পাঠ ১৪ / ১৪অনুচ্ছেদ ৩.২১–৩.২১.১
অজৈব যৌগ ও জটিল যৌগের IUPAC নামকরণIUPAC naming of inorganic compounds & complexes
আয়রন সালফেটের বোতলের গায়ে লেখা “Fe₂(SO₄)₃”। এখানে Fe কেন 2টি আর SO₄ কেন 3টি — 1টি করে নয় কেন? নিচের ট্রেতে নিজে আয়ন (ion) সাজিয়ে দেখো:
ট্রেতে (tray) Fe³⁺ আর SO₄²⁻ আয়ন যোগ করো। কোনটি কতটি লাগবে, যাতে মোট ধনাত্মক (positive) আর ঋণাত্মক (negative) চার্জ সমান হয়?
- Fe³⁺ আর SO₄²⁻ দিয়ে নিরপেক্ষ লবণ বানাও — কয়টি করে লাগল?
- আরও দুটি জোড়া নিজে বানাও (যেমন Na⁺ + PO₄³⁻, Al³⁺ + O²⁻)।
একটি যৌগের (compound) সংকেত (formula) আর নাম আসলে একই তথ্যের দুই রূপ — কোন আয়ন, কতটি। ঠিক নিয়ম জানলে নাম দেখে সংকেত, আর সংকেত দেখে নাম লেখা যায়, মুখস্থ ছাড়াই। সারা পৃথিবীর রসায়নবিদেরা যে নিয়ম মানেন, তা ঠিক করে IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry)।
এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:
- আয়নের চার্জ (ionic charge) — পর্যায় সারণি থেকে; পরিবর্তনশীল চার্জের ধাতু আর স্টক সংখ্যা (Stock number)
- দ্বিমৌলিক আয়নিক যৌগ (binary ionic compound) — নাম আর সংকেত
- বহুপরমাণুক আয়ন (polyatomic ion) — -ite/-ate, hypo-/per-, hydrogen-
- অক্সো-এসিড (oxoacid) — -ous/-ic, ortho/pyro/meta, peroxo; হাইড্রেট (hydrate)
- জটিল যৌগ (complex compound) — সংকেত, নাম, জারণ সংখ্যা (oxidation state)
- এবার নিজে করে দেখো — নাম তৈরির কারখানা (name builder)
ধাপ ১: আয়নের চার্জ — পর্যায় সারণি থেকে
আয়নিক যৌগ তৈরি হয় ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন (cation) আর ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন (anion) দিয়ে। ধাতু (metal) ইলেকট্রন ছেড়ে ক্যাটায়ন হয়, অধাতু (non-metal) ইলেকট্রন নিয়ে অ্যানায়ন হয়। প্রধান গ্রুপের (main group) মৌলের চার্জ পর্যায় সারণি (periodic table) দেখেই বলা যায়, কারণ তারা নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের (noble gas) বিন্যাস পেতে যতটি ইলেকট্রন দরকার ততটি ছাড়ে বা নেয়:
- গ্রুপ 1 → +1 (Na⁺), গ্রুপ 2 → +2 (Mg²⁺), গ্রুপ 13 → +3 (Al³⁺)
- গ্রুপ 15 → −3 (N³⁻), গ্রুপ 16 → −2 (O²⁻, S²⁻), গ্রুপ 17 → −1 (Cl⁻) — অর্থাৎ অধাতুর চার্জ = গ্রুপ নম্বর − 18
পরিবর্তনশীল চার্জ (variable charge)। অবস্থান্তর মৌলের (transition element) ns আর (n−1)d অরবিটালের শক্তি কাছাকাছি, তাই এরা ভিন্ন সংখ্যক ইলেকট্রন ছাড়তে পারে — Fe²⁺ ও Fe³⁺, Cu⁺ ও Cu²⁺। p-ব্লকের Sn আর Pb-ও (Sn²⁺/Sn⁴⁺, Pb²⁺/Pb⁴⁺) এমন। এসব ধাতুর নামে কোন আয়নটি তা বলে দিতে হয়, দুই পদ্ধতিতে:
| আয়ন | স্টক নাম (Stock name, IUPAC) | পুরনো নাম (classical, -ous/-ic) |
