পাঠ ১ / ১০অনুচ্ছেদ ১.১–১.১.১
ল্যাবরেটরির নিয়ম ও সুরক্ষা পোশাকLab rules & personal protective equipment
রসায়ন ল্যাবে প্রথম দিন। আজকের কাজ: গাঢ় সালফিউরিক এসিড (concentrated sulfuric acid, H₂SO₄) পানিতে মিশিয়ে লঘু (dilute) করা। নিয়ম মেনে করলেও এক-আধ ফোঁটা ছিটকে উঠতেই পারে। নিচের ছাত্রীটিকে নিজে সাজাও, তারপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখো ছিটা কোথায় কোথায় লাগে:
- নিচের বোতামে চাপ দিয়ে ছাত্রীকে ল্যাবের পোশাক পরাও — যা যা দরকার মনে হয়।
- “পরীক্ষা শুরু” চাপো: গাঢ় H₂SO₄ পানিতে ঢালার সময় ছিটা লাগলে কী হয় দেখো।
- এমনভাবে সাজাও যেন একটি ফোঁটাও শরীরে না লাগে।
- মাস্ক পরে চালিয়ে দেখো — মাস্ক কি কোনো ফোঁটা আটকাল?
কোন জিনিসটা শরীরের কোন অংশ বাঁচাল? আর মাস্কটা কেন কিছুই করল না? এই পাঠ শেষে তুমি শুধু “কী পরতে হয়” নয়, কেন পরতে হয় আর কোনটা কোন কাজে লাগে তা নিজেই বলতে পারবে। ধাপে ধাপে এগোব:
- ল্যাব কেন ঝুঁকিপূর্ণ — বিপদ (hazard) আর ঝুঁকি (risk); রাসায়নিক শরীরে ঢোকার পথ (routes of exposure)
- নিয়ন্ত্রণের স্তরক্রম (hierarchy of controls) — সুরক্ষা পোশাক কেন শেষ ঢাল
- ল্যাব কোট বা অ্যাপ্রন (lab coat / apron)
- চোখের সুরক্ষা — সেফটি চশমা (safety glasses) বনাম গগলস (goggles)
- গ্লাভস (gloves) — কোন রাসায়নিকে কোন উপাদান
- মাস্ক (mask) বনাম ফিউম হুড (fume hood)
- জুতা, চুল, পোশাক আর বায়ু চলাচল (ventilation)
- ল্যাবে আচরণের সোনালি বিধি (golden rules)
- এবার নিজে করে দেখো — ল্যাবের ছবিতে বিপদ খোঁজা আর PPE বাছাই
ধাপ ১: ল্যাব কেন ঝুঁকিপূর্ণ — বিপদ আর ঝুঁকি
দুটি শব্দ প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়:
- বিপদ (hazard) — কোনো জিনিসের ক্ষতি করার ক্ষমতা। গাঢ় H₂SO₄ ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে, ইথার (ether) সহজে জ্বলে, ভাঙা কাচ কাটে। বিপদ জিনিসটার নিজের ধর্ম — একে বদলানো যায় না।
- ঝুঁকি (risk) — সেই ক্ষতি সত্যিই ঘটার সম্ভাবনা আর তীব্রতা। এটা নির্ভর করে তুমি জিনিসটার কতটা সংস্পর্শে (exposure) আসছ তার ওপর।
সহজ করে মনে রাখার সূত্র:
তাকে ছিপি আঁটা গাঢ় এসিডের বোতল ভয়ংকর (hazard বেশি), কিন্তু কারও ক্ষতি করছে না (exposure প্রায় শূন্য)। ল্যাবের সব নিয়মের লক্ষ্য একটাই — সংস্পর্শ কমানো। নিজে মিলিয়ে দেখো:
মান 1–5 আর রং-সীমা একটি প্রচলিত 5 × 5 ঝুঁকির ছকের (risk matrix) নিয়ম — মাপা সংখ্যা নয়, ভাবনার কাঠামো।
- গাঢ় H₂SO₄ সবচেয়ে বিপজ্জনক (hazard 5), অথচ তাকে বন্ধ বোতলে ঝুঁকি মাত্র 5 — কেন?
- এবার একই এসিড খোলা বেঞ্চে, চশমা-গ্লাভস ছাড়া বা ছিটকে পড়া অবস্থায় দেখো।
- পানি চোখে ছিটলেও ঝুঁকি কত? বিপদ (hazard) কম হলে সংস্পর্শে ঝুঁকিও কম।
- এসিড বদলাতে না পারলে সংস্পর্শ (exposure) কমিয়ে ঝুঁকি নামাও — ফিউম হুড আর PPE।
রাসায়নিক শরীরে ঢোকে মাত্র কয়েকটি পথে। প্রতিটি সুরক্ষা ব্যবস্থা এর এক-একটি পথ বন্ধ করে:
- চোখ (eyes) — ছিটা, ধোঁয়া
বন্ধ করে: গগলস (goggles) - শ্বাসে (inhalation) — গ্যাস, বাষ্প, গুঁড়া
বন্ধ করে: ফিউম হুড (fume hood) - গিলে (ingestion) — খাওয়া, মুখে পিপেট
বন্ধ করে: নিয়ম: খাওয়া নিষেধ, পিপেট ফিলার - ত্বক (skin) — ছিটা, ভেজা জামা
বন্ধ করে: কোট, গ্লাভস - কেটে (injection) — ভাঙা কাচ, সুচ
বন্ধ করে: সাবধানে ধরো, ভাঙা কাচ আলাদা পাত্রে
সবচেয়ে বিপজ্জনক রাসায়নিকটি নিয়েও কীভাবে ঝুঁকি কম রাখা যায়?
