পাঠ ১৩ / ২০অনুচ্ছেদ ২.১০.১ (খ), ২.১১.৭
অ্যালডিহাইড ও কিটোন — নিউক্লিওফিলিক সংযোজন ও শনাক্তকরণAldehydes & ketones — nucleophilic addition & tests
দুটি টেস্টটিউবে দুটি বর্ণহীন তরল — একটিতে ইথান্যাল (ethanal), অন্যটিতে প্রোপানোন (propanone, অ্যাসিটোন)। দুটির অণুতেই কার্বন-অক্সিজেন দ্বিবন্ধন (C=O) আছে। নিচে নিজে দুই নলে টলেন্স বিকারক (Tollens’ reagent) দিয়ে গরম পানিতে বসাও:
দুটি নলেই বর্ণহীন তরল। দুটিরই অণুতে কার্বনিল মূলক (carbonyl group, C=O) আছে।
একই C=O মূলক, অথচ একটি নলের দেয়ালে রুপার আয়না, অন্যটিতে কিছুই না। কেন? আর এই পার্থক্য কাজে লাগিয়ে ল্যাবে কীভাবে অজানা জৈবযৌগ (organic compound) শনাক্ত করা হয়?
এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:
- কার্বনিল মূলক (carbonyl group) — অ্যালডিহাইড (aldehyde) আর কিটোন (ketone) কী, নাম ও ব্যবহার
- নিউক্লিওফিলিক সংযোজন (nucleophilic addition) — কেন HCHO > CH₃CHO > CH₃COCH₃
- নামকরা সংযোজন বিক্রিয়া — HCN, NaHSO₃, NH₃, 2,4-DNP আর গ্রিগনার্ড বিকারক (Grignard reagent)
- α-হাইড্রোজেন (alpha hydrogen) — অ্যালডল (aldol), ক্যানিজারো (Cannizzaro) ও আয়োডোফর্ম (iodoform) বিক্রিয়া
- জারণ (oxidation) দিয়ে অ্যালডিহাইড বনাম কিটোন — টলেন্স, ফেহলিং (Fehling’s), শিফ (Schiff’s) পরীক্ষা
- প্রস্তুতি (preparation) — অ্যালকোহল থেকে, শিল্পে, অ্যালকাইন থেকে, রোজেনমুন্ড (Rosenmund) পদ্ধতিতে
- এবার নিজে করে দেখো — কার্বনিল শনাক্তকরণের ভার্চুয়াল ল্যাব (virtual lab)
ধাপ ১: কার্বনিল মূলক — অ্যালডিহাইড আর কিটোন
সংকরণের পাঠে দেখেছ, দ্বিবন্ধনের (double bond) কার্বন sp² সংকরিত (sp² hybridised) — এর তিনটি σ বন্ধন একই তলে 120° কোণে ছড়ানো, আর বাকি p অরবিটাল (p orbital) পাশের পরমাণুর সঙ্গে π বন্ধন (pi bond) বানায়। কার্বনিল মূলকেও (carbonyl group, >C=O) তাই:
C=O বন্ধন পোলার (polar)। পোলারিটির পাঠে দেখেছ, বেশি তড়িৎ-ঋণাত্মক (electronegative) পরমাণু বন্ধনের ইলেকট্রন মেঘ নিজের দিকে টানে। পলিং স্কেলে (Pauling scale) O = 3.44, C = 2.55, পার্থক্য 0.89 (বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: 3.5 − 2.5 = 1.0)। ফলে C আংশিক ধনাত্মক (δ+), O আংশিক ঋণাত্মক (δ−)। π ইলেকট্রন আরও সহজে সরে, তাই এই মেরুকরণ (polarisation) আরও জোরালো। মনে রাখো: δ+ কার্বনই কার্বনিল যৌগের সব বিক্রিয়ার কেন্দ্র।
দুই শ্রেণি:
- অ্যালডিহাইড (aldehyde), R–CHO: C=O-এর সঙ্গে অন্তত একটি H। কার্যকরী মূলক (functional group) –CHO, নামের শেষে -al (অ্যাল)।
- কিটোন (ketone), R–CO–R′: C=O-এর দুই পাশেই কার্বন মূলক। মূলক >C=O, নামের শেষে -one (ওন)।
| সংকেত | IUPAC নাম | প্রচলিত নাম (common name) | স্ফুটনাঙ্ক (b.p., °C) |
|---|---|---|---|
| HCHO | মিথান্যাল (methanal) | ফরমালডিহাইড (formaldehyde) | −19.1 (গ্যাস) |
| CH₃CHO | ইথান্যাল (ethanal) | অ্যাসিট্যালডিহাইড (acetaldehyde) | 20.2 |
| CH₃CH₂CHO | প্রোপান্যাল (propanal) | প্রোপিওন্যালডিহাইড | 48.0 |
| CH₃COCH₃ | প্রোপানোন (propanone) | অ্যাসিটোন (acetone) | 56.1 |
| CH₃COCH₂CH₃ | বিউটানোন (butanone; বোর্ড: বিউটানোন-2) | ইথাইল মিথাইল কিটোন | 79.6 |
| C₆H₅CHO | বেনজ্যালডিহাইড (benzaldehyde) | — | 178.1 |
| C₆H₅COCH₃ | 1-ফিনাইলইথান-1-ওন | অ্যাসিটোফিনোন (acetophenone) | 202 |
একই কার্বন সংখ্যার অ্যালকোহলের (alcohol) চেয়ে এদের স্ফুটনাঙ্ক অনেক কম — যেমন প্রোপান্যাল 48.0 °C, কিন্তু প্রোপান-1-ওল 97.2 °C। কারণ কার্বনিল যৌগের অণুগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধন (hydrogen bond) হয় না — O–H নেই। আবার CH₃CH₂CHO আর CH₃COCH₃ দুটিরই আণবিক সংকেত C₃H₆O — এরা কার্যকরী মূলক সমাণু (functional isomer)।
ফরমালিন (formalin) হলো HCHO-এর প্রায় 37 % (w/w) জলীয় দ্রবণ, সঙ্গে 10–15 % মিথানল (methanol) — মিথানল HCHO-কে জমে সাদা পলিমার (paraformaldehyde) হতে দেয় না। ফরমালিন জীবাণুনাশক (disinfectant), জৈব নমুনা সংরক্ষণে (preserving specimens) আর বেকেলাইট (bakelite), মেলামাইন রেজিন (melamine resin) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটি বিষাক্ত ও ক্যানসার-সৃষ্টিকারী (carcinogen) — মাছ বা ফলে ফরমালিন দেওয়া অপরাধ। অ্যাসিটোন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জৈব দ্রাবক (organic solvent) — নেইলপলিশ রিমুভারে এর গন্ধই পাও।
কার্বনিল মূলকের কার্বনের সংকরণ (hybridisation) ও তার চারপাশের বন্ধন কোণ কোনটি?