|---|---|---|
| Fe²⁺ | iron(II) — আয়রন(II) | ferrous — ফেরাস |
| Fe³⁺ | iron(III) — আয়রন(III) | ferric — ফেরিক |
| Cu⁺ | copper(I) — কপার(I) | cuprous — কিউপ্রাস |
| Cu²⁺ | copper(II) — কপার(II) | cupric — কিউপ্রিক |
| Sn²⁺ / Sn⁴⁺ | tin(II) / tin(IV) | stannous / stannic |
| Pb²⁺ / Pb⁴⁺ | lead(II) / lead(IV) | plumbous / plumbic |
- স্টক পদ্ধতি: ধাতুর ইংরেজি নামের ঠিক পরে, ফাঁকা না রেখে, বন্ধনীতে রোমান সংখ্যায় (Roman numeral) চার্জ: iron(III)। পড়া হয় “আয়রন থ্রি”।
- পুরনো পদ্ধতি: লাতিন নামের (Latin name) মূলের পরে কম চার্জে -ous, বেশি চার্জে -ic (ferrum → ferr-, cuprum → cupr-, stannum → stann-, plumbum → plumb-)। এর অসুবিধা: -ous মানে শুধু “দুটির মধ্যে কম” — Cu-তে সেটি +1, Fe-তে +2। তাই IUPAC স্টক সংখ্যা পছন্দ করে।
- যে ধাতুর একটিই সাধারণ আয়ন (Na⁺, Ca²⁺, Al³⁺, Zn²⁺, Ag⁺), তার নামে রোমান সংখ্যা লাগে না: “sodium chloride”, “sodium(I) chloride” নয়।
নিচের কোন যৌগের নামে রোমান সংখ্যা লাগবে?
ধাপ ২: দ্বিমৌলিক আয়নিক যৌগ — নাম ও সংকেত
দুটি মাত্র মৌল দিয়ে তৈরি যৌগকে দ্বিমৌলিক বা বাইনারি যৌগ (binary compound) বলে। আয়নিক হলে নামের নিয়ম দুটি:
- ক্যাটায়নের নাম আগে, অ্যানায়নের নাম পরে।
- ক্যাটায়ন = ধাতুর নাম (প্রয়োজনে রোমান সংখ্যাসহ); অ্যানায়ন = অধাতুর নামের প্রথম অংশ + -ide (আইড): chlorine → chloride, oxygen → oxide, sulfur → sulfide, nitrogen → nitride।
| সংকেত | যুক্তি | নাম |
|---|---|---|
| BaCl₂ | Ba-এর একটিই আয়ন (Ba²⁺) | barium chloride — বেরিয়াম ক্লোরাইড |
| CrCl₃ | 3টি Cl⁻ = −3, তাই Cr³⁺ | chromium(III) chloride |
| PbS | S²⁻ = −2, তাই Pb²⁺ | lead(II) sulfide |
| Fe₂O₃ | 3টি O²⁻ = −6, দুটি Fe মিলে +6, তাই প্রতিটি Fe³⁺ | iron(III) oxide |
সংকেত থেকে ধাতুর চার্জ বের করার সময় সংকেতের নিচের সংখ্যা (subscript) দেখে সরাসরি বলা যায় না — চার্জের হিসাব করতে হয়। যেমন FeO-তে Fe +2, কিন্তু Fe₂O₃-তে +3।
নাম থেকে সংকেত: দুই আয়নের চার্জ লেখো, তারপর এমন সংখ্যা নাও যাতে মোট ধনাত্মক চার্জ = মোট ঋণাত্মক চার্জ (যৌগ নিরপেক্ষ, neutral)। দ্রুত কৌশলটি হলো ক্রিস-ক্রস (criss-cross):
উদাহরণ: magnesium fluoride → Mg²⁺ + F⁻ → MgF₂; iron(III) sulfide → Fe³⁺ + S²⁻ → Fe₂S₃; tin(IV) oxide → Sn⁴⁺ + O²⁻ → Sn₂O₄ → SnO₂ (ছোট অনুপাত)।
দুটি অধাতুর যৌগ (যেমন CO₂, N₂O₅) আয়নিক নয়, তাই চার্জ দিয়ে নাম হয় না — সংখ্যাবাচক উপসর্গ (prefix) দিয়ে হয়: CO carbon monoxide, CO₂ carbon dioxide, N₂O₅ dinitrogen pentoxide, SF₆ sulfur hexafluoride। এ পাঠে আমরা আয়নিক যৌগ নিয়েই কাজ করব।
aluminium oxide-এর সংকেত কোনটি?