ধাপ ২: নিয়ন্ত্রণের স্তরক্রম — PPE শেষ ঢাল
ঝুঁকি কমানোর উপায়গুলো সমান শক্তিশালী নয়। শিল্প আর ল্যাবের নিরাপত্তায় এগুলো একটি ক্রমে সাজানো হয় — একে বলে নিয়ন্ত্রণের স্তরক্রম (hierarchy of controls)। যত ওপরে, তত কার্যকর:
লক্ষ করো, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (personal protective equipment, PPE) — কোট, গগলস, গ্লাভস — সবচেয়ে নিচে। কারণ PPE বিপদকে সরায় না; শুধু তোমার আর বিপদের মাঝে একটা পাতলা পর্দা রাখে। ভুল গ্লাভস, গলায় ঝোলানো গগলস বা খোলা বোতামের কোট — একটু অবহেলাতেই সুরক্ষা শেষ। তাই প্রশ্নের ক্রম হওয়া উচিত: এই বিপজ্জনক কাজটা কি বাদ দেওয়া যায়? কম ক্ষতিকর কিছু দিয়ে করা যায়? হুডে করা যায়? — আর সবশেষে, কী পরব?
কোনো পরীক্ষায় বিষাক্ত গ্যাস বের হয়। নিচের কোনটি সবচেয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ?
ধাপ ৩: ল্যাব কোট বা অ্যাপ্রন
ল্যাব কোট (lab coat) বা অ্যাপ্রন (apron) শরীর আর নিজের জামাকে রাসায়নিকের ছিটা থেকে বাঁচায়। এর আসল সুবিধা: কোটে এসিড পড়লে কোটটা কয়েক সেকেন্ডে খুলে ফেলা যায় — ভেজা জামা খোলা অনেক কঠিন। তাই কোট হতে হবে:
- পুরো হাতা, কবজি পর্যন্ত (long sleeves to the wrist) — বোতল ধরা হাতের কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত জায়গাটাতেই সবচেয়ে বেশি ছিটা পড়ে;
- হাঁটু পর্যন্ত লম্বা (knee length) আর বোতাম লাগানো (buttoned) — খোলা কোট সামনের দিক রক্ষা করে না, আর ঝুলে থাকা প্রান্ত শিখায় লাগতে পারে;
- সুতি (cotton) বা অগ্নিরোধী (flame-resistant) কাপড় — বেশি ঢিলা নয়।
সিনথেটিক কাপড় কেন নয়? পলিয়েস্টার (polyester) প্রায় 260 °C-এ আর নাইলন (nylon) প্রায় 265 °C-এ গলে যায়, অথচ বুনসেন শিখার তাপমাত্রা প্রায় 1500 °C। আগুন লাগলে গলিত প্লাস্টিক চামড়ায় লেপ্টে গিয়ে গভীর পোড়া তৈরি করে। সুতি গলে না — পুড়ে কালো হয়, আর সহজে খুলে ফেলা যায়। বই ঠিকই বলেছে কোট সাদা সুতি কাপড়ের হবে, কিন্তু হাতা নিয়ে বইয়ের কথা পুরোনো (নিচের সতর্কবার্তা দেখো)।
ল্যাব কোটের হাতা কবজি পর্যন্ত লম্বা হওয়া উচিত কেন?
ধাপ ৪: চোখের সুরক্ষা — সেফটি চশমা বনাম গগলস
চোখ শরীরের সবচেয়ে নাজুক অংশ — এক ফোঁটা গাঢ় ক্ষার (alkali) বা এসিড চোখের কর্নিয়া (cornea) স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে পারে। চোখের সুরক্ষা দুই রকম:
| সেফটি চশমা (safety glasses) | স্প্ল্যাশ গগলস (splash goggles) | |
|---|---|---|
| গঠন | শক্ত পলিকার্বনেট (polycarbonate) কাচ, পাশে ঢাল (side shields) | মুখের সঙ্গে চারদিকে সিল (seal) করা, ঢাকা ছিদ্র (indirect vent) |
| রক্ষা করে | ছুটে আসা কণা, কাচের টুকরা, সামনে থেকে ছিটা | তরলের ছিটা আর ফোঁটা — সব দিক থেকে |
| ফাঁক | ওপর-নিচের কিনারায় মুখের সঙ্গে ফাঁক থাকে | ফাঁক নেই |
| কখন | কঠিন পদার্থ, অল্প লঘু দ্রবণ, ওজন নেওয়া | গাঢ় এসিড-ক্ষার ঢালা ও লঘু করা, গরম তরল, যেকোনো ছিটার সম্ভাবনা |
সাধারণ চশমা (prescription glasses) সুরক্ষা চশমা নয় — এর কাচ ভাঙতে পারে আর চারপাশ খোলা। চশমা পরলে তার ওপর দিয়ে গগলস (over-the-glasses goggles) পরতে হয়। মানের চিহ্ন: আমেরিকার ANSI Z87.1-এ ছিটারোধী গগলসে “D3”, ইউরোপের EN 166-এ “3” লেখা থাকে। নিচে ছিটার উৎসটি মুখের চারপাশে টেনে দেখো কোথায় কোন চশমা ব্যর্থ হয়:
সরল জ্যামিতিক মডেল (simplified geometry): আসল সুরক্ষা নির্ভর করে চশমা মুখে কতটা ভালোভাবে বসে তার ওপর।
- সাধারণ চশমা পরিয়ে ছিটার উৎসটি (splash source) টেনে মুখের পাশে নাও — চোখে কি পৌঁছায়?