ধাপ ২: নিউক্লিওফিলিক সংযোজন
যে বিকারক ইলেকট্রন জোড় নিয়ে ধনাত্মক কেন্দ্রের দিকে ছুটে যায়, তাকে বলে নিউক্লিওফাইল (nucleophile, কেন্দ্রাকর্ষী) — যেমন CN⁻, OH⁻, H₂O, NH₃, R⁻ (গ্রিগনার্ড বিকারক থেকে)। কার্বনিল যৌগে নিউক্লিওফাইল δ+ কার্বনকে আক্রমণ করে — এটিই নিউক্লিওফিলিক সংযোজন (nucleophilic addition)। তিন ধাপে ঘটে (HCN-এর উদাহরণে):
- নিউক্লিওফাইল তৈরি: HCN দুর্বল এসিড, তাই সামান্য ক্ষার (base) দিয়ে CN⁻ বাড়ানো হয়:
- আক্রমণ: CN⁻ δ+ কার্বনে যুক্ত হয়, আর π বন্ধনের ইলেকট্রন জোড় O-তে চলে যায়। সমতলীয় sp² কার্বন হয়ে যায় চতুস্তলকীয় (tetrahedral) sp³ — তৈরি হয় একটি অ্যালকক্সাইড আয়ন (alkoxide ion)। এটিই ধীর ধাপ (slow step)।
- প্রোটন গ্রহণ: অ্যালকক্সাইডের O⁻ পানি বা HCN থেকে H⁺ নিয়ে –OH হয়।
ইলেকট্রোফিলিক সংযোজনের পাঠের সঙ্গে তুলনা করো: C=C-এর π মেঘ ইলেকট্রন-সমৃদ্ধ ও অপোলার, তাই একে আক্রমণ করে ইলেকট্রোফাইল (electrophile)। C=O পোলার আর এর কার্বন ইলেকট্রন-ঘাটতিতে, তাই একে প্রথমে আক্রমণ করে নিউক্লিওফাইল।
এবার নিজে CN⁻ ছুড়ে দেখো — তিনটি অণুর কোনটির কার্বনে সবচেয়ে সহজে পৌঁছানো যায়:
নীল আভা = কার্বনের আংশিক ধনাত্মক চার্জ (δ+); ড্যাশ-বৃত্ত = CH₃ মূলকের ভিড় (steric crowding)। প্রতিটি CH₃ ইলেকট্রন ঠেলে (+I effect) δ+ কমায় আর পথও আটকায়। আনুমানিক (illustrative) — লাগার হার শুধু প্রবণতা (trend) দেখায়
আসল মাপা মান (measured): পানিতে সংযোজনের সাম্য ধ্রুবক (hydration constant) Khyd = 2,000 — সাম্যাবস্থায় মিথান্যাল-এর 99.95 % অণু পানির সঙ্গে যুক্ত (gem-diol) অবস্থায় থাকে।
HCHO ≈ 2000 · CH₃CHO 1.06 · CH₃COCH₃ 0.0014 (25 °C; Bell, Clayden) — একই ক্রম: HCHO > CH₃CHO > CH₃COCH₃।
ক্রম HCHO > CH₃CHO > CH₃COCH₃ (সাধারণভাবে: অ্যালডিহাইড > কিটোন) দুটি কারণে:
- ইলেকট্রনিক কারণ (+I effect): অ্যালকাইল মূলক (–CH₃, –C₂H₅) ইলেকট্রন ঠেলে দেয় (ইলেকট্রন দাতা, +I)। কার্বনিল কার্বনে যত বেশি অ্যালকাইল মূলক, এর δ+ তত কম, নিউক্লিওফাইলের টানও তত কম। HCHO-তে কোনো অ্যালকাইল নেই, CH₃CHO-তে একটি, CH₃COCH₃-তে দুটি।
- স্টেরিক কারণ (steric hindrance): বড় মূলক কার্বনের চারপাশে ভিড় করে, নিউক্লিওফাইলের পথ আটকায়। তার ওপর বিক্রিয়ায় 120°-এর সমতলীয় কার্বন 109.5°-এর চতুস্তলকীয় হয় — বড় মূলকগুলো তখন আরও গাদাগাদি হয়, তাই উৎপাদ কম সুস্থিত।
এটি শুধু বইয়ের কথা নয় — মাপা যায়। পানি নিজেও একটি দুর্বল নিউক্লিওফাইল, পানিতে কার্বনিল যৌগ সামান্য হলেও হাইড্রেট (gem-diol) বানায়: । সাম্য ধ্রুবক (equilibrium constant) যত বড়, সংযোজন তত সহজ:
| যৌগ | (25 °C) | সাম্যাবস্থায় হাইড্রেট অবস্থায় থাকে |
|---|---|---|
| HCHO | ≈ 2 × 10³ | 99.95 % |
| CH₃CHO | 1.06 | 51 % |
| CH₃COCH₃ | 1.4 × 10⁻³ | 0.14 % |
(উৎস: Bell; Clayden, Organic Chemistry, অধ্যায় 6।) ফরমালিনের প্রায় সব HCHO আসলে CH₂(OH)₂ হিসেবেই থাকে! আর অ্যারোমেটিক অ্যালডিহাইড (যেমন বেনজ্যালডিহাইড) অ্যালিফ্যাটিক অ্যালডিহাইডের চেয়ে কম সক্রিয়, কারণ বেনজিন বলয়ের π মেঘ রেজোন্যান্সে (resonance) C=O-এর δ+ কিছুটা পূরণ করে দেয়।
নিউক্লিওফিলিক সংযোজনে সক্রিয়তার (reactivity) সঠিক ক্রম কোনটি?