ধাপ ৩: বহুপরমাণুক আয়ন
দুই বা ততোধিক পরমাণু বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে একটি চার্জ বহন করলে তাকে বহুপরমাণুক আয়ন (polyatomic ion) বলে — যেমন NH₄⁺ (ammonium) ক্যাটায়ন আর SO₄²⁻ (sulfate) অ্যানায়ন। যৌগে এরা একটি একক (unit) হিসেবে থাকে, তাই একাধিক লাগলে বন্ধনীতে রাখতে হয়: Fe₂(SO₄)₃, Ca(OH)₂, (NH₄)₂SO₄। বন্ধনী ছাড়া “FeSO₄₃” লিখলে 3 শুধু O-এর ওপর বসত।
| চার্জ | আয়ন |
|---|---|
| +1 | NH₄⁺ ammonium |
| −1 | OH⁻ hydroxide, CN⁻ cyanide, NO₂⁻ nitrite, NO₃⁻ nitrate, HCO₃⁻ hydrogencarbonate, HSO₄⁻ hydrogensulfate, H₂PO₄⁻ dihydrogenphosphate, ClO⁻ hypochlorite, ClO₂⁻ chlorite, ClO₃⁻ chlorate, ClO₄⁻ perchlorate, MnO₄⁻ permanganate, CH₃COO⁻ acetate |
| −2 | CO₃²⁻ carbonate, SO₃²⁻ sulfite, SO₄²⁻ sulfate, S₂O₃²⁻ thiosulfate, HPO₄²⁻ hydrogenphosphate, CrO₄²⁻ chromate, Cr₂O₇²⁻ dichromate, O₂²⁻ peroxide |
| −3 | PO₄³⁻ phosphate |
এগুলো একে একে মুখস্থ করার দরকার নেই — নামের পেছনে কয়েকটি নিয়ম আছে:
- -ite আর -ate: একই মৌলের দুটি অক্সো-অ্যানায়নে (oxoanion) কম O থাকলে -ite, বেশি O থাকলে -ate: NO₂⁻ nitrite, NO₃⁻ nitrate; SO₃²⁻ sulfite, SO₄²⁻ sulfate।
- hypo- আর per-: হ্যালোজেনের (Cl, Br, I) চারটি অক্সো-অ্যানায়ন হয়। -ite-এর চেয়েও কম O হলে সামনে hypo- (“কম”), -ate-এর চেয়েও বেশি O হলে per- (“বেশি”)।
- hydrogen- (bi-): CO₃²⁻ থেকে একটি H⁺ যুক্ত হলে HCO₃⁻ — hydrogencarbonate (পুরনো নাম bicarbonate)। HSO₄⁻ hydrogensulfate (bisulfate)। প্রতিটি H⁺ চার্জ 1 কমায়।
- -ide ব্যতিক্রম: OH⁻ hydroxide, CN⁻ cyanide আর O₂²⁻ peroxide বহুপরমাণুক হলেও নামের শেষে -ide।
নিচে Cl-এ O-এর সংখ্যা বদলে নিজে দেখো নাম আর জারণ সংখ্যা কীভাবে একসঙ্গে বদলায়:
Cl-এ O-এর সংখ্যা 1 থেকে 4 পর্যন্ত একে একে বদলাও। নামের সামনের অংশ (লাল) আর শেষাংশ (সবুজ) কীভাবে বদলায়, আর জারণ সংখ্যা কত করে বাড়ে?
জারণ সংখ্যা (oxidation number) বের করার নিয়ম: O = −2 (পারঅক্সাইডে −1), H = +1, আর সব পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল = আয়নের চার্জ। যেমন ClO₄⁻: ।
Fe(ClO₄)₃-এর নাম কোনটি?