- সেফটি চশমা (safety glasses) বেছে নাও: পাশ থেকে ছিটা কি এখন আটকায়?
- সেফটি চশমার ফাঁক খুঁজে বের করো — উৎসটি কপালের ওপরে বা গালের নিচে নিয়ে যাও।
- গগলস পরিয়ে পাশ আর ওপর-নিচ দুই দিক থেকেই ছিটাও।
আরও তিনটি নিয়ম:
- চোখের সুরক্ষা থাকবে চোখে — পকেটে, মাথার ওপরে বা গলায় ঝুলিয়ে নয়। দুর্ঘটনা আগে থেকে জানিয়ে আসে না।
- উদ্বায়ী (volatile) রাসায়নিকের কাছে কন্টাক্ট লেন্স (contact lens) নয় — বাষ্প লেন্সের নিচে আটকে চোখে জ্বালা বাড়ায়, আর ছিটা পড়লে লেন্স খুলে চোখ ধোয়া দেরি হয়।
- রাসায়নিক যখন বেঞ্চে আছে, তখন চোখের সুরক্ষা সবসময় — শুধু “উদ্বায়ী হলে” নয়; পাশের জনের ছিটাও তোমার চোখে আসতে পারে।
গাঢ় NaOH দ্রবণ এক বিকার থেকে আরেক বিকারে ঢালবে। চোখে কী পরবে?
ধাপ ৫: গ্লাভস — উপাদান বনাম রাসায়নিক
গ্লাভস (gloves) হাতকে ক্ষয়কারী (corrosive) ও বিষাক্ত (toxic) রাসায়নিক থেকে বাঁচায়। কিন্তু কোনো গ্লাভসই সব রাসায়নিক আটকায় না। রাসায়নিক গ্লাভস ভেদ করে দুইভাবে:
- অবক্ষয় (degradation) — গ্লাভস ফুলে ওঠে, নরম বা শক্ত হয়ে যায়, ফেটে যায়।
- অনুপ্রবেশ (permeation) — গ্লাভস দেখতে ঠিকঠাক, অথচ রাসায়নিকের অণু ধীরে ধীরে উপাদানের ভেতর দিয়ে ব্যাপিত (diffuse) হয়ে ভেতরে চলে আসে। ছিটা লাগা থেকে ভেতরে প্রথম পৌঁছানো পর্যন্ত সময়কে বলে ভেদ-সময় (breakthrough time)। এটা চোখে দেখা যায় না — তাই বিপজ্জনক।
| গ্লাভস | উপাদান | কোথায় ভালো | কোথায় দুর্বল |
|---|---|---|---|
| নাইট্রাইল (nitrile) | অ্যাক্রাইলোনাইট্রাইল (CH₂=CHCN) আর বিউটাডাইনের কো-পলিমার রাবার | লঘু এসিড-ক্ষার, গাঢ় HCl, NaOH, অ্যালকোহল, হেক্সেন-কেরোসিন | অ্যাসিটোন (acetone), ক্লোরোফর্ম (chloroform), গাঢ় H₂SO₄ |
| ল্যাটেক্স (latex) | প্রাকৃতিক রাবার | লঘু জলীয় দ্রবণ, জীবাণু | তেল-দ্রাবক; প্রোটিনে অ্যালার্জি (latex allergy) |
| নিওপ্রিন (neoprene) | পলিক্লোরোপ্রিন | এসিড-ক্ষার, গাঢ় H₂SO₄ | ক্লোরিনযুক্ত দ্রাবক |
| ভিনাইল / PVC (vinyl) | পলিভিনাইল ক্লোরাইড | লঘু দ্রবণ, সস্তা | বেশির ভাগ জৈব দ্রাবক |
| বিউটাইল (butyl) | বিউটাইল রাবার | অ্যাসিটোনের মতো কিটোন (ketone), গাঢ় এসিড | হেক্সেন, ক্লোরোফর্ম |
| জিটেক্স (Zetex) | টেক্সচার করা কাচতন্তুর (fibreglass) কাপড় | গরম জিনিস ধরা — অ্যাসবেস্টস (asbestos) গ্লাভসের বিকল্প | রাসায়নিক নয় — তরল শুষে নেয় |
ক্লোরোফর্ম আর ডাইক্লোরোমিথেনের (CH₂Cl₂) মতো ক্লোরিনযুক্ত দ্রাবকে সাধারণ কোনো পাতলা গ্লাভসই টেকে না — এদের জন্য PVA বা ভিটন (Viton) গ্লাভস লাগে। নিজে দৌড় চালিয়ে দেখো:
শ্রেণি (good/fair/poor) এসেছে গ্লাভস প্রস্তুতকারকের রাসায়নিক-প্রতিরোধ তালিকা (Ansell chemical resistance guide) থেকে। দৌড়ের সেকেন্ড শুধু তুলনার জন্য — আসল ভেদ-সময় (breakthrough time) মিনিটে মাপা হয় আর গ্লাভসের পুরুত্ব, ব্র্যান্ড ও তাপমাত্রায় বদলায়।
- নাইট্রাইল গ্লাভস আর অ্যাসিটোন (acetone) দিয়ে দৌড় চালাও — কত তাড়াতাড়ি ভেদ করে?