ধাপ ৩: নামকরা সংযোজন বিক্রিয়া
(ক) HCN — সায়ানোহাইড্রিন (cyanohydrin): সব অ্যালডিহাইড ও বেশির ভাগ কিটোন ক্ষারের সামান্য উপস্থিতিতে HCN-এর সঙ্গে সায়ানোহাইড্রিন দেয় (কৌশল ধাপ ২-এ)। এতে নতুন C–C বন্ধন তৈরি হয়, তাই কার্বন শিকল এক বাড়ে; –CN-কে আর্দ্র বিশ্লেষণ (hydrolysis) করলে α-হাইড্রক্সি এসিড পাওয়া যায় (ইথান্যাল থেকে ল্যাকটিক এসিড)। HCN মারাত্মক বিষ — এটি শুধু কাগজে-কলমে।
(খ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন সালফাইট (sodium hydrogen sulfite, NaHSO₃): অ্যালডিহাইড আর মিথাইল কিটোন সম্পৃক্ত NaHSO₃ দ্রবণে ঝাঁকালে সাদা কেলাসিত বাইসালফাইট যুতযৌগ (bisulfite adduct) পড়ে। নিউক্লিওফাইল হলো HSO₃⁻-এর সালফার (S) পরমাণু — এর নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় δ+ কার্বনে যায়, তাই উৎপাদে C–S বন্ধন:
উৎপাদ সোডিয়াম 1-হাইড্রক্সিইথেনসালফোনেট। লঘু এসিড বা Na₂CO₃ দিলে যুতযৌগ ভেঙে মূল কার্বনিল যৌগ ফিরে আসে — তাই অন্য জৈবযৌগের মিশ্রণ থেকে অ্যালডিহাইড আলাদা ও বিশুদ্ধ (purify) করতে এটি ব্যবহৃত হয়। C=O-এর দুই পাশে বড় মূলক থাকলে (যেমন পেন্টান-3-ওন, অ্যাসিটোফিনোন) বড় HSO₃⁻ পৌঁছাতে পারে না, কেলাসও পড়ে না।
(গ) অ্যামোনিয়া ও হেক্সামিন (hexamine): ফরমালিনকে গাঢ় NH₃-এর সঙ্গে গরম করলে খাঁচার মতো একটি বলয় যৌগ — হেক্সামিথিলিন টেট্রামিন (hexamethylenetetramine) বা হেক্সামিন — তৈরি হয়:
হেক্সামিন (মেথেনামিন, methenamine) মূত্রনালির সংক্রমণে জীবাণুনাশক (urinary antiseptic) ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় — অম্লীয় প্রস্রাবে এটি ধীরে ধীরে HCHO ছেড়ে জীবাণু মারে। শুকনো জ্বালানি ট্যাবলেটেও (solid fuel tablet) এটি থাকে।
(ঘ) 2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজিন (2,4-DNP, ব্র্যাডির বিকারক — Brady’s reagent): এটি কার্বনিল মূলকের সাধারণ পরীক্ষা। –NH₂-এর N প্রথমে নিউক্লিওফাইল হিসেবে C=O-তে যুক্ত হয়, তারপর এক অণু পানি বেরিয়ে যায় — একে বলে সংযোজন-অপসারণ (addition–elimination) বা ঘনীভবন (condensation) বিক্রিয়া। উৎপাদ 2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজোন হলুদ, কমলা বা লাল কেলাসিত অধঃক্ষেপ:
অধঃক্ষেপ ছেঁকে বিশুদ্ধ করে গলনাঙ্ক (melting point) মাপলে বোঝা যায় এটি কোন কার্বনিল যৌগের — প্রতিটির হাইড্রাজোনের গলনাঙ্ক আলাদা (যেমন প্রোপানোন 126 °C, বিউটানোন 117 °C)।
(ঙ) গ্রিগনার্ড বিকারক (Grignard reagent, R–MgX): অ্যালকোহলের পাঠে দেখবে, অ্যালকোহল তৈরির সবচেয়ে কাজের পথ এটি। R–Mg বন্ধনে C আংশিক ঋণাত্মক, তাই R⁻ শক্তিশালী নিউক্লিওফাইল। শুষ্ক ইথারে (dry ether) এটি C=O-তে যুক্ত হয়ে নতুন C–C বন্ধন বানায়; পরে লঘু এসিডে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে অ্যালকোহল। আগে অনুমান করো, তারপর মিলিয়ে দেখো:
CH₃MgBr + ইথান্যাল (CH₃CHO), তারপর লঘু এসিডে আর্দ্র বিশ্লেষণ (hydrolysis)। কোন শ্রেণির অ্যালকোহল (alcohol) হবে? আগে অনুমান করো:
নিয়মটি: HCHO → ১° অ্যালকোহল, অন্য যেকোনো অ্যালডিহাইড → ২° অ্যালকোহল, কিটোন → ৩° অ্যালকোহল। কারণ OH-যুক্ত কার্বনে যতগুলো কার্বন মূলক থাকে, অ্যালকোহল ততম শ্রেণির — একটি আসে গ্রিগনার্ড থেকে, বাকিগুলো কার্বনিল যৌগে আগেই ছিল।
CH₃MgBr-এর সঙ্গে কোন যৌগ বিক্রিয়া করিয়ে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে 2-মিথাইলপ্রোপান-2-ওল (৩° অ্যালকোহল) পাওয়া যাবে?
ধাপ ৪: α-হাইড্রোজেন — অ্যালডল, ক্যানিজারো ও আয়োডোফর্ম
কার্বনিল কার্বনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কার্বনটি α-কার্বন (alpha carbon), আর তাতে লাগানো H হলো α-হাইড্রোজেন (α-H)। সাধারণ C–H প্রায় অম্লীয় নয়, কিন্তু α-H অনেক বেশি অম্লীয় (acidic): ক্ষার (OH⁻) এটি তুলে নিলে যে কার্বানায়ন (carbanion) থাকে, তার ঋণাত্মক চার্জ রেজোন্যান্সে C=O-এর অক্সিজেনে ছড়িয়ে পড়ে (enolate ion) — তাই আয়নটি সুস্থিত। α-H আছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে ক্ষারে কোন বিক্রিয়া হবে। নিচে প্রতিটি অণুর α-কার্বন খুঁজে বের করো:
হলুদ বৃত্ত = কার্বনিল কার্বন (carbonyl C)। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত প্রতিটি কার্বন হলো α-কার্বন (alpha carbon) — সেগুলোতে ট্যাপ করো।
অ্যালডল বিক্রিয়া (aldol reaction) — α-H থাকলে, লঘু ক্ষারে:
- OH⁻ একটি α-H তুলে নিয়ে কার্বানায়ন (enolate) বানায়:
- এই কার্বানায়ন নিজেই নিউক্লিওফাইল — এটি আরেকটি CH₃CHO অণুর δ+ কার্বনিল কার্বনে যুক্ত হয়, নতুন C–C বন্ধন হয়।
- তৈরি হওয়া অ্যালকক্সাইড পানি থেকে H⁺ নেয়।
উৎপাদ 3-হাইড্রক্সিবিউটান্যাল — এতে aldehyde আর alcohol দুটোই আছে, তাই নাম aldol। গরম করলে এটি এক অণু পানি হারিয়ে বিউট-2-ইন্যাল (but-2-enal, ক্রোটোন্যালডিহাইড) হয় — একে বলে অ্যালডল ঘনীভবন (aldol condensation)। কিটোনেও (প্রোপানোন) α-H আছে, অ্যালডল ঘটে, কিন্তু সাম্যাবস্থা প্রায় পুরোপুরি বিক্রিয়কের দিকে, উৎপাদ খুবই সামান্য।
ক্যানিজারো বিক্রিয়া (Cannizzaro reaction) — α-H না থাকলে, গাঢ় (≈ 50 %) ক্ষারে: HCHO, C₆H₅CHO, (CH₃)₃CCHO-তে α-H নেই (HCHO-তে α-কার্বনই নেই; বাকি দুটির α-কার্বনে H নেই)। তখন এক অণু আলডিহাইড জারিত (oxidised) হয়ে লবণ আর আরেক অণু বিজারিত (reduced) হয়ে অ্যালকোহল হয় — একই পদার্থের একসঙ্গে জারণ-বিজারণ (disproportionation):
কৌশল: OH⁻ প্রথম অণুর C=O-তে যুক্ত হয়; সেই অণু তার C–H-এর H-কে হাইড্রাইড আয়ন (hydride ion, H⁻) হিসেবে দ্বিতীয় অণুর δ+ কার্বনে দিয়ে দেয়। প্রথমটি হয় কার্বক্সিলিক এসিড → লবণ, দ্বিতীয়টি অ্যালকক্সাইড → অ্যালকোহল।
হ্যালোফর্ম বা আয়োডোফর্ম বিক্রিয়া (haloform / iodoform reaction): যে যৌগে CH₃–CO– মূলক আছে (বা যা জারিত হয়ে তা দেয়, যেমন CH₃–CH(OH)–), I₂ ও NaOH-এর সঙ্গে হালকা গরম করলে হলুদ অধঃক্ষেপ আয়োডোফর্ম (CHI₃, গলনাঙ্ক 119 °C) দেয়, সঙ্গে হাসপাতালের মতো গন্ধ। CH₃-এর তিনটি α-H একে একে I দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়, তারপর CI₃ মূলক ভেঙে বেরিয়ে যায়:
ইথান্যাল (CH₃–CHO) হলো একমাত্র অ্যালডিহাইড যা আয়োডোফর্ম দেয় — কারণ শুধু এর –CHO-এর পাশেই CH₃। ধনাত্মক: ইথানল, ইথান্যাল, প্রোপান-2-ওল, প্রোপানোন, বিউটানোন, অ্যাসিটোফিনোন। ঋণাত্মক: মিথানল, মিথান্যাল, প্রোপান্যাল, পেন্টান-3-ওন।
কোন যৌগটি গাঢ় NaOH-এ ক্যানিজারো বিক্রিয়া দেবে?
ধাপ ৫: জারণ দিয়ে অ্যালডিহাইড বনাম কিটোন
এবার হুকের প্রশ্নের উত্তর। অ্যালডিহাইডের কার্বনিল কার্বনে একটি H আছে। মৃদু জারকও (mild oxidising agent) এই C–H-কে C–OH-এ বদলে দিতে পারে, তাই অ্যালডিহাইড সহজেই কার্বক্সিলিক এসিড (বা ক্ষারে তার লবণ) হয়ে যায় — অর্থাৎ অ্যালডিহাইড একটি বিজারক (reducing agent)। কিটোনে এমন H নেই; জারিত হতে হলে C–C বন্ধন ভাঙতে হবে, যা মৃদু জারক পারে না। তিনটি পরীক্ষা এর ওপর দাঁড়িয়ে:
টলেন্স পরীক্ষা (Tollens’ test) — রুপালি আয়না: বিকারকটি অ্যামোনিয়াযুক্ত সিলভার নাইট্রেট — এতে থাকে ডাইঅ্যামিন সিলভার(I) আয়ন। AgNO₃ দ্রবণে এক ফোঁটা NaOH দিলে বাদামি Ag₂O পড়ে, তারপর লঘু NH₃ ফোঁটায় ফোঁটায় দিলে তা গলে স্বচ্ছ দ্রবণ:
অ্যালডিহাইডসহ 50–60 °C পানির গামলায় গরম করলে Ag⁺ বিজারিত হয়ে ধাতব রুপা টেস্টটিউবের দেয়ালে আয়নার মতো জমে:
নিরাপত্তা: টলেন্স বিকারক প্রতিবার টাটকা বানাতে হয় আর পরীক্ষার পর বাকিটা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিতে হয় (লঘু HNO₃ দিয়ে)। রেখে দিলে এতে কালো, অত্যন্ত বিস্ফোরক সিলভার নাইট্রাইড (silver nitride, “fulminating silver”) জমতে পারে, যা সামান্য ছোঁয়াতেই ফাটে। বইয়ে এই সতর্কতা নেই।
ফেহলিং পরীক্ষা (Fehling’s test) — ইটলাল অধঃক্ষেপ: ফেহলিং A (CuSO₄ দ্রবণ) আর ফেহলিং B (রোশেল লবণ, Rochelle salt — সোডিয়াম পটাশিয়াম টারটারেট — আর NaOH) সমান আয়তনে মেশালে গাঢ় নীল দ্রবণ পাওয়া যায়: টারটারেট আয়ন Cu²⁺-কে জটিল আয়নে (complex ion) বেঁধে রাখে, তাই ক্ষারে Cu(OH)₂ পড়ে না। অ্যালিফ্যাটিক অ্যালডিহাইডসহ ফুটন্ত পানির গামলায় কয়েক মিনিট রাখলে Cu²⁺ বিজারিত হয়ে ইটের মতো লাল কিউপ্রাস অক্সাইড (Cu₂O) পড়ে:
বেনজ্যালডিহাইডের মতো অ্যারোমেটিক অ্যালডিহাইড ফেহলিং দ্রবণকে প্রায় বিজারিত করে না — তাদের জন্য টলেন্স ব্যবহার করো।
শিফ পরীক্ষা (Schiff’s test) — ম্যাজেন্টা রং: শিফ বিকারক হলো ম্যাজেন্টা রঞ্জককে (রোজানিলিন, rosaniline) SO₂ দিয়ে বর্ণহীন করা দ্রবণ। অ্যালডিহাইড দিলে ঠান্ডাতেই গোলাপি-ম্যাজেন্টা রং ফিরে আসে; কিটোনে আসে না। শিফ বিকারক কখনো গরম করবে না — তাপে SO₂ বেরিয়ে গিয়ে অ্যালডিহাইড ছাড়াই গোলাপি হয়ে যায় (ভুল ফল)।
একটি ফাঁদ: মিথানয়িক এসিড (ফরমিক এসিড, H–COOH) অ্যালডিহাইড নয়, তবু এর H–C(=O)– অংশটি জারিত হয়ে CO₂ হয় — তাই এটি টলেন্স ও ফেহলিং দুটিকেই বিজারিত করে। কিন্তু 2,4-DNP-তে কোনো অধঃক্ষেপ দেয় না।
কিটোনকে জোর করে জারিত করলে: গাঢ় K₂Cr₂O₇/H₂SO₄ বা KMnO₄ দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফোটালে কিটোনের C–CO বন্ধন ভেঙে কম কার্বনের এসিডের মিশ্রণ হয়। পপফের নিয়ম (Popoff’s rule): যে পাশের অ্যালকাইল মূলক ছোট, কার্বনিল মূলক সেই পাশে থেকে যায়। যেমন বিউটানোন থেকে দুই অণু ইথানয়িক এসিড:
কোন জোড়াকে টলেন্স বিকারক দিয়ে আলাদা করা যাবে না?
ধাপ ৬: অ্যালডিহাইড ও কিটোনের প্রস্তুতি
১. অ্যালকোহলের জারণ (oxidation of alcohols): লঘু H₂SO₄-মেশানো K₂Cr₂O₇ (কমলা, Cr₂O₇²⁻) দিয়ে জারণ করলে ১° অ্যালকোহল থেকে অ্যালডিহাইড আর ২° অ্যালকোহল থেকে কিটোন পাওয়া যায়; জারক বিজারিত হয়ে সবুজ Cr³⁺ হয়। ([O] দিয়ে লেখা বইয়ের রীতি — convention):
সমস্যা হলো, অ্যালডিহাইড নিজেও বিজারক — রেখে দিলে জারিত হয়ে কার্বক্সিলিক এসিড হয়ে যায়। কৌশলটা স্ফুটনাঙ্কে। দুই রকম যন্ত্রসজ্জা চালিয়ে দেখো:
২. শিল্পে ফরমালডিহাইড (industrial): মিথানল বাষ্প আর বাতাস উত্তপ্ত সিলভার (Ag) প্রভাবকের (catalyst) ওপর দিয়ে প্রায় 600–650 °C-এ পাঠানো হয় (আরেক পদ্ধতিতে Fe–Mo অক্সাইড প্রভাবক, 250–400 °C):
৩. অ্যালকাইনের পানিযোজন (hydration of alkynes): 2 % HgSO₄ ও 20 % H₂SO₄-এ ইথাইনে পানি যুক্ত হয়ে প্রথমে অস্থায়ী ইনল (enol) হয়, যা সঙ্গে সঙ্গে পুনর্বিন্যস্ত (tautomerise) হয়ে ইথান্যাল দেয়। অন্য সব অ্যালকাইন থেকে কিটোন হয় (যেমন প্রোপাইন → প্রোপানোন)।
৪. অ্যালকিনের ওজোনোলাইসিস (ozonolysis): O₃, তারপর Zn ও পানি — দ্বিবন্ধন ভেঙে দুই টুকরা কার্বনিল যৌগ। বিউট-2-ইন থেকে দুই অণু ইথান্যাল; 2-মিথাইলপ্রোপিন থেকে প্রোপানোন + মিথান্যাল।
৫. ক্যালসিয়াম লবণের শুষ্ক পাতন (dry distillation): ; ক্যালসিয়াম মিথানয়েট মিশিয়ে নিলে অ্যালডিহাইড পাওয়া যায়।
৬. রোজেনমুন্ড বিজারণ (Rosenmund reduction): এসিড ক্লোরাইডকে H₂ দিয়ে বিজারণ করা হয় BaSO₄-এর ওপর রাখা Pd প্রভাবকে:
BaSO₄ (প্রায়ই সঙ্গে কুইনোলিন-সালফার) প্যালাডিয়ামকে “বিষিয়ে” (poison) দুর্বল করে — যাতে বিক্রিয়া অ্যালডিহাইডেই থামে, অ্যালডিহাইড আরও বিজারিত হয়ে অ্যালকোহল না হয়।
৭. বেনজ্যালডিহাইড: টলুইনের পার্শ্বশিকলে (side chain) আলো বা তাপে Cl₂ চালনা করে বেনজাল ক্লোরাইড (C₆H₅CHCl₂), তারপর আর্দ্র বিশ্লেষণ; অথবা ইটার্ড বিক্রিয়া (Étard reaction) — টলুইন + ক্রোমিল ক্লোরাইড (CrO₂Cl₂)। জেম-ডাইহ্যালাইডের (gem-dihalide) আর্দ্র বিশ্লেষণ একই নীতিতে অন্য অ্যালডিহাইড ও কিটোনও দেয়।
উল্টো পথ — ক্লেমেনসেন বিজারণ (Clemmensen reduction): Zn-পারদ সংকর (zinc amalgam) আর গাঢ় HCl দিয়ে C=O সরাসরি CH₂ হয়: ।
ইথানলকে K₂Cr₂O₇/H₂SO₄ দিয়ে জারণ করে ইথান্যাল পেতে চাইলে কী করতে হবে?
ধাপ ৭: এবার নিজে করে দেখো — কার্বনিল শনাক্তকরণের ভার্চুয়াল ল্যাব
তোমার টেবিলে নয়টি জানা নমুনা (sample) আর চারটি অজানা নমুনা (X, Y, Z, Q), আটটি বিকারক (reagent) আর একটি পানির গামলা (water bath)।
- নমুনা বেছে বিকারকের বোতাম চাপো — প্রতিবার নতুন টেস্টটিউবে পরীক্ষা হয়। দরকারি তাপমাত্রা নিজে ঠিক করো: টলেন্স 50–60 °C, ফেহলিং ফুটন্ত গামলা, শিফ ঠান্ডায়। ভুল তাপমাত্রায় ফলও ভুল আসবে!
- টলেন্স বিকারক আগে নিজে তিন ধাপে বানাতে হবে, আর কাজ শেষে ফেলে দিতে হবে।
- 2,4-DNP-তে অধঃক্ষেপ পেলে তার গলনাঙ্ক মেপে সারণির সঙ্গে মেলাও।
- প্রতিটি অজানা নমুনা শনাক্ত করে জমা দাও, আর চ্যালেঞ্জগুলো শেষ করো। পর্যবেক্ষণ খাতা (notebook) নিজে থেকেই ভরে যাবে — চাইলে CSV নামাও।
কার্বনিল শনাক্তকরণ ল্যাব
Aldehydes & ketones — virtual practical⚠ শুধু ভার্চুয়াল (virtual only): ফরমালিন, টলেন্স বিকারক, 2,4-DNP — এগুলো বিষাক্ত বা বিপজ্জনক। বাস্তবে শুধু শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে, ধোঁয়া-কক্ষে (fume hood), চশমা ও দস্তানা পরে।
ঘরের তাপমাত্রা (room temperature)
- AgNO₃ দ্রবণ নাও
- 1 ফোঁটা NaOH → বাদামি Ag₂O
- লঘু NH₃ ফোঁটায় ফোঁটায় — অধঃক্ষেপ গলা পর্যন্ত
টলেন্স পরীক্ষার আগে ওপরের ধাপে বিকারকটি তৈরি করো।
অজানা নমুনা শনাক্ত করো (identify the unknowns)
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/6- প্রোপান্যাল (propanal) আর প্রোপানোনকে (propanone) দুটি ভিন্ন পরীক্ষায় আলাদা করো (0/2)
- চারটি আলডিহাইডেই আয়োডোফর্ম পরীক্ষা (iodoform test) করে খুঁজে বের করো কোনটি একমাত্র ধনাত্মক (0/4)
- এমন যৌগ খোঁজো যা টলেন্স বিকারক বিজারিত করে কিন্তু আলডিহাইড নয় (2,4-DNP দিয়ে প্রমাণ করো)
- অজানা Q (C₅H₁₀O) শনাক্ত করো: DNP +, টলেন্স −, আয়োডোফর্ম −
- একটি যৌগে ক্যানিজারো (50 % NaOH) আর আরেকটিতে অ্যালডল (লঘু NaOH, গরম) বিক্রিয়া দেখাও
- যে অজানাটি কিটোন এবং আয়োডোফর্ম ধনাত্মক, তার 2,4-DNP ডেরিভেটিভের গলনাঙ্ক মেপে সেটি শনাক্ত করো
ব্যবহারিক খাতা (practical notebook)
এখনো কিছু লেখা হয়নি। প্রতিটি পরীক্ষা এখানে নিজে থেকেই লেখা হবে: নমুনা (sample), পরীক্ষা (test), পর্যবেক্ষণ (observation), সিদ্ধান্ত (inference)।
বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে:
- বাইসালফাইট সংযোজন (পৃ. 228, 306): বইয়ে বিকারককে “সোডিয়াম সালফাইট (SO₂Na)” বলা হয়েছে আর উৎপাদ আঁকা হয়েছে CH₃–CH(OH)–O–SO₂Na, যেন O দিয়ে যুক্ত। আসলে বিকারক সোডিয়াম হাইড্রোজেন সালফাইট (NaHSO₃), আর এটি যুক্ত হয় সালফার দিয়ে: উৎপাদ CH₃CH(OH)SO₃Na (সোডিয়াম 1-হাইড্রক্সিইথেনসালফোনেট), যাতে C–S বন্ধন আছে, C–O–S নয়।
- ফরমালডিহাইড শিল্প-প্রস্তুতি (পৃ. 293): বইয়ে “Ag, 300 °C”। সিলভার-প্রভাবক পদ্ধতি চলে প্রায় 600–650 °C-এ; 250–400 °C-এর পদ্ধতিতে প্রভাবক Fe–Mo অক্সাইড।
- ফেহলিং দ্রবণের উপাদান (পৃ. 296): বইয়ে “5 % কপার সালফেট আর 5 % NaOH”। আদর্শ প্রস্তুতি (Vogel): ফেহলিং A ≈ 69 g CuSO₄·5H₂O প্রতি লিটারে (≈ 7 %); ফেহলিং B = 346 g রোশেল লবণ + 100 g NaOH প্রতি লিটারে; ব্যবহারের আগে সমান আয়তনে মেশাতে হয়।
- বেনজাল ক্লোরাইড (পৃ. 295): টলুইনের পার্শ্বশিকলে ক্লোরিনেশনের জন্য আলো বা তাপ লাগে — বই শর্তটি লেখেনি। আলো ছাড়া, লুইস এসিড (FeCl₃) থাকলে Cl বলয়ে (ring) বসে, পার্শ্বশিকলে নয়।
- হেক্সামিন (পৃ. 228): “বাতজ্বরের (rheumatic fever) ওষুধ” — এটি পুরোনো ব্যবহার। আজ হেক্সামিন (মেথেনামিন) মূলত মূত্রনালির জীবাণুনাশক (urinary antiseptic)।
- টলেন্স বিকারকের নিরাপত্তা: বই বলে না যে বিকারক টাটকা বানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিতে হয় — পুরোনো অ্যামোনিয়াযুক্ত রুপার দ্রবণে বিস্ফোরক সিলভার নাইট্রাইড জমতে পারে।
- তড়িৎ-ঋণাত্মকতা: বই লেখে 3.5 − 2.5 = 1.0 — এটি বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর; আসল পলিং মান 3.44 − 2.55 = 0.89।
- প্রশ্নব্যাংক: MCQ 225-এ “মিথাইল কিটোন জারিত হয়ে এসিড হয়” — সঠিক উত্তর “সবগুলো” নয়, কারণ কিটোন সাধারণ জারণে জারিত হয় না (সঠিক i ও ii)। MCQ 227-এর উৎপাদ আসলে একটি এস্টার, কোনো অপশনেই নেই — দেওয়া উত্তর (পেন্টান-3-ওন) ভুল। MCQ 120-এ কিটোনের C=O শোষণ 1701 cm⁻¹ ধরা হয়েছে; আসল মান প্রায় 1715 cm⁻¹।
- রীতি, ভুল নয়: টলেন্স প্রস্তুতিতে বই AgOH লেখে (আসলে Ag₂O পড়ে); জারণে [O] লেখা হিসাবের সুবিধার জন্য; অ্যালকাইনের ওজোনোলাইসিসে HCOOH লেখা হয় (বাস্তবে প্রায়ই CO₂)।
ঘরে বসে পরীক্ষা: রান্নাঘরের অ্যালডিহাইড
কার্বনিল যৌগ শুধু ল্যাবে নয় — রান্নাঘরের অনেক সুগন্ধই অ্যালডিহাইড। এখানে কোনো বিক্রিয়া করবে না, শুধু গন্ধ নেবে আর গঠন চিনবে।
- এক টুকরা দারুচিনি (cinnamon) হাতের তালুতে ঘষে গন্ধ নাও। এর গন্ধ আসে সিনাম্যালডিহাইড (cinnamaldehyde) থেকে: C₆H₅–CH=CH–CHO।
- ভ্যানিলা এসেন্সের (vanilla essence) বোতলের মুখ নাক থেকে একটু দূরে ধরে হাত দিয়ে বাতাস নাকের দিকে আনো (wafting)। গন্ধ আসে ভ্যানিলিন (vanillin) থেকে — এর বেনজিন বলয়ে –CHO, –OH আর –OCH₃ তিনটি মূলক।
- দুটি গঠন খাতায় আঁকো, প্রতিটিতে –CHO মূলকটি গোল দাগ দাও। দুটিই অ্যারোমেটিক অ্যালডিহাইড — বেনজ্যালডিহাইডের মতো। বেনজ্যালডিহাইডের নিজের গন্ধ তিতা বাদামের (bitter almond)।
- ভেবে দেখো: এদের কোনটিতে α-H আছে? (দুটিরই –CHO কার্বনের পাশের কার্বনে H নেই — বলয়ের কার্বন বা দ্বিবন্ধনের কার্বন।)
এবার ভাবো উল্টো দিকটা: বাজারে মাছ বা ফলে ফরমালিন মেশানো হয়, কারণ HCHO প্রোটিনকে শক্ত করে পচন আটকায় — কিন্তু এটি বিষ আর ক্যানসার-সৃষ্টিকারী। এ নিয়ে আরও আলোচনা আছে দৈনন্দিন জীবনে জৈবযৌগের পাঠে।
নিরাপত্তা: শুধু খাবারের দারুচিনি আর ভ্যানিলা এসেন্স ব্যবহার করো, তাও অল্প। বোতলে সরাসরি নাক লাগিয়ে শুঁকবে না — হাত দিয়ে বাতাস টেনে আনো। দারুচিনির তেল (cinnamon oil) ত্বক ও চোখে জ্বালা করে — ছোঁবে না। ফরমালিন বা ল্যাবের কোনো রাসায়নিক কখনো ঘরে আনবে না, শুঁকবেও না।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. ইথান্যালে HCN-এর সংযোজনের কৌশল (mechanism) লেখো। এই বিক্রিয়ায় সামান্য ক্ষার দিতে হয় কেন?
HCN দুর্বল এসিড, এতে CN⁻ খুব কম। সামান্য ক্ষার CN⁻-এর পরিমাণ বাড়ায়: ।
ধাপ ১ (ধীর): নিউক্লিওফাইল CN⁻ ইথান্যালের δ+ কার্বনিল কার্বনকে আক্রমণ করে; π ইলেকট্রন জোড় O-তে সরে যায়, চতুস্তলকীয় অ্যালকক্সাইড আয়ন হয়:
ধাপ ২ (দ্রুত): অ্যালকক্সাইড পানি (বা HCN) থেকে প্রোটন নেয়:
উৎপাদ 2-হাইড্রক্সিপ্রোপেননাইট্রাইল (ইথান্যাল সায়ানোহাইড্রিন)। OH⁻ আবার ফিরে আসে, তাই ক্ষার এখানে প্রভাবকের (catalyst) মতো কাজ করে।
২. X = CH₃CH₂CHO এবং Y = CH₃COCH₃। (গ) দুটি রাসায়নিক পরীক্ষায় X ও Y আলাদা করো (সমীকরণসহ)। (ঘ) নিউক্লিওফিলিক সংযোজনে কোনটি বেশি সক্রিয়? বিশ্লেষণ করো।
(গ) টলেন্স পরীক্ষা: X গরম পানির গামলায় রুপালি আয়না দেয়, Y দেয় না:
আয়োডোফর্ম পরীক্ষা: Y-তে CH₃CO– আছে, তাই I₂/NaOH-এ হলুদ CHI₃ পড়ে; X-এ পড়ে না:
(ফেহলিং বা শিফ পরীক্ষাও চলে; 2,4-DNP চলবে না — দুটিই ধনাত্মক।)
(ঘ) X (প্রোপান্যাল) বেশি সক্রিয়। কারণ: (১) Y-এর কার্বনিল কার্বনে দুটি অ্যালকাইল মূলক, X-এ একটি — অ্যালকাইলের +I প্রভাব কার্বনের δ+ কমায়, তাই Y-এ নিউক্লিওফাইলের আকর্ষণ কম। (২) Y-এর দুই পাশে দুটি CH₃ নিউক্লিওফাইলের পথে বেশি স্টেরিক বাধা দেয়, আর চতুস্তলকীয় উৎপাদে বেশি গাদাগাদি হয়। মাপা প্রমাণ: পানিতে হাইড্রেট তৈরির সাম্য ধ্রুবক CH₃CHO-এর 1.06, CH₃COCH₃-এর মাত্র 1.4 × 10⁻³।
৩. HCHO ক্যানিজারো বিক্রিয়া দেয় কিন্তু অ্যালডল দেয় না; CH₃CHO অ্যালডল দেয়। শর্ত ও সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো।
অ্যালডল বিক্রিয়ার প্রথম ধাপে OH⁻ একটি α-H তুলে কার্বানায়ন বানায়। CH₃CHO-এর α-কার্বনে (CH₃) তিনটি H আছে, তাই লঘু NaOH-এ: (3-হাইড্রক্সিবিউটান্যাল)
HCHO-তে কোনো α-কার্বনই নেই, তাই কার্বানায়ন হয় না, অ্যালডলও অসম্ভব। গাঢ় (≈ 50 %) NaOH-এ এক অণু অন্য অণুকে হাইড্রাইড আয়ন দেয় — একটি জারিত, অন্যটি বিজারিত:
শর্তের সারাংশ: অ্যালডল — α-H আছে, লঘু ক্ষার; ক্যানিজারো — α-H নেই, গাঢ় ক্ষার, একই যৌগের জারণ-বিজারণ (disproportionation)।
৪. গ্রিগনার্ড বিকারক ব্যবহার করে কীভাবে প্রস্তুত করবে: (ক) প্রোপান-2-ওল, (খ) 2-মিথাইলপ্রোপান-2-ওল?
(ক) ২° অ্যালকোহল লাগে HCHO ছাড়া অন্য অ্যালডিহাইড থেকে। CH₃CHO + CH₃MgBr শুষ্ক ইথারে, তারপর লঘু এসিডে আর্দ্র বিশ্লেষণ: ,
(খ) ৩° অ্যালকোহল লাগে কিটোন থেকে। প্রোপানোন + CH₃MgBr: ,
শুষ্ক ইথার লাগে কারণ পানি থাকলে গ্রিগনার্ড বিকারক আগেই পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যালকেন হয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
৫. 1.10 g ইথান্যাল অতিরিক্ত টলেন্স বিকারকের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিক্রিয়া করলে কত গ্রাম রুপা জমবে? (C = 12.011, H = 1.008, O = 15.999, Ag = 107.87)
g mol⁻¹
ইথান্যালের মোল mol
সমীকরণ: — 1 mol ইথান্যাল থেকে 2 mol Ag।
Ag mol g।
৬. ফরমালিন কী? এতে মিথানল মেশানো হয় কেন? 14.0 g হেক্সামিন তৈরিতে কত গ্রাম HCHO লাগবে?
ফরমালিন হলো প্রায় 37 % (w/w) HCHO-এর জলীয় দ্রবণ, সঙ্গে 10–15 % মিথানল। মিথানল HCHO-কে প্যারাফরমালডিহাইড নামের সাদা পলিমার হয়ে জমে যেতে দেয় না (stabiliser)। ফরমালিন জীবাণুনাশক ও জৈব নমুনা সংরক্ষক, তবে বিষাক্ত — খাবারে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ।
g mol⁻¹, তাই 14.0 g mol হেক্সামিন। দরকার mol HCHO g।