ধাপ ৪: অক্সো-এসিড ও হাইড্রেট
যে এসিডের অণুতে H, O আর একটি কেন্দ্রীয় মৌল থাকে, তাকে অক্সো-এসিড (oxoacid) বলে — যেমন H₂SO₄, HNO₃, HClO₄। অক্সো-এসিড আসলে অক্সো-অ্যানায়ন + যতটি H⁺ লাগে, তাই নাম আসে অ্যানায়নের নাম থেকে:
| অ্যানায়নের শেষাংশ | এসিডের শেষাংশ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| hypo…-ite | hypo…-ous acid | ClO⁻ hypochlorite → HClO hypochlorous acid (Cl +1) |
| -ite | -ous acid | ClO₂⁻ chlorite → HClO₂ chlorous acid (Cl +3) |
| -ate | -ic acid | ClO₃⁻ chlorate → HClO₃ chloric acid (Cl +5) |
| per…-ate | per…-ic acid | ClO₄⁻ perchlorate → HClO₄ perchloric acid (Cl +7) |
একইভাবে HNO₂ nitrous (N +3), HNO₃ nitric (N +5); H₂SO₃ sulfurous (S +4), H₂SO₄ sulfuric (S +6); H₂CrO₄ chromic acid, H₂Cr₂O₇ dichromic acid (দুটিতেই Cr +6)। মনে রাখার ছড়া: “ite-এর এসিড ous, ate-এর এসিড ic”।
অর্থো, পাইরো, মেটা। একই অধাতব অক্সাইড ভিন্ন সংখ্যক পানির অণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভিন্ন এসিড দেয় — কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ সংখ্যা একই থাকে। সবচেয়ে বেশি পানি = ortho- (অর্থো), সবচেয়ে কম = meta- (মেটা), মাঝামাঝি = pyro- (পাইরো; IUPAC নাম di-):
পারঅক্সো-এসিড (peroxoacid)। -ic এসিডের একটি O-এর জায়গায় একটি –O–O– (peroxo) গ্রুপ বসলে নামের সামনে peroxo-: H₂SO₄ → H₂SO₅ peroxomonosulfuric acid; দুটি SO₃ অংশ একটি –O–O– সেতুতে জোড়া লাগলে H₂S₂O₈ peroxodisulfuric acid। এখানে জারণ সংখ্যা হিসাবে সাবধান — সেতুর দুটি O-এর জারণ সংখ্যা −1:
হাইড্রেট (hydrate)। কেলাসে (crystal) নির্দিষ্ট সংখ্যক পানির অণু থাকলে লবণের নামের পরে সংখ্যাবাচক উপসর্গ + hydrate: CuSO₄·5H₂O copper(II) sulfate pentahydrate (তুঁতে, blue vitriol); FeSO₄·7H₂O iron(II) sulfate heptahydrate; Na₂CO₃·10H₂O sodium carbonate decahydrate (কাপড় কাচা সোডা)। উপসর্গ: 1 mono, 2 di, 3 tri, 4 tetra, 5 penta, 6 hexa, 7 hepta, 8 octa, 9 nona, 10 deca।
H₂S₂O₈ অণুতে S-এর জারণ সংখ্যা কত?
ধাপ ৫: জটিল যৌগের সংকেত ও নাম
আগের পাঠে (সন্নিবেশ বন্ধন) দেখেছ, একটি কেন্দ্রীয় ধাতব আয়ন (central metal ion) তার ফাঁকা অরবিটালে কয়েকটি লিগ্যান্ডের (ligand) নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় নিয়ে সন্নিবেশ বন্ধন (coordinate bond) গড়ে। ধাতু আর তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত লিগ্যান্ড মিলে সন্নিবেশ বলয় (coordination sphere) — একে লেখা হয় তৃতীয় বন্ধনীতে [ ]। ধাতুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দাতা পরমাণুর (donor atom) সংখ্যাই সন্নিবেশ সংখ্যা (coordination number, CN)।
লিগ্যান্ডের নাম (IUPAC 2005):
| নিরপেক্ষ লিগ্যান্ড (neutral) | নাম | ঋণাত্মক লিগ্যান্ড (anionic) | নাম (2005) | পুরনো নাম (বোর্ড) |
|---|---|---|---|---|
| H₂O | aqua | Cl⁻ | chlorido | chloro |
| NH₃ | ammine | CN⁻ | cyanido | cyano |