- অ্যাসিটোনের জন্য কোন গ্লাভস টেকে, খুঁজে বের করো।
- গাঢ় H₂SO₄-এ নাইট্রাইল আর নিওপ্রিন/বিউটাইল তুলনা করো।
- ক্লোরোফর্মে (chloroform) অন্তত তিনটি গ্লাভস পরীক্ষা করো (0/3)।
গ্লাভসের আরও কিছু জরুরি কথা:
- ছিটা লাগলেই খুলে ফেলো আর নতুন পরো; “এখনো তো কিছু হয়নি” — ভেদ-সময় চোখে দেখা যায় না।
- গ্লাভস পরা হাতে দরজার হাতল, ফোন, কলম, মুখ ছোঁবে না — নইলে রাসায়নিক পুরো ঘরে আর তোমার মুখে ছড়াবে। খোলার সময় বাইরের পিঠ যেন ত্বকে না লাগে, তারপর হাত ধোও।
- ল্যাবের পাতলা গ্লাভস বিদ্যুৎ নিরোধক (electrical insulator) নয়। বিদ্যুৎ থেকে বাঁচায় শুধু মানপরীক্ষিত বিশেষ ইনসুলেটিং গ্লাভস (ASTM D120 / IEC 60903 শ্রেণির)। ভেজা গ্লাভস তো আরও বিপজ্জনক।
- পাতলা গ্লাভস দাহ্য — খোলা শিখার কাছে সাবধান।
- গ্লাভস বাছাই হবে রাসায়নিক-প্রতিরোধ দেখে, “পরিবেশবান্ধব” বা দাম দেখে নয়।
অ্যাসিটোন (acetone) দিয়ে বিকার ধোয়ার সময় নাইট্রাইল গ্লাভসে ছিটা লাগল। কী করবে?
ধাপ ৬: মাস্ক বনাম ফিউম হুড
বই বলছে মাস্ক পরলে CO₂, NH₃, NO₂, H₂S, SO₂-এর মতো গ্যাসের ক্ষতি কমে। কথাটা ভুল, আর বিপজ্জনকভাবে ভুল।
একটি সার্জিক্যাল মাস্কের (surgical mask) কাপড় আসলে সুতার একটি জাল — ফাঁকগুলো মাইক্রোমিটারের (micrometre, µm) মাপের। এটা আটকায় হাঁচি-কাশির ফোঁটা (droplet) আর বড় ধুলা। একটি N95 মাস্ক 0.3 µm (300 nm) মাপের কণার অন্তত 95% আটকায়। কিন্তু গ্যাস কণা নয় — আলাদা আলাদা অণু:
| গ্যাস | অণুর আকার (kinetic diameter) | N95-এর পরীক্ষার কণার চেয়ে ছোট |
|---|---|---|
| NH₃ (অ্যামোনিয়া) | 0.26 nm | প্রায় 1150 গুণ |
| H₂S (হাইড্রোজেন সালফাইড) | 0.36 nm | প্রায় 830 গুণ |
| SO₂ (সালফার ডাইঅক্সাইড) | 0.36 nm | প্রায় 830 গুণ |
এত ছোট অণু মাস্কের ফাঁক দিয়ে সোজা চলে যায় — মাস্ক পরে কেবল নিরাপদ থাকার ভুল ধারণা তৈরি হয়। নিজে দেখো:
শতাংশগুলো আনুমানিক শিক্ষণ-মান (order-of-magnitude), মাপা নয়।
- H₂S গ্যাসের সামনে সার্জিক্যাল মাস্ক আর N95 মাস্ক দুটোই পরীক্ষা করো।
- এবার Na₂CO₃-এর ধুলা: N95 মাস্ক কি কাজ করে?
