পাঠ ৩ / ৮অনুচ্ছেদ ২.২ (ক্যারিওকাইনেসিস, সাইটোকাইনেসিস)

মাইটোসিসের ধাপ: ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিসStages of mitosis: karyokinesis & cytokinesis

তোমার ত্বকের নিচের স্তরে প্রতি সেকেন্ডে হাজারো কোষ ভাগ হচ্ছে, আর প্রতিটি নতুন কোষ পাচ্ছে হুবহু একই 46টি ক্রোমোসোম। কীভাবে? নিচের কোষে চারটি আলাদা ক্রোমোসোম আছে। এগুলোতে ট্যাপ করে দুই কোষে এমনভাবে ভাগ করো যাতে দুই কোষই পুরো সেট পায়:

বাম কোষ (left) 0/4ডান কোষ (right) 0/4
লাল = মাতৃ (maternal) · নীল ডোরা = পিতৃ (paternal) · লম্বা ও খাটো দুই জোড়া
একটি ক্রোমোসোমে ট্যাপ করো: প্রথম ট্যাপে বাম কোষে, আবার ট্যাপে ডান কোষে যাবে।

একটি করে কপি থাকলে কাজটি অসম্ভব। কোষের কৌশল: আগে সব কপি করো, তারপর প্রতিটির একটি কপি একেক দিকে টানো। এই টানাটানির নিখুঁত নাচটিই মাইটোসিস (mitosis)।

এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:

  1. মাইটোসিস কী — ক্যারিওকাইনেসিস (karyokinesis) ও সাইটোকাইনেসিস (cytokinesis); ক্রোমোসোম না ক্রোমাটিড?
  2. প্রোফেজ (prophase) — ক্রোমোসোম দৃশ্যমান হয়, স্পিন্ডল গড়ে
  3. প্রোমেটাফেজ (prometaphase) — আবরণী ভাঙে, কাইনেটোকোরে তন্তু লাগে
  4. মেটাফেজ (metaphase) — বিষুবীয় তলে সারি, চেকপয়েন্ট
  5. অ্যানাফেজ (anaphase) — সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে দুই মেরুতে
  6. টেলোফেজ (telophase) — দুটি নতুন নিউক্লিয়াস
  7. সাইটোকাইনেসিস — কোষপ্লেট বনাম বিদারণ খাঁজ; মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য
  8. এবার নিজে করে দেখো — মাইটোসিস স্টেপার

আগে জেনে নাও: অ্যামাইটোসিস আর কোষ বিভাজনের ধরন (পাঠ ১), আর কোষচক্র ও ইন্টারফেজ — বিশেষ করে S দশায় DNA প্রতিলিপন (পাঠ ২)।

ধাপ ১: মাইটোসিস কী — আর ক্রোমোসোম গোনার নিয়ম

মাইটোসিস হলো সমীকরণিক বিভাজন (equational division): একটি নিউক্লিয়াস ভাগ হয়ে দুটি জিনগতভাবে অভিন্ন নিউক্লিয়াস হয়, প্রত্যেকটিতে মাতৃকোষের সমান ক্রোমোসোম (2n→2n2n \to 2n)। এর দুই অংশ:

কোথায় হয়? উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যুতে (apical meristem), ক্যাম্বিয়ামে (cambium); প্রাণীর দেহকোষে — ত্বকের নিচের স্তর, অন্ত্রের আবরণী, অস্থিমজ্জা (bone marrow)।

মাইটোসিস শুরুর আগেই, ইন্টারফেজের S দশায়, প্রতিটি DNA অণু কপি হয়ে গেছে। তাই G2-তে প্রতিটি ক্রোমোসোম দুটি অভিন্ন সিস্টার ক্রোমাটিড (sister chromatids), সেন্ট্রোমিয়ারে (centromere) জোড়া। গোনার নিয়ম একটাই: যতগুলো সেন্ট্রোমিয়ার, ততগুলো ক্রোমোসোম; আর ক্রোমাটিড মানে DNA অণু। নিচের ছবিগুলোতে গুনে দেখো:

এই ছবিতে কয়টি ক্রোমোসোম (chromosomes)?
ছবি বেছে নাও, তারপর সংখ্যা চাপো। (0/6)
12345
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ দাগ = কাইনেটোকোর · সংখ্যায় ট্যাপ করো
হলুদ সংখ্যাগুলোতে (5টি) ট্যাপ করে প্রতিটি অংশের নাম ও কাজ দেখো।
নিজে যাচাই করো

G2 দশায় মানুষের একটি কোষে কয়টি ক্রোমোসোম আর কয়টি ক্রোমাটিড?