| CO | carbonyl | OH⁻ | hydroxido | hydroxo |
| NO | nitrosyl | F⁻, Br⁻, I⁻ | fluorido, bromido, iodido | fluoro, bromo, iodo |
জটিল আয়নের চার্জ = ধাতুর জারণ সংখ্যা + সব লিগ্যান্ডের চার্জের যোগফল। উল্টো দিক থেকে, চার্জ জানা থাকলে ধাতুর জারণ সংখ্যা বের হয়। যেমন K₂[CoCl₄(NH₃)₂]: দুটি K⁺ মানে জটিল আয়নের চার্জ −2, তাই
নামের নিয়ম:
- আয়নিক জটিল যৌগে, সাধারণ লবণের মতো, ক্যাটায়নের নাম আগে, অ্যানায়নের নাম পরে — জটিল অংশটি যেকোনো একটি হতে পারে।
- জটিল অংশের ভেতরে: লিগ্যান্ড বর্ণানুক্রমে (alphabetical — di/tri/tetra উপসর্গ না ধরে), তারপর ধাতু, তারপর বন্ধনীতে রোমান সংখ্যায় জারণ সংখ্যা। পুরো জটিল অংশ ফাঁকা ছাড়া এক শব্দে: tetraamminecopper(II)।
- একই লিগ্যান্ড একাধিক হলে di, tri, tetra, penta, hexa।
- জটিল আয়ন ঋণাত্মক হলে ধাতুর নামের শেষে -ate, অনেক সময় লাতিন মূলসহ: Fe → ferrate, Cu → cuprate, Ag → argentate, Au → aurate, Pb → plumbate, Sn → stannate (Co → cobaltate, Pt → platinate, Zn → zincate)। ধনাত্মক বা নিরপেক্ষ হলে ধাতুর নাম অপরিবর্তিত।
সংকেতের নিয়ম (IUPAC 2005): বর্গবন্ধনীতে প্রথমে ধাতুর প্রতীক, তারপর লিগ্যান্ডের সংকেত বর্ণানুক্রমে (দাতা পরমাণুর প্রতীক ধরে — H₂O-কে OH₂ হিসেবে)। তাই Cl আগে, NH₃ পরে, H₂O শেষে: K₂[CoCl₄(NH₃)₂], [CoCl₂(NH₃)₄]⁺, [Co(NH₃)₅(H₂O)]³⁺।
নিচে নিজে লিগ্যান্ড বসিয়ে দেখো নাম কীভাবে ধাপে ধাপে তৈরি হয়:
- 1লিগ্যান্ড বর্ণানুক্রমে (alphabetical, di/tri/tetra না ধরে): ammine
- 2সংখ্যার উপসর্গ (prefix): 6 → hexa
- 3আয়নের চার্জ = ধাতুর জারণ সংখ্যা + লিগ্যান্ডের চার্জ = +3 + 6×(0) = +3 → ধনাত্মক, তাই ধাতুর নাম অপরিবর্তিত: cobalt
- 4জারণ সংখ্যা রোমান সংখ্যায়, বন্ধনীতে: (III) · সন্নিবেশ সংখ্যা (coordination number) = 6
সংকেতে (formula) ক্রম আলাদা: ধাতু আগে, তারপর লিগ্যান্ডের সংকেত বর্ণানুক্রমে (দাতা পরমাণু আগে ধরে — H₂O কে OH₂): তাই Cl আগে, NH₃ পরে, H₂O শেষে।
- ছবির দুটি NH₃-এ চাপ দিয়ে সরাও, তারপর দুটি Cl⁻ যোগ করে [CoCl₂(NH₃)₄]⁺ বানাও। চার্জ আর নাম কী হলো?
- এমন একটি জটিল আয়ন বানাও যার চার্জ ঋণাত্মক — ধাতুর নাম কী হয়ে যায়?
| যৌগ | নাম |
|---|---|
| [Cu(NH₃)₄]SO₄ | tetraamminecopper(II) sulfate |
| [Ag(NH₃)₂]Cl | diamminesilver(I) chloride |
| K₄[Fe(CN)₆] | potassium hexacyanidoferrate(II) (পুরনো: hexacyanoferrate(II)) |
| [CoCl₂(NH₃)₄]⁺ | tetraamminedichloridocobalt(III) ion |
| [Ni(CO)₄] | tetracarbonylnickel(0) |
আয়নিত বনাম সন্নিবেশিত Cl⁻ (ionisable vs coordinated chloride)। [Co(NH₃)₆]Cl₃ পানিতে [Co(NH₃)₆]³⁺ আর 3টি মুক্ত Cl⁻ দেয় — AgNO₃ দিলে 3 mol সাদা AgCl অধঃক্ষেপ (precipitate)। কিন্তু [CoCl₃(NH₃)₃]-এ তিনটি Cl-ই বর্গবন্ধনীর ভেতরে, ধাতুর সঙ্গে সন্নিবেশ বন্ধনে আবদ্ধ — দ্রবণে মুক্ত Cl⁻ নেই, তাই AgCl পড়ে না। এভাবেই বর্নার (Alfred Werner) ১৮৯৩ সালে জটিল যৌগের গঠন প্রমাণ করেছিলেন।
[CrCl₂(H₂O)₄]Cl-এর 1 mol দ্রবণে যথেষ্ট AgNO₃ দিলে কত mol AgCl অধঃক্ষেপ পড়বে?