- গ্যাসের আসল সমাধান — ফিউম হুড — চালু করে দেখো।
গ্যাস বা বাষ্পের (vapour) আসল সমাধান:
- ফিউম হুড (fume hood) — একটি ঘেরা বাক্স, যার ওপরের পাখা সামনের খোলা মুখ দিয়ে প্রায় 0.4–0.6 m/s বেগে বাতাস টেনে নালি (duct) দিয়ে বাইরে পাঠায়। কাচের পাল্লা (sash) যতটা সম্ভব নামিয়ে কাজ করো, মাথা ভেতরে ঢোকাবে না, আর হুড চালু আছে কি না দেখে নাও। গাঢ় H₂SO₄, HNO₃, HCl বা লিকার অ্যামোনিয়া (liquor ammonia) লঘু করা হুডেই।
- রেসপিরেটর (respirator) — শুধু তখন, যখন হুড সম্ভব নয়; আর তাতে লাগে নির্দিষ্ট গ্যাসের কার্তুজ (cartridge) আর মুখে মাপমতো বসানোর পরীক্ষা (fit test)। এটা স্কুল ল্যাবের রোজকার জিনিস নয়।
- জানালা খোলা (ventilation) ভালো, কিন্তু তা হুডের বিকল্প নয়।
মাস্কের তাহলে কাজ কী? গুঁড়া বা ধুলা (dust) নিয়ে কাজে N95 সাহায্য করে; আর সার্জিক্যাল মাস্ক জীবাণু-সংক্রান্ত কাজে। রাসায়নিক গ্যাসের বেলায় — না।
কিপ যন্ত্র (Kipp's apparatus) থেকে H₂S নেওয়ার সময় সবচেয়ে ঠিক ব্যবস্থা কোনটি?
ধাপ ৭: জুতা, চুল, পোশাক আর বায়ু চলাচল
| নিয়ম | কেন |
|---|---|
| পায়ের পাতা ঢাকা জুতা (closed shoes), স্যান্ডেল নয় | মেঝেতে পড়া এসিড আর ভাঙা কাচ সবার আগে পায়ে লাগে |
| লম্বা চুল বেঁধে রাখো; ওড়না-স্কার্ফ গুঁজে রাখো | খোলা চুল বার্নারের শিখায় এক নিমেষে জ্বলে ওঠে, রাসায়নিকে ডুবে যায় |
| ঢিলা গয়না, চুড়ি, আংটি নয় | পাত্রে আটকে উল্টে ফেলে; আংটির নিচে রাসায়নিক আটকে থাকে |
| সিনথেটিক নয়, সুতির পোশাক; শরীর ঢাকা | সিনথেটিক কাপড় আগুনে গলে চামড়ায় লেপ্টে যায় |
| ঢোকার পর বায়ু চলাচল (ventilation) নিশ্চিত করো | জমে থাকা বাষ্প ছড়িয়ে যায় — তবে বিষাক্ত গ্যাসের কাজ হুডেই |
ধাপ ৮: সোনালি বিধি — ল্যাবে কীভাবে চলবে
বইয়ের ১.১.১ অনুচ্ছেদের ১৬টি সোনালি বিধি (golden rules)-র মূল কথা, সঙ্গে কারণ:
- আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে এসো — পরীক্ষার পদ্ধতি আর রাসায়নিকের বিপদ আগেই পড়ে আসো। না জেনে হাত দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
- দৌড়াদৌড়ি, চিৎকার, হাসিঠাট্টা নয় — হাতে গাঢ় এসিড নিয়ে ধাক্কা লাগলে কী হবে ভাবো।
- খাওয়া, পান করা, কোনো কিছু চেখে দেখা — কখনো নয়। মুখে টেনে পিপেট (mouth pipetting) নয়, সবসময় পিপেট ফিলার (pipette filler)।
- সরাসরি নাক লাগিয়ে শুঁকবে না — বোতল দূরে রেখে হাত দিয়ে বাতাস নাকের দিকে টানো (wafting):
আনুমানিক মডেল (approximate model): স্থির বাতাসে ছোট উৎস থেকে ব্যাপনে (diffusion) ঘনমাত্রা ∝ 1/দূরত্ব; হাত নাড়ার মিশ্রণ (mixing) ধরা হয়েছে আরও 5 গুণ পাতলা।
- বোতলের মুখে নাক (2 cm): নাকে কতটা বাষ্প (vapour) যায়?