ধাপ ২: প্রোফেজ — ক্রোমোসোম দৃশ্যমান হয়

Pro = আগে। প্রোফেজে:

প্রোফেজ সাধারণত মাইটোসিসের দীর্ঘতম ধাপ: পেঁয়াজের মূলে (25 °C) মাইটোসিসের 137 মিনিটের মধ্যে প্রোফেজ প্রায় 64 মিনিট। সংখ্যায় ট্যাপ করে প্রতিটি অংশ চিনে নাও, প্রাণী/উদ্ভিদ বদলে তুলনা করো:

12345
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ দাগ = কাইনেটোকোর · সংখ্যায় ট্যাপ করো
হলুদ সংখ্যাগুলোতে (5টি) ট্যাপ করে প্রতিটি অংশের নাম ও কাজ দেখো।
নিজে যাচাই করো

প্রোফেজে ক্রোমোসোম খাটো ও মোটা হয় মূলত কেন?

ধাপ ৩: প্রোমেটাফেজ — আবরণী ভাঙে, তন্তু খোঁজে

123456
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ দাগ = কাইনেটোকোর · সংখ্যায় ট্যাপ করো
হলুদ সংখ্যাগুলোতে (6টি) ট্যাপ করে প্রতিটি অংশের নাম ও কাজ দেখো।
নিজে যাচাই করো

স্পিন্ডল তন্তু ক্রোমোসোমের কোন অংশে লাগে?

ধাপ ৪: মেটাফেজ — বিষুবীয় তলে সারি

Meta = পরে/মাঝে। প্রতিটি ক্রোমোসোমের দুই সিস্টার কাইনেটোকোর এখন বিপরীত দুই মেরুর তন্তুতে বাঁধা; দুই দিকের সমান টানে সব সেন্ট্রোমিয়ার দুই মেরুর ঠিক মাঝের বিষুবীয় তলে (metaphase / equatorial plate) সারি বাঁধে — একে বলে মেটাকাইনেসিস (metakinesis)।

ক্রোমোসোম এখন সবচেয়ে ঘন ও স্পষ্ট, তাই ক্রোমোসোম গোনা ও ক্যারিওটাইপ (karyotype) তৈরির সেরা সময় মেটাফেজ। কোষের একটি পাহারাদার — স্পিন্ডল-সংযোজন চেকপয়েন্ট (spindle-assembly checkpoint) — একটিও ক্রোমোসোম ঠিকমতো না বাঁধা পর্যন্ত অ্যানাফেজ শুরু করতে দেয় না।

1234567
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ দাগ = কাইনেটোকোর · সংখ্যায় ট্যাপ করো
হলুদ সংখ্যাগুলোতে (7টি) ট্যাপ করে প্রতিটি অংশের নাম ও কাজ দেখো।
নিজে যাচাই করো

পেঁয়াজের (2n = 16) মেটাফেজ কোষে কয়টি ক্রোমাটিড?

ধাপ ৫: অ্যানাফেজ — সিস্টাররা আলাদা হয়

Ana (গ্রিক) = উপরে / পেছনে / আবার — দুই দিকে সরে যাওয়ার ধাপ। চেকপয়েন্ট সবুজ হলে APC/C নামের প্রোটিন সেপারেজ (separase) এনজাইমকে চালু করে; সেপারেজ সিস্টার ক্রোমাটিড আটকে রাখা কোহেসিন (cohesin) কেটে দেয়। (বোর্ডের ভাষায়: “সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়”।) প্রতিটি ক্রোমাটিড এখন একটি অপত্য ক্রোমোসোম (daughter chromosome), আর ক্রোমোসোমাল তন্তু খাটো হয়ে তাকে মেরুর দিকে টানে — সেন্ট্রোমিয়ার আগে, বাহু পেছনে।

তাই সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান ঠিক করে অ্যানাফেজের আকৃতি: মেটাসেন্ট্রিক V, সাবমেটাসেন্ট্রিক L, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক J, টেলোসেন্ট্রিক I। স্লাইডারে সেন্ট্রোমিয়ার সরিয়ে টেনে দেখো:

বিষুবীয় তল (plate)মেরু (pole)এখনো সোজা (straight)
বাহুর অনুপাত (arm ratio) q/p1.00
ধরন (type)মেটাসেন্ট্রিক (metacentric)
অ্যানাফেজে আকৃতি (shape)V

এক মুহূর্তের জন্য কোষে ক্রোমোসোম দ্বিগুণ — মানুষের কোষে 92টি (প্রতিটিতে একটি করে DNA অণু)। অ্যানাফেজ সবচেয়ে ছোট ধাপ (পেঁয়াজে প্রায় 13 মিনিট): সেপারেজ একসঙ্গে সব কোহেসিন কেটে দেয়, আর ফেরার পথ নেই।

123456
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ দাগ = কাইনেটোকোর · সংখ্যায় ট্যাপ করো
হলুদ সংখ্যাগুলোতে (6টি) ট্যাপ করে প্রতিটি অংশের নাম ও কাজ দেখো।
নিজে যাচাই করো

মানুষের একটি কোষে অ্যানাফেজে কয়টি ক্রোমোসোম থাকে?

ধাপ ৬: টেলোফেজ — দুটি নতুন নিউক্লিয়াস

Telo = শেষ। দুই মেরুতে পৌঁছে ক্রোমোসোম আবার ঢিলে হয় (decondense), তাদের ঘিরে নতুন নিউক্লিয়ার আবরণী গড়ে, SAT ক্রোমোসোমের নিউক্লিওলার অর্গানাইজারে নিউক্লিওলাস ফিরে আসে, আর স্পিন্ডল মিলিয়ে যায়। প্রোফেজের ঘটনাগুলো যেন উল্টো দিকে চলে। প্রতিটি নিউক্লিয়াসে এখন 2n2n ক্রোমোসোম, 2C2C DNA।

1234
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ দাগ = কাইনেটোকোর · সংখ্যায় ট্যাপ করো
হলুদ সংখ্যাগুলোতে (4টি) ট্যাপ করে প্রতিটি অংশের নাম ও কাজ দেখো।
নিজে যাচাই করো

নিচের কোনটি টেলোফেজে ঘটে না?

ধাপ ৭: সাইটোকাইনেসিস — দুই উপায়ে ভাগ

নিউক্লিয়াস ভাগ হলেই কাজ শেষ নয়; সাইটোপ্লাজমও ভাগ হতে হবে।

উদ্ভিদ: ফ্র্যাগমোপ্লাস্টের (phragmoplast) মাইক্রোটিউবিউল গলজি বস্তু (Golgi) থেকে আসা ভেসিকেল মাঝখানে আনে; সেগুলো জুড়ে কোষপ্লেট (cell plate) মাঝ থেকে বাইরের দিকে বাড়ে আর শেষে পুরোনো প্রাচীরে মেলে। শক্ত প্রাচীর থাকায় খাঁজ সম্ভব নয়।

ক্যারিওকাইনেসিস হলো কিন্তু সাইটোকাইনেসিস হলো না — তখন একটি কোষে অনেক নিউক্লিয়াস: মুক্ত নিউক্লিয় বিভাজন (free-nuclear division), যেমন ডাবের পানি (তরল এন্ডোস্পার্ম, liquid endosperm); বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত শৈবাল ও ছত্রাক (Vaucheria, Rhizopus)। প্রাণীর কঙ্কাল পেশিতন্তু অনেক কোষ জুড়ে তৈরি — একে বলে সিনসিশিয়াম (syncytium)।

বিষয়ক্যারিওকাইনেসিস (karyokinesis)সাইটোকাইনেসিস (cytokinesis)
কী ভাগ হয়নিউক্লিয়াসসাইটোপ্লাজম
কখনপ্রোফেজ → টেলোফেজটেলোফেজের শেষে বা পরে
মূল যন্ত্রস্পিন্ডল (মাইক্রোটিউবিউল)উদ্ভিদে ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট ও কোষপ্লেট; প্রাণীতে অ্যাকটিন-মায়োসিন বলয়
এটি ছাড়া কী হয়কোষ ভাগই শুরু হয় নাবহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ

মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য: (১) একবার ক্রোমোসোম ভাগ, একবার নিউক্লিয়াস ভাগ; (২) দুটি অপত্য কোষ, ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান; (৩) অপত্য কোষ জিনগতভাবে মাতৃকোষের মতো (ক্রসিং ওভার হয় না); (৪) দেহকোষ ও ভাজক টিস্যুতে ঘটে — বৃদ্ধি, ক্ষতপূরণ, অযৌন জনন; (৫) সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড় বাঁধে না। মনে রাখার কৌশল IPMAT (Interphase, Prophase, Metaphase, Anaphase, Telophase) — তবে মনে রেখো, ইন্টারফেজ মাইটোসিসের অংশ নয়, আর প্রোমেটাফেজ বাদ পড়ে।

1234
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ দাগ = কাইনেটোকোর · সংখ্যায় ট্যাপ করো
হলুদ সংখ্যাগুলোতে (4টি) ট্যাপ করে প্রতিটি অংশের নাম ও কাজ দেখো।
নিজে যাচাই করো

উদ্ভিদকোষে বিদারণ খাঁজ তৈরি হয় না কেন?

এবার নিজে করে দেখো

নিচের কোষে (2n = 4: লম্বা এক জোড়া, খাটো এক জোড়া) ঘটনাগুলো ঠিক ক্রমে নিজে ঘটাও। ভুল ক্রমে চাপলে সিম তোমাকে থামাবে। আবরণী ভাঙার পর প্রতিটি হলুদ কাইনেটোকোরে ট্যাপ করো (এক ট্যাপ = কাছের মেরু, আবার ট্যাপ = অন্য মেরু); চেকপয়েন্টের বাতি সবুজ হলে অ্যানাফেজ চালু করো। উপরের ঘর দেখায় কোষে ও নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম, ক্রোমাটিড আর DNA। মানুষ বা পেঁয়াজে বদলে সংখ্যা মেলাও, “খাতায় লেখো” চেপে টেবিল বানাও, আর “ধাপ চেনো” মোডে 10টি ছবির কুইজ দাও।

মাইটোসিস ধাপে ধাপে

Mitosis stepper — do each event yourself, watch the counts
↗
ইন্টারফেজ G2 (interphase G2)
ক্রোমোসোম / কোষ (per cell)4
DNA অণু / ক্রোমাটিড (per cell)8
DNA পরিমাণ (per cell)4C
প্রতি নিউক্লিয়াসে (per nucleus)4 · 4C
লাল = মাতৃ (M) · নীল ডোরা = পিতৃ (P) · হলুদ = কাইনেটোকোর
প্রথম কাজটি বেছে নাও — কোষ এখন ইন্টারফেজের G2 দশায়; DNA আগেই কপি হয়েছে।
নিয়ম ভাঙা (rule breaks): 0

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

“খাতায় লেখো” চাপলে এই ধাপের গণনা এখানে জমা হবে।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/6
  1. কোনো নিয়ম না ভেঙে একটি পুরো মাইটোসিস শেষ করো।
  2. একটি ক্রোমোসোমের দুই সিস্টার কাইনেটোকোরই একই মেরুতে জুড়ে অ্যানাফেজ চাপো। চেকপয়েন্ট কী করে?
  3. মডেল কোষে (2n = 4) কোন ধাপে কোষে 8টি ক্রোমোসোম থাকে? সেখানে পৌঁছাও।
  4. পেঁয়াজে (2n = 16) বদলাও: মেটাফেজে কয়টি ক্রোমাটিড, অ্যানাফেজে কয়টি ক্রোমোসোম? (0/2)
  5. ধাপ চেনার কুইজে 10-এ অন্তত 8 পাও।
  6. একটি উদ্ভিদকোষকে পুরো ভাগ করো। এটি খাঁজ কেটে ভাগ হয় না কেন?

বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে:

  • প্রোফেজে ক্রোমোসোম “দুটি সূত্রে বিভক্ত হয়” (পৃ. 84): সিস্টার ক্রোমাটিড তৈরি হয় S দশায় DNA প্রতিলিপনে; প্রোফেজে তারা কেবল ঘন হয়ে দৃশ্যমান হয় (Campbell, অধ্যায় 12)। বই নিজেই ইন্টারফেজ অংশে বলেছে DNA দ্বিগুণ হয় S দশায়।
  • ঘনীভবন “জল-বিয়োজন”, ঢিলে হওয়া “জলযোজন” (পৃ. 84–86, 90): আসল কারণ কনডেনসিন প্রোটিন ও CDK1-এর ফসফোরাইলেশন (Alberts, অধ্যায় 17)। বোর্ডে বইয়ের কথা লিখলে নম্বর কাটবে না, কিন্তু আসল কারণ জেনে রাখো।
  • “মেটাফেজের শেষে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়” (পৃ. 85): সিস্টারদের আটকে রাখে কোহেসিন; অ্যানাফেজের শুরুতে সেপারেজ কোহেসিন কাটে। বোর্ডের উত্তর: “সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়”।
  • ana = গতি (পৃ. 85): গ্রিক ana মানে উপরে / পেছনে / আবার।
  • “এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট” (পৃ. 86): ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট হলো মাইক্রোটিউবিউল (ও অ্যাকটিন) কাঠামো, স্পিন্ডলের অবশেষ থেকে; কোষপ্লেটের উপাদান আনে গলজি বস্তুর ভেসিকেল, ER নয়।
  • বহু-নিউক্লিয়াস প্রাণীকোষকে “প্লাজমোডিয়াম” (পৃ. 86): প্রাণীতে সঠিক শব্দ সিনসিশিয়াম (syncytium); “প্লাজমোডিয়াম” স্লাইম মোল্ডের জন্য (আর ম্যালেরিয়া জীবাণুর গণের নামও)। বোর্ডের উত্তর: বইয়ের শব্দ।
  • “ক্যারিওকাইনেসিস” শব্দটি Schleicher দেন 1878 সালে (বইয়ে 1879)।

ঘরে বসে পরীক্ষা

পাইপ-ক্লিনার বা মোজায় মাইটোসিস। দুই রঙের পাইপ-ক্লিনার (বা সুতা/মোজা) নাও — লাল = মাতৃ, নীল = পিতৃ। প্রতি রঙে একটি লম্বা আর একটি খাটো “ক্রোমোসোম” বানাও; S দশার পর প্রতিটি “ক্রোমোসোম” = দুটি একই রকম টুকরা মাঝখানে একটি পুঁতি (সেন্ট্রোমিয়ার) দিয়ে মোচড়ানো। একটি কাগজে বড় একটি কোষ, দুই মেরু আর মাঝের তল আঁকো। এবার প্রোফেজ (এলোমেলো), মেটাফেজ (তলে সারি, প্রতিটির দুই সিস্টার দুই দিকে মুখ করে), অ্যানাফেজ (পুঁতি খুলে প্রতিটি টুকরা নিজের দিকে, পুঁতির দিক আগে) আর টেলোফেজ সাজাও; প্রতিটির ছবি তোলো। প্রতিটি ছবিতে পুঁতি (সেন্ট্রোমিয়ার) গুনে ক্রোমোসোম সংখ্যা লেখো — অ্যানাফেজে কেন দ্বিগুণ হলো?

নিরাপত্তা: পাইপ-ক্লিনারের তারের মাথা ধারালো হতে পারে — কেটে ফেলা প্রান্ত ভেতরে মুড়ে দাও। ছোট ভাইবোনের নাগালে পুঁতি রেখো না (গিলে ফেলার ঝুঁকি)।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (সৃজনশীল গ-ধরনের) একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে: নিউক্লিয়ার আবরণী নেই, সব ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার কোষের মাঝখানে এক সারিতে, দুই দিক থেকে তন্তু এসে লেগেছে। ধাপটি শনাক্ত করো ও দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর দেখো

মেটাফেজ। (১) প্রতিটি ক্রোমোসোমের দুই সিস্টার কাইনেটোকোর বিপরীত দুই মেরুর ক্রোমোসোমাল তন্তুতে বাঁধা, ফলে সেন্ট্রোমিয়ারগুলো বিষুবীয় তলে সারি বাঁধে (মেটাকাইনেসিস)। (২) ক্রোমোসোম সবচেয়ে ঘন ও খাটো, তাই গোনা ও ক্যারিওটাইপের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। (এ ছাড়া: নিউক্লিওলাস ও আবরণী নেই; স্পিন্ডল চেকপয়েন্ট সব সংযোগ যাচাই করে।)

২. (অনুধাবন) ক্রোমোসোম গোনার জন্য মেটাফেজ সবচেয়ে ভালো কেন? অ্যানাফেজ এত ছোট কেন?

