = n = 10। (খ) মেটাফেজ-২-এ 10টি ক্রোমোসোম × 2 = 20টি ক্রোমাটিড। (গ) অ্যানাফেজ-২-এ সিস্টার আলাদা: 20টি (সাময়িক 2n)। (ঘ) পরাগরেণু হ্যাপ্লয়েড: 10টি।

৩. (গাণিতিক) মানুষের একটি G1 দেহকোষের নিউক্লিয়াসে 6.4 pg DNA। একটি প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইটের প্রোফেজ-১-এ, একটি সেকেন্ডারি স্পার্মাটোসাইটে আর একটি শুক্রাণুতে কত pg DNA?

উত্তর দেখো

G1 = 2C = 6.4 pg, তাই 1C = 3.2 pg। প্রোফেজ-১ (প্রতিলিপনের পর) = 4C = 12.8 pg; সেকেন্ডারি স্পার্মাটোসাইট (মায়োসিস-১-এর পর) = 2C = 6.4 pg; শুক্রাণু = 1C = 3.2 pg।

৪. (অনুধাবন) মায়োসিস-২ হ্রাস বিভাজনের পরে ঘটলেও একে সমীকরণিক বিভাজন (equational division) বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

মায়োসিস-২-এর শুরুতে প্রতিটি কোষে n টি ক্রোমোসোম, শেষেও প্রতিটি অপত্য কোষে n টি — ক্রোমোসোম সংখ্যা সমান থাকে। মাইটোসিসের মতোই এখানে সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়, সংখ্যা কমে না; কমে শুধু DNA-র পরিমাণ (2C → 1C)। সংখ্যা অর্ধেক হয় কেবল মায়োসিস-১-এ, তাই সেটি হ্রাস বিভাজন।

৫. (অনুধাবন) একটি প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইট থেকে 4টি শুক্রাণু হয়, কিন্তু একটি প্রাইমারি উসাইট থেকে মাত্র 1টি ডিম্বাণু — কেন?

উত্তর দেখো

উসাইটের দুটি মায়োটিক বিভাজনেই সাইটোকাইনেসিস অসম: প্রায় সব সাইটোপ্লাজম একটি কোষ পায় (সেকেন্ডারি উসাইট, পরে ডিম্বাণু), আর অন্যটি সামান্য সাইটোপ্লাজমসহ ছোট পোলার বডি হয়ে নষ্ট হয়। এতে ডিম্বাণু ভ্রূণের প্রথম বিকাশের জন্য যথেষ্ট খাদ্য-সঞ্চয় পায়। শুক্রাণু তৈরিতে চারটি কোষই সমান ও কার্যকর।

৬. (উচ্চতর দক্ষতা, ঘ) “মায়োসিস না হলে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেত” — বিশ্লেষণ করো।

উত্তর দেখো
  • সংখ্যা স্থির রাখা: গ্যামেট মাইটোসিসে তৈরি হলে মানুষের জাইগোটে 92, পরের প্রজন্মে 184 … প্রতি প্রজন্মে দ্বিগুণ — কোষ এত DNA সামলাতে পারত না। মায়োসিসে গ্যামেট n (23) পায়, নিষেকে 23 + 23 = 46 — সংখ্যা ধ্রুব থাকে।
  • প্রকরণ (variation): ক্রসিংওভার আর স্বাধীন বিন্যাস (মানুষে 2²³ রকম) প্রতিটি গ্যামেটকে আলাদা করে; প্রকরণ ছাড়া পরিবেশ বদলালে প্রজাতি খাপ খাওয়াতে পারত না, প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করত না।
  • নন-ডিসজাংশনের উদাহরণ দেখায় যে একটিমাত্র ক্রোমোসোম বেশি-কম হলেই (যেমন ট্রাইসোমি 21) গুরুতর সমস্যা — পুরো সেট দ্বিগুণ হতে থাকলে জীবন টিকত না।
  • তাই যৌন জননকারী জীবের অস্তিত্ব আর বিবর্তন দুটোই মায়োসিসের ওপর নির্ভরশীল।