- নাক 25–30 cm দূরে সরাও আর “হাত দিয়ে বাতাস টানো (waft)” চালু করো।
- লেবেল দুবার পড়ো — নেওয়ার আগে আর ঢালার আগে। প্রতিটি পাত্রে লেবেল লাগাও; লেবেলহীন তরল কখনো ব্যবহার করবে না।
- জ্বলন্ত বার্নার ফেলে যাবে না। কাজ না থাকলে নিভিয়ে দাও।
- এসিড পানিতে, কখনো পানি এসিডে নয় — পানি এসিডে ঢাললে ওপরের অল্প পানি তাপে মুহূর্তে ফুটে এসিডসহ ছিটকে ওঠে।
- বেঞ্চ পরিষ্কার রাখো — ব্যাগ-বই নির্দিষ্ট জায়গায়, পথে কিছু নয়। ব্যবহৃত কাচসামগ্রী ধুয়ে রাখো।
- রাসায়নিক বর্জ্য নির্দিষ্ট বর্জ্যের পাত্রে — সাধারণ ডাস্টবিনে বা সিংকে নয় (পাঠ ৮)।
- গরম কাচ ঠান্ডা পানিতে নয় — ফেটে যায় (পাঠ ২)।
- কাজ শেষে আর ল্যাব ছাড়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোও।
- নিজের সঙ্গে পাশের জনের নিরাপত্তাও তোমার দায়িত্ব — টেস্টটিউবের মুখ কারও দিকে নয়; কোনো দুর্ঘটনা, যত ছোটই হোক, সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষককে জানাও।
একটি বোতলের রাসায়নিক চেনার জন্য তার গন্ধ নিতে হবে। ঠিক উপায় কোনটি?
ধাপ ৯: এবার নিজে করে দেখো
এখন তুমি ল্যাবের নিরাপত্তা পরিদর্শক (safety inspector)। নিচের অনুশীলনে পাঁচটি অংশ:
- বিপদ খোঁজো (hazard hunt): ল্যাবের ছবিতে 12টি বিপদ লুকিয়ে আছে। যেটা ভুল মনে হয় তাতে চাপ দাও — খাতায় তার ধরন, সমাধান আর কোন নিয়ন্ত্রণ স্তরের সমাধান তা লেখা হবে। ফোনে ছবিটি পাশে সরিয়ে (scroll) পুরোটা দেখো।
- PPE বাছাই: চারটি আসল কাজের জন্য চোখ, হাত আর শ্বাসের সুরক্ষা বেছে “যাচাই” করো। নিরাপদ হতে হবে, কিন্তু দরকারের বেশি (overkill) নয়।
- ক্লোরোফর্মের গ্লাভস, নিয়ন্ত্রণের ক্রম, আর মাস্কের প্রশ্ন — চ্যালেঞ্জগুলো শেষ করো।
ল্যাবের নিরাপত্তা — হাতে-কলমে অনুশীলন
Lab safety: spot the hazard & choose PPE← ছবিটি আঙুল দিয়ে পাশে সরাও (swipe) — পুরো ল্যাব দেখতে →
ছবির ল্যাবে 12টি বিপদ লুকিয়ে আছে। যেটা ভুল মনে হয় তাতে চাপ দাও — প্রথম চাপেই ঘড়ি চালু হবে।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/5- ল্যাবের ছবিতে 12টি বিপদ (hazards) ৩ মিনিটের মধ্যে খুঁজে বের করো (0/12)
- চারটি কাজের প্রতিটির জন্য নিরাপদ কিন্তু সবচেয়ে কম বাড়তি (overkill) PPE বেছে নাও (0/4)
- ক্লোরোফর্মের (chloroform) জন্য ঠিক গ্লাভস বেছে নাও
- H₂S সমস্যার সমাধানগুলো নিয়ন্ত্রণের স্তরক্রম (hierarchy of controls) অনুযায়ী সাজাও — সবচেয়ে কার্যকর আগে (0/5)
- “H₂S-এর জন্য কি সার্জিক্যাল মাস্ক যথেষ্ট?” — ঠিক উত্তর দাও
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
বিপদ খুঁজে পেলে বা PPE যাচাই করলে এখানে লেখা হবে — কী পেলে, তার সমাধান, আর কোন নিয়ন্ত্রণ স্তরের সমাধান।
বই পড়ার সময় সাবধান — এই অনুচ্ছেদে বইয়ের কিছু কথা ভুল বা পুরোনো:
- কোটের হাতা (পৃ. ২): বই বলছে কোট “হাফ-হাতা অথবা ¾ হাতা” হবে। আধুনিক নিয়ম (NRC Prudent Practices in the Laboratory, 2011; ACS Safety in Academic Chemistry Laboratories): পুরো হাতা কবজি পর্যন্ত, হাঁটু পর্যন্ত লম্বা, বোতাম লাগানো, সুতি বা অগ্নিরোধী কাপড়। ছোট হাতায় ঠিক সেই বাহুটাই খোলা থাকে, যেখানে ছিটা পড়ে।
- “নাইট্রাইল পরিবেশবান্ধব, পচনশীল; ল্যাটেক্স-ভিনাইল অধিক দাহ্য” (পৃ. ৩–৪, টিপস): সাধারণ নাইট্রাইল রাবার মাটিতে সহজে পচে না — শুধু বিশেষ সংযোজক (additive) মেশানো কিছু ব্র্যান্ড দ্রুত পচার দাবি করে। আর পাতলা সব গ্লাভসই আগুনে জ্বলে। গ্লাভস বাছাই হবে রাসায়নিক-প্রতিরোধ দেখে (OSHA 1910.138)।
- “নাইট্রাইল ও প্রাকৃতিক রাবারের গ্লাভস বৈদ্যুতিক শক রোধ করে” (পৃ. ৩): ল্যাবের পাতলা গ্লাভস বিদ্যুৎ নিরোধক নয়। শক থেকে বাঁচায় শুধু ASTM D120 / IEC 60903 মানের বিশেষ ইনসুলেটিং গ্লাভস।
- “নাইট্রাইল এসিড, ক্ষার, জৈব দ্রাবক প্রতিরোধী” (পৃ. ৩): ঢালাওভাবে ঠিক নয়। পাতলা নাইট্রাইল ক্লোরোফর্ম, ডাইক্লোরোমিথেন, অ্যাসিটোন আর কিছু অ্যারোমেটিক দ্রাবকে কয়েক মিনিটেই ভেদ হয়, গাঢ় H₂SO₄-এ দুর্বল–মোটামুটি (Ansell Chemical Resistance Guide)। ছিটা লাগলেই বদলাও।
- “নাইট্রাইলে প্রোটিন নেই, তাই অ্যালার্জি হয় না” (পৃ. ৩): ল্যাটেক্স-প্রোটিনের অ্যালার্জি হয় না — ঠিক; কিন্তু গ্লাভস তৈরির রাসায়নিকে (accelerator) কারও কারও ত্বকে অ্যালার্জি (contact dermatitis) হতে পারে।
- “মাস্ক CO₂, NH₃, NO₂, H₂S, SO₂-এর ক্ষতি কমায়” (পৃ. ৩): কাগজ বা সার্জিক্যাল মাস্ক গ্যাস আটকায় না। বিষাক্ত গ্যাসের কাজ ফিউম হুডে; রেসপিরেটর লাগলে গ্যাস-নির্দিষ্ট কার্তুজ আর ফিট টেস্ট (OSHA 1910.134)। MCQ-তে (“শ্বাস-প্রশ্বাসের নিরাপত্তায় কোনটি?”) বোর্ড “মাস্ক” উত্তর আশা করে — পরীক্ষায় সেটাই লেখো, কিন্তু আসল নিয়ম হলো ফিউম হুড।
- “রাসায়নিক বর্জ্য ল্যাবের ডাস্টবিনে ফেলতে হবে” (পৃ. ৪, বিধি ১৩): রাসায়নিক বর্জ্য সাধারণ ডাস্টবিনে নয় — ধরন অনুযায়ী আলাদা, লেবেল লাগানো বর্জ্যের পাত্রে (পাঠ ৮)।
ঘরে বসে: নিজের বাড়ির “ল্যাব”
এই পাঠের জন্য আলাদা কোনো নিরাপদ ঘরোয়া পরীক্ষা নেই — নিরাপত্তার নিয়ম শেখার জন্য রাসায়নিক নিয়ে খেলার দরকার নেই। বরং পাঠ ৭-এর লেবেল খোঁজার কাজটি করো: বাড়ির বাথরুম আর রান্নাঘরের পরিষ্কারক বোতলগুলোর লেবেলে কোন বিপদের চিহ্ন আছে, আর পেছনে কী সতর্কবার্তা লেখা, খাতায় টুকে রাখো। কোন বোতলের জন্য গ্লাভস লাগবে, কোনটা চোখে গেলে বিপদ — এই পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে দেখো।
নিরাপত্তা: বোতল শুধু দেখো আর পড়ো — খুলবে না, শুঁকবে না, মেশাবে না। বিশেষ করে ব্লিচ (bleach, সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট) কখনো এসিডযুক্ত টয়লেট-পরিষ্কারকের সঙ্গে মেশাবে না — বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস (Cl₂) তৈরি হয়।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. ল্যাবরেটরিতে অ্যাপ্রন বা ল্যাব কোট পরা হয় কেন? কোটটি কেমন হওয়া উচিত?