উত্তর দেখো

মেটাফেজে ক্রোমোসোম সর্বোচ্চ ঘনীভূত, আলাদা আলাদা, আর এক তলে সাজানো — তাই একে একে গোনা যায়; কলচিসিন দিয়ে কোষকে মেটাফেজে আটকে ক্যারিওটাইপ করা হয়। অ্যানাফেজ শুরু হয় যখন সেপারেজ একসঙ্গে সব কোহেসিন কেটে দেয় — এটি একমুখী, দ্রুত ঘটনা; তারপর তন্তু খাটো হয়ে ক্রোমোসোম মেরুতে পৌঁছাতে অল্প সময় লাগে (পেঁয়াজে প্রায় 13 মিনিট, প্রোফেজের 64 মিনিটের তুলনায়)।

৩. (বহুনির্বাচনি) একটি প্রাণীর দেহকোষে 2n = 24। মাইটোসিসের অ্যানাফেজে একটি কোষে ক্রোমোসোম ও ক্রোমাটিড (DNA অণু) কত? (ক) 24, 48 (খ) 48, 48 (গ) 24, 24 (ঘ) 48, 96

উত্তর দেখো

(খ)। অ্যানাফেজে প্রতিটি ক্রোমাটিড আলাদা সেন্ট্রোমিয়ারসহ একটি ক্রোমোসোম: ক্রোমোসোম 2×24=482 \times 24 = 48, প্রতিটিতে একটি DNA অণু, তাই ক্রোমাটিডও 48 (DNA 4C)। (ক) মেটাফেজের সংখ্যা।

৪. (বহুনির্বাচনি) পেঁয়াজের (2n = 16) মূলের কোষে প্রোফেজ, মেটাফেজ ও টেলোফেজের প্রতিটি নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম সংখ্যা যথাক্রমে — (ক) 16, 16, 16 (খ) 16, 32, 16 (গ) 32, 32, 16 (ঘ) 16, 16, 8

উত্তর দেখো

(ক)। প্রোফেজ ও মেটাফেজে 16টি ক্রোমোসোম (প্রতিটি দুই ক্রোমাটিড, তাই 32 ক্রোমাটিড); টেলোফেজে প্রতিটি নিউক্লিয়াসে আবার 16 (প্রতিটি এক ক্রোমাটিড)। পুরো কোষে কেবল অ্যানাফেজে 32।

৫. (তুলনা) উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের সাইটোকাইনেসিসের তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
উদ্ভিদকোষপ্রাণীকোষ
কোষপ্লেট (cell plate) গড়ে, মাঝ থেকে বাইরের দিকে বাড়েবিদারণ খাঁজ (cleavage furrow) বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকে
ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট গলজি ভেসিকেল আনেঅ্যাকটিন-মায়োসিন সংকোচী বলয় টানে
সেন্ট্রিওল ও অ্যাস্টার নেইসেন্ট্রিওল ও অ্যাস্টার আছে

৬. (জ্ঞান) সংজ্ঞা দাও: মেটাকাইনেসিস, আকর্ষণ তন্তু, কোষপ্লেট, মুক্ত নিউক্লিয় বিভাজন। “ডাবের পানি কোন প্রক্রিয়ার ফল?”

উত্তর দেখো

মেটাকাইনেসিস — মেটাফেজে সব ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় তলে সারিবদ্ধ হওয়া। আকর্ষণ তন্তু — মেরু থেকে কাইনেটোকোর পর্যন্ত মাইক্রোটিউবিউল, যা অ্যানাফেজে ক্রোমাটিড টানে। কোষপ্লেট — উদ্ভিদের সাইটোকাইনেসিসে গলজি ভেসিকেল জুড়ে তৈরি প্রাচীর-পূর্ব পর্দা। মুক্ত নিউক্লিয় বিভাজন — বারবার ক্যারিওকাইনেসিস, কিন্তু সাইটোকাইনেসিস ছাড়া, ফলে বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ। ডাবের পানি (তরল এন্ডোস্পার্ম) মুক্ত নিউক্লিয় বিভাজনের ফল।