K₃[Fe(CN)₆]-এর IUPAC নাম কোনটি?
ধাপ ৬: এবার নিজে করে দেখো
নিয়মগুলো এখন তোমার জানা। “নাম তৈরির কারখানায়” তিনভাবে অনুশীলন করো:
- সংকেত → নাম: যৌগ বাছো (ধরন অনুযায়ী ছাঁকতে পারো), ইংরেজিতে IUPAC নাম লেখো, জারণ সংখ্যা ঠিক করো (জটিল যৌগে সন্নিবেশ সংখ্যাও)। পরিবর্তনশীল চার্জের ধাতুতে পুরনো -ous/-ic নামটিও চাওয়া হবে। ভুল হলে কারণসহ বলে দেবে; বানান, ফাঁকা জায়গা বা sulphate/sulfate নিয়ে চিন্তা নেই।
- নাম → সংকেত: সাধারণ কি-বোর্ডেই লেখো, যেমন Fe2(SO4)3 বা CuSO4.5H2O।
- জটিল যৌগ ল্যাব: ধাতু, জারণ সংখ্যা আর লিগ্যান্ড বেছে জটিল যৌগ বানাও, নাম দেখো, তারপর AgNO₃ দিয়ে পরীক্ষা করো কোন Cl⁻ আয়নিত।
চ্যালেঞ্জগুলো শেষ করো; প্রতিটি ঠিক উত্তর পর্যবেক্ষণ খাতায় (observation notebook) জমা হবে।
নাম তৈরির কারখানা
Name builder — IUPAC naming practiceচ্যালেঞ্জ (challenges)
0/6- সংকেত → নাম: FeO আর Fe₂O₃-এর নাম লেখো — Stock নাম আর পুরনো -ous/-ic নাম দুটোই। (0/2)
- নাম → সংকেত: potassium dichromate আর chromic acid-এর সংকেত লেখো। (0/2)
- সংকেত → নাম: H₂S₂O₈-এর নাম আর S-এর জারণ সংখ্যা বের করো।
- সংকেত → নাম: K₂[CoCl₄(NH₃)₂]-এর নাম, Co-এর জারণ সংখ্যা আর সন্নিবেশ সংখ্যা।
- জটিল যৌগ ল্যাব: [Co(NH₃)₆]Cl₃ আর [CoCl₃(NH₃)₃] বানিয়ে দুটিতেই AgNO₃ দাও। কোনটি AgCl দেয়? (0/2)
- সংকেত → নাম: HClO₂ আর NaClO₄। (0/2)
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
এখনো কিছু লেখা হয়নি — একটি যৌগের নাম বা সংকেত ঠিকঠাক লিখলে, বা AgNO₃ পরীক্ষা করলে এখানে জমা হবে।
নামগুলো IUPAC 2005 (Red Book) অনুযায়ী। বোর্ডের পুরনো রূপ (chloro, cyano, ferrous/ferric, bisulfate) লিখলেও গ্রহণ করা হয়, পাশে IUPAC রূপটি দেখানো হয়।
বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কয়েকটি ভুল আছে:
- “ক্রোমিক এসিড (H₂Cr₂O₇)” — ভুল। ক্রোমিক এসিড H₂CrO₄; H₂Cr₂O₇ হলো ডাইক্রোমিক এসিড (dichromic acid)। পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট K₂Cr₂O₇ এই দ্বিতীয়টির লবণ।
- “H₂S₂O₈ পারসালফিউরিক এসিড, S-এর জারণ সংখ্যা +7” — ভুল। –O–O– সেতুর দুটি O-এর জারণ সংখ্যা −1, তাই S = +6 (S-এর +7 হওয়া সম্ভবই নয়)। নাম peroxodisulfuric acid — এটি বইয়েরই পারঅক্সো-এসিড নিয়মে পড়ে, per…-ic নিয়মে নয়।
- পারঅ্যাসিটিক এসিডের সংকেত “CH₃–CO₂H” লেখা — সেটি তো অ্যাসিটিক এসিড! সঠিক CH₃CO₃H (CH₃C(O)OOH)।
- “অধাতব অক্সো-এসিডসমূহ স্থায়ী যেমন H₂SO₃” — H₂SO₃ কখনো আলাদা করা যায়নি; এটি শুধু SO₂-এর জলীয় দ্রবণ, SO₂(aq), হিসেবে থাকে।
- “F-এর অক্সো-এসিড নেই” — HOF (hypofluorous acid) ১৯৭১ সালে আলাদা করা হয়েছে, যদিও খুবই অস্থায়ী। F-এর আর কোনো অক্সো-এসিড নেই।
- জটিল যৌগের সংকেতে “ধাতু, তারপর নিরপেক্ষ লিগ্যান্ড, শেষে ঋণাত্মক লিগ্যান্ড” — IUPAC 2005 অনুযায়ী লিগ্যান্ড চার্জ নির্বিশেষে সংকেতের বর্ণানুক্রমে: বই K₂[Co(NH₃)₂Cl₄] লেখে, IUPAC লেখে K₂[CoCl₄(NH₃)₂]। (বইয়ের নিজের বোর্ড প্রশ্নেই [CoCl₂(NH₃)₄]⁺ লেখা।) পরীক্ষায় দুটিই সাধারণত মেনে নেওয়া হয়।
- সারণি ৩.১১-এর chloro, cyano, hydroxo, fluoro — বর্তমান IUPAC নাম chlorido, cyanido, hydroxido, fluorido। বোর্ডে পুরনো -o রূপ এখনো চলে; দুটিই জেনে রাখো।
- বইয়ের উদাহরণে নামের মাঝে ফাঁকা (“টেট্রা অ্যাম্মিন কপার (II) সালফেট”) — IUPAC-এ জটিল অংশটি এক শব্দ: tetraamminecopper(II) sulfate।
ঘরে বসে পরীক্ষা: লেবেল-শিকার (label hunt)
রান্নাঘর আর বাথরুমের জিনিসের গায়ে লেখা উপাদানের তালিকা (ingredients) পড়ে দেখো, কতগুলো অজৈব যৌগের নাম চিনতে পারো:
- টুথপেস্ট: sodium fluoride (NaF) বা sodium monofluorophosphate (Na₂PO₃F) খোঁজো।
- অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট বা সিরাপ: magnesium hydroxide (Mg(OH)₂), aluminium hydroxide (Al(OH)₃), calcium carbonate (CaCO₃)।
- ব্লিচ বা দাগ তোলার তরল: sodium hypochlorite (NaClO)।
- খাবার সোডা আর লবণের প্যাকেট: sodium hydrogencarbonate (NaHCO₃), আয়োডিনযুক্ত লবণে potassium iodate (KIO₃)।
- প্রতিটির সংকেত থেকে আয়ন দুটি আলাদা করে লেখো (যেমন NaClO = Na⁺ + ClO⁻), আর কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ সংখ্যা বের করো।
নিরাপত্তা: শুধু লেবেল পড়বে — কোনো কিছু খুলবে না, মেশাবে না, স্বাদ নেবে না। বিশেষ করে ব্লিচ (NaClO) কখনো এসিড বা অ্যামোনিয়াযুক্ত পরিষ্কারকের সঙ্গে মেশাবে না — বিষাক্ত Cl₂ বা ক্লোরামিন গ্যাস বের হয়।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. Systematic পদ্ধতিতে নাম লেখো: (ক) CsF (খ) K₂O (গ) CuO (ঘ) BaS (ঙ) Fe(ClO₄)₃ (চ) KHSO₄
- (ক) caesium fluoride — Cs-এর একটিই আয়ন (Cs⁺), রোমান সংখ্যা লাগে না।
- (খ) potassium oxide।
- (গ) copper(II) oxide — O²⁻-এর চার্জ −2, তাই Cu²⁺; Cu-এর দুটি আয়ন হয় বলে রোমান সংখ্যা লাগে (পুরনো নাম cupric oxide)।
- (ঘ) barium sulfide।
- (ঙ) iron(III) perchlorate — তিনটি ClO₄⁻ = −3, তাই Fe³⁺।
- (চ) potassium hydrogensulfate (পুরনো: potassium bisulfate)।
২. নাম থেকে সংকেত লেখো: (ক) manganese(IV) oxide (খ) aluminium oxide (গ) copper(II) sulfide (ঘ) chromium(III) sulfate (ঙ) ammonium phosphate
- (ক) Mn⁴⁺ + O²⁻ → MnO₂
- (খ) Al³⁺ + O²⁻ → Al₂O₃
- (গ) Cu²⁺ + S²⁻ → CuS
- (ঘ) Cr³⁺ + SO₄²⁻ → 2 × (+3) = +6, 3 × (−2) = −6 → Cr₂(SO₄)₃
- (ঙ) NH₄⁺ + PO₄³⁻ → (NH₄)₃PO₄ — বহুপরমাণুক ক্যাটায়ন তিনটি, তাই বন্ধনী।
৩. HClO, HClO₂, HClO₃ ও HClO₄-এর নাম লেখো এবং প্রতিটিতে Cl-এর জারণ সংখ্যা বের করো। কোন নিয়মে নামগুলো আলাদা হয়?
থেকে:
| এসিড | Cl-এর জারণ সংখ্যা | নাম |
|---|---|---|
| HClO | +1 | hypochlorous acid |
| HClO₂ | +3 | chlorous acid |
| HClO₃ | +5 | chloric acid |
| HClO₄ | +7 | perchloric acid |
কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ সংখ্যা বাড়ার ক্রমে নাম: hypo…-ous → -ous → -ic → per…-ic। এসিডগুলো এসেছে hypochlorite, chlorite, chlorate, perchlorate অ্যানায়ন থেকে (-ite → -ous, -ate → -ic)।
৪. P₄O₁₀ (P₂O₅) পানির সঙ্গে বিক্রিয়ায় H₃PO₄, H₄P₂O₇ ও HPO₃ দিতে পারে। এদের নাম লেখো এবং দেখাও যে তিনটিতেই P-এর জারণ সংখ্যা একই।
- H₃PO₄ (ortho)phosphoric acid:
- H₄P₂O₇ diphosphoric (pyrophosphoric) acid:
- HPO₃ metaphosphoric acid:
একই অক্সাইডে সবচেয়ে বেশি পানি যোগ হলে ortho, সবচেয়ে কম হলে meta, মাঝামাঝি হলে pyro। (সাবধান: H₃PO₃ phosphonic/phosphorous acid আলাদা — সেখানে P +3।)
৫. K₂[CoCl₄(NH₃)₂] যৌগে (ক) Co-এর জারণ সংখ্যা ও সন্নিবেশ সংখ্যা কত? (খ) IUPAC নাম লেখো। (গ) [CoCl₂(NH₃)₄]⁺ আয়নের নাম লেখো এবং ব্যাখ্যা করো কেন একটিতে “cobaltate” আর অন্যটিতে “cobalt”।
(ক) দুটি K⁺, তাই জটিল আয়ন [CoCl₄(NH₃)₂]²⁻। । ধাতুর সঙ্গে 4টি Cl আর 2টি NH₃ — সন্নিবেশ সংখ্যা 6।
(খ) লিগ্যান্ড বর্ণানুক্রমে: ammine (a) আগে, chlorido (c) পরে → potassium diamminetetrachloridocobaltate(II) (পুরনো রূপ: diamminetetrachlorocobaltate(II))।
(গ) → tetraamminedichloridocobalt(III) আয়ন। প্রথমটিতে জটিল আয়ন ঋণাত্মক, তাই ধাতুর নামে -ate (cobaltate); দ্বিতীয়টি ধনাত্মক, তাই ধাতুর নাম অপরিবর্তিত (cobalt)।
৬. CoCl₃ ও NH₃ থেকে তৈরি দুটি যৌগ A = [Co(NH₃)₆]Cl₃ এবং B = [CoCl₃(NH₃)₃]। প্রতিটির 0.01 mol দ্রবণে যথেষ্ট AgNO₃ দিলে কত গ্রাম AgCl পাওয়া যাবে? (AgCl = 143.3 g mol⁻¹)
A: [Co(NH₃)₆]Cl₃ → [Co(NH₃)₆]³⁺ + 3Cl⁻। 0.01 mol যৌগ থেকে 0.03 mol Cl⁻ → 0.03 mol AgCl = 0.03 × 143.3 = 4.30 g।
B: তিনটি Cl-ই সন্নিবেশ বলয়ে আবদ্ধ, দ্রবণে মুক্ত Cl⁻ নেই → 0 g (কোনো অধঃক্ষেপ নেই)। B তড়িৎ অবিশ্লেষ্য (non-electrolyte)।
নাম: A = hexaamminecobalt(III) chloride, B = triamminetrichloridocobalt(III)।