কোট শরীর আর নিজের জামাকে রাসায়নিকের ছিটা ও স্পর্শ থেকে রক্ষা করে। রাসায়নিক পড়লে কোটটি সঙ্গে সঙ্গে খুলে ফেলা যায়, তাই ত্বক পর্যন্ত পৌঁছায় না। সাদা সুতি কাপড়ের হলে ময়লা-দাগ সহজে চোখে পড়ে, আর আগুনে গলে না (সিনথেটিক কাপড় প্রায় 260 °C-এ গলে চামড়ায় লেপ্টে যায়)।
কোট হবে পুরো হাতা কবজি পর্যন্ত, হাঁটু পর্যন্ত লম্বা, বোতাম লাগানো, বেশি ঢিলা নয়। (বই হাফ বা ¾ হাতা বলে — তাতে বাহু খোলা থাকে; উত্তরে পুরো হাতা লিখলে কারণসহ লেখো।)
২. জিটেক্স গ্লাভস কী? [ঢা. বো. ২০১৫]
জিটেক্স (Zetex) গ্লাভস হলো টেক্সচার করা কাচতন্তু (fibreglass) বা সিলিকা কাপড়ের তৈরি তাপরোধী গ্লাভস, যা আগে ব্যবহৃত অ্যাসবেস্টস (asbestos) গ্লাভসের বিকল্প। গরম ক্রুসিবল, বিকার বা জ্বলন্ত বস্তু ধরতে এটি ব্যবহার করা হয়। এটি রাসায়নিক-প্রতিরোধী নয় — তরল রাসায়নিক শুষে নেয়, তাই এসিড-ক্ষার নিয়ে কাজে চলে না।
৩. (MCQ) ল্যাবরেটরিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের কোন ব্যবস্থা নিলে ভুল হবে? (ক) অ্যাপ্রন পরা (খ) নিরাপদ চশমা পকেটে থাকা (গ) হাতে গ্লাভস পরা (ঘ) পায়ে জুতা পরা
উত্তর: (খ)। চশমা পকেটে থাকলে চোখ খোলা — দুর্ঘটনা আগে থেকে জানিয়ে আসে না। রাসায়নিক বেঞ্চে থাকলে চোখের সুরক্ষা সবসময় চোখে।
৪. (MCQ) কেমিস্ট্রি ল্যাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে নিরাপদ থাকার জন্য নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়? (ক) নিরাপদ চশমা (খ) অ্যাপ্রন (গ) গ্লাভস (ঘ) মাস্ক [ব. বো. ২০১৭]
বোর্ডের উত্তর: (ঘ) মাস্ক — অপশনগুলোর মধ্যে শ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একমাত্র এটি।
আসল নিয়ম: সার্জিক্যাল বা কাগজের মাস্ক গ্যাস ও বাষ্প আটকায় না, কারণ গ্যাসের অণু (যেমন H₂S, 0.36 nm) মাস্কের ফাঁকের চেয়ে হাজার গুণ ছোট। বিষাক্ত গ্যাস বা বাষ্পের কাজে শ্বাসের সুরক্ষা দেয় ফিউম হুড; দরকার হলে গ্যাস-নির্দিষ্ট কার্তুজের রেসপিরেটর। মাস্ক কেবল ধুলা বা গুঁড়ার বেলায় (N95) সাহায্য করে।
৫. চারটি গ্রুপ কাজ শেষে ল্যাব ছেড়েছে। ল্যাব পরিষ্কারের সময় সোডিয়াম ধাতু পানিতে পড়ে বেসিনে আগুন ধরে, আর ১ম শিক্ষার্থীর অ্যাপ্রনে আগুন লেগে যায়। (ক) ২য় শিক্ষার্থীর কী করা উচিত? (খ) ৩য় শিক্ষার্থী আগুন নেভাতে — i. অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আনল ii. চিৎকার করে আগুনের খবর জানাল iii. CO₂-এর নল ১ম শিক্ষার্থীর দিকে ধরল। কোনটি সঠিক?
(ক) ১ম শিক্ষার্থীকে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে বলা — থামো, শুয়ে পড়ো, গড়াও (stop, drop, roll); হাতের কাছে থাকলে ফায়ার ব্ল্যাংকেট বা সেফটি শাওয়ার। দৌড়ালে বাতাসে আগুন বাড়ে; জ্বলন্ত অ্যাপ্রন খুলতে গেলে হাত পোড়ে।
(খ) i ও ii সঠিক। iii ভুল: CO₂ নির্বাপকের গ্যাস প্রায় −78 °C ঠান্ডা আর শ্বাসরোধী — কখনো মানুষের দিকে নয়। (আর সোডিয়ামের আগুনে পানি বা CO₂ নয় — শুকনো বালি বা Class D পাউডার; পাঠ ১০।) এই প্রশ্নটিও দেখায় কেন সিনথেটিক নয়, সুতির কোট আর কেন বোতাম লাগানো, খুলে ফেলা যায় এমন কোট দরকার।
৬. গাঢ় H₂SO₄ লঘু করার সময় কোন কোন সুরক্ষা নেবে? প্রতিটির কারণ লেখো। একজন ছাত্র নাইট্রাইল গ্লাভস আর সাধারণ চশমা পরে খোলা বেঞ্চে কাজটি করল — তার ভুলগুলো কী?
সুরক্ষা ও কারণ:
- ফিউম হুড — লঘু করার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, এসিড-কুয়াশা (mist) ওঠে; হুড তা টেনে নেয় আর কাচের পাল্লা ছিটার ঢালও।
- স্প্ল্যাশ গগলস — ক্ষয়কারী তরলের ছিটা যেকোনো দিক থেকে চোখে ঢুকতে পারে।
- নিওপ্রিন বা বিউটাইল গ্লাভস — গাঢ় H₂SO₄-এ এদের প্রতিরোধ ভালো।
- পুরো হাতার সুতি কোট, ঢাকা জুতা — বাহু, শরীর আর পা ঢাকা।
- পদ্ধতি: এসিড ধীরে ধীরে পানিতে ঢালো, নাড়তে থাকো — কখনো পানি এসিডে নয়।
ছাত্রটির ভুল: (১) সাধারণ চশমা সুরক্ষা চশমা নয় — চারপাশ খোলা; (২) পাতলা নাইট্রাইল গাঢ় H₂SO₄-এ দুর্বল–মোটামুটি, ভরসা করা যায় না; (৩) খোলা বেঞ্চে এসিড-কুয়াশা সরাসরি শ্বাসে যায়।