পাঠ ১২ / ২০অনুচ্ছেদ ২.১১.৬
অ্যামিন, ডায়াজোনিয়াম লবণ ও অ্যাজো রঞ্জকAmines, diazonium salts & azo dyes
কাপড়ের দোকানের উজ্জ্বল হলুদ, কমলা আর লাল রঙের বড় অংশই অ্যাজো রঞ্জক (azo dye) — আর প্রায় সবগুলোর জন্ম একটি বরফ-ঠান্ডা বিকারে। নিচে অ্যানিলিন (aniline) থেকে তৈরি ডায়াজোনিয়াম লবণের (diazonium salt) দ্রবণ আছে। থার্মোমিটার টেনে তাপমাত্রা বদলাও, তারপর ক্ষারীয় ফেনলে ঢালো:
- এই তাপমাত্রায় অর্ধায়ু (half-life)
- 7.1 দিন (days)
- ঘড়ির গতি (clock speed)
- 1 s = 5 মিনিট
বরফ-ঠান্ডা (ice-cold) পাত্রে ডায়াজোনিয়াম লবণ প্রায় ভাঙেই না — ঘড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা চললেও বার প্রায় ভরা থাকে। এবার ক্ষারীয় ফেনলে ঢালো।
- বরফ-ঠান্ডা (≤ 5 °C) রেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো, তারপর ক্ষারীয় ফেনলে (alkaline phenol) ঢালো।
- নতুন ব্যাচ (new batch) নাও, থার্মোমিটার 40 °C-এর ওপরে টেনে বুদবুদ দেখো, তারপর ঢালো। রঞ্জকের কী হলো?
অর্ধায়ু (half-life) আনুমানিক (approximate): পানিতে বেনজিনডায়াজোনিয়াম আয়নের প্রথম ক্রম বিয়োজন, 25 °C-এ ≈ 4 ঘণ্টা, Ea ≈ 114 kJ/mol।
একই দ্রবণ — ঠান্ডায় ঝকঝকে কমলা রঞ্জক, গরমে প্রায় কিছুই না। কেন এই বিক্রিয়া বরফ-ঠান্ডায় (0–5 °C) করতে হয়? উত্তর পেতে আগে অ্যামিনকে চিনতে হবে।
এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:
- অ্যামিন (amine) কী — 1°, 2°, 3°, অ্যারোমেটিক (aromatic) ও বিষমচাক্রিক (heterocyclic) অ্যামিন
- ক্ষারকত্ব (basicity) — pKb, +I প্রভাব (inductive effect), দ্রাবকযোজন (solvation) আর অনুরণন (resonance)
- ভৌত ধর্ম (physical properties) — স্ফুটনাঙ্ক (boiling point), দ্রাব্যতা (solubility), মাছের গন্ধ
- প্রস্তুতি (preparation) — হফম্যান ক্ষুদ্রাংশকরণ (Hofmann degradation) ও নাইট্রোবেনজিন থেকে অ্যানিলিন
- শনাক্তকরণ (identification) — কার্বিল অ্যামিন পরীক্ষা (carbylamine test) ও নাইট্রাস এসিড (nitrous acid) পরীক্ষা
- ডায়াজোকরণ (diazotisation) ও অ্যাজো কাপলিং (azo coupling) — কেন 0–5 °C, কেন pH গুরুত্বপূর্ণ
- ক্লোরোফর্মের (chloroform) সংরক্ষণ — বাদামি বোতল আর 1% ইথানল
- এবার নিজে করে দেখো — অ্যাজো রঞ্জক ও অ্যামিন শনাক্তকরণের ভার্চুয়াল ল্যাব (virtual lab)
ধাপ ১: অ্যামিন কী
অ্যালকোহল যেমন পানির জৈব জাতক, অ্যামিন (amine) তেমনি অ্যামোনিয়ার (ammonia, NH₃) জৈব জাতক (organic derivative): NH₃-এর এক, দুই বা তিনটি H-কে অ্যালকাইল (alkyl) বা অ্যারাইল (aryl) মূলক দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে অ্যামিন পাওয়া যায়।
- প্রাইমারি (primary, 1°) — N-এ একটি C: R–NH₂ (অ্যামিনো মূলক, amino group)
- সেকেন্ডারি (secondary, 2°) — N-এ দুটি C: R₂NH (>NH)
- টারশিয়ারি (tertiary, 3°) — N-এ তিনটি C: R₃N (>N–, তিনটি একক বন্ধন)
সাবধান: অ্যালকোহলে 1°/2°/3° ঠিক হয় –OH যুক্ত কার্বনে কয়টি C আছে তা দিয়ে, কিন্তু অ্যামিনে ঠিক হয় নাইট্রোজেনে (nitrogen) কয়টি C যুক্ত তা দিয়ে। তাই (CH₃)₃C–NH₂ একটি 1° অ্যামিন, যদিও এর কার্বনটি টারশিয়ারি।
N সরাসরি বেনজিন বলয়ে যুক্ত থাকলে তা অ্যারোমেটিক অ্যামিন (aromatic amine) — যেমন অ্যানিলিন (aniline, ফিনাইলঅ্যামিন), N-মিথাইলঅ্যানিলিন, N,N-ডাইমিথাইলঅ্যানিলিন। N বলয়ের ভেতরে থাকলে বিষমচাক্রিক (heterocyclic) — পিরিডিন (pyridine) আর পাইরোল (pyrrole)। পিরিডিনের জোড়-ইলেকট্রন বলয়ের বাইরে, তাই এটি ক্ষারক; পাইরোলের জোড়-ইলেকট্রন বলয়ের ছয়টি π ইলেকট্রনের অংশ (অ্যারোমেটিসিটি পাঠ), তাই এটি প্রায় ক্ষারহীন।
(CH₃)₃C–NH₂ (tert-বিউটাইলঅ্যামিন) কোন শ্রেণির অ্যামিন?
ধাপ ২: অ্যামিন কেন ক্ষার — আর কোনটি সবচেয়ে বেশি
N-এর নিঃসঙ্গ জোড়-ইলেকট্রন (lone pair) একটি H⁺ গ্রহণ করতে পারে, তাই অ্যামিন লুইস (Lewis) ও ব্রনস্টেড (Brønsted) ক্ষার। পানিতে:
Kb আর pKb-এর ধারণা মনে আছে? pKb যত ছোট, ক্ষার তত শক্তিশালী। 25 °C-এ মাপা মান (CRC):
| ক্ষারক (base) | pKb | 0.10 M দ্রবণের pH |
|---|---|---|
| (CH₃)₂NH | 3.27 | 11.85 |
| CH₃NH₂ | 3.36 | 11.81 |
| (CH₃)₃N | 4.20 | 11.40 |
| NH₃ | 4.75 | 11.12 |
| C₆H₅NH₂ (অ্যানিলিন) | 9.37 | 8.81 |
নিচে প্রতিটি ক্ষারক ট্যাপ করো — দেখো H⁺ কার কাছে কতটা কাছে আসে:
- Kb
- 1.8 × 10^-5
- pKaH (R₃NH⁺)
- 9.25
- 0.10 M দ্রবণের pH
- 11.12
- গ্যাস দশায় প্রোটন আসক্তি (proton affinity)
- 853.6 kJ/mol
তুলনার মান (reference)। N-এর নিঃসঙ্গ জোড়-ইলেকট্রন (lone pair) H⁺ ধরে NH₄⁺ বানায়: NH₃ + H₂O ⇌ NH₄⁺ + OH⁻।
- পাঁচটি ক্ষারকই ট্যাপ করে দেখো — H⁺ কার কাছে সবচেয়ে কাছে আসে? (1/5)
- অ্যানিলিনের চারটি অনুরণন রূপ (resonance forms) দেখো — জোড়-ইলেকট্রন কোথায় যায়?
pKb: CRC Handbook, 25 °C · প্রোটন আসক্তি: NIST WebBook।
ক্রমটি তিনটি জিনিসের টানাপোড়েন:
- +I প্রভাব (positive inductive effect): অ্যালকাইল মূলক ইলেকট্রন ঠেলে N-এ দেয়, জোড়-ইলেকট্রন বেশি “সহজলভ্য” হয়। শুধু এটুকু হলে 3° > 2° > 1° > NH₃ হতো — গ্যাস দশায় (gas phase) আসলেই তা-ই।
- দ্রাবকযোজন (solvation): পানিতে R₃NH⁺-এর চেয়ে RNH₃⁺ বেশি N–H দিয়ে পানির সঙ্গে H-বন্ধন (hydrogen bond) করে স্থিতিশীল হয়।
- স্থানিক বাধা (steric hindrance): তিনটি CH₃ N-এর চারপাশে ভিড় করে।
ফলে পানিতে ক্রম: 2° > 1° > 3° > NH₃ ≫ অ্যানিলিন। অ্যানিলিনের জোড়-ইলেকট্রন বেনজিন বলয়ের অনুরণনে (resonance) ছড়িয়ে থাকে; H⁺ নিলে সেই স্থিতিশীলতা হারাতে হয় — তাই এটি NH₃-এর চেয়ে প্রায় 42,000 গুণ দুর্বল ক্ষার ()।
লবণ গঠন (salt formation): অ্যামিন এসিডের সঙ্গে দ্রবণীয় অ্যামোনিয়াম লবণ দেয়: । এজন্যই পানিতে অদ্রবণীয় অ্যামিন-ওষুধ (যেমন মরফিন) হাইড্রোক্লোরাইড লবণ হিসেবে দেওয়া হয়।
পানিতে কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষার: CH₃NH₂, (CH₃)₃N, না C₆H₅NH₂?
ধাপ ৩: ভৌত ধর্ম
1° ও 2° অ্যামিনের N–H আছে, তাই অণুগুলো নিজেদের মধ্যে H-বন্ধন (hydrogen bond) করে। কিন্তু N, O-এর চেয়ে কম তড়িৎঋণাত্মক (electronegative), তাই N–H···N বন্ধন O–H···O-এর চেয়ে দুর্বল। 3° অ্যামিনে N–H নেই। স্ফুটনাঙ্ক (boiling point, °C, CRC/NIST):
| যৌগ | M (g/mol) | স্ফুটনাঙ্ক (°C) | কারণ |
|---|---|---|---|
| ইথেন C₂H₆ | 30.07 | −88.6 | H-বন্ধন নেই |
| মিথাইলঅ্যামিন CH₃NH₂ | 31.06 | −6.3 | দুর্বল N–H···N |
| মিথানল CH₃OH | 32.04 | 64.7 | শক্ত O–H···O |
| প্রোপাইলঅ্যামিন C₃H₇NH₂ (1°) | 59.11 | 47.8 | দুটি N–H |
| ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন (CH₃)₃N (3°) | 59.11 | 2.9 | N–H নেই |
| অ্যানিলিন C₆H₅NH₂ | 93.13 | 184.1 | বড় অণু + H-বন্ধন |
- মিথাইলঅ্যামিন, ডাইমিথাইলঅ্যামিন, ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন আর ইথাইলঅ্যামিন ঘরের তাপমাত্রায় গ্যাস।
- ছোট অ্যামিন পানিতে দ্রবণীয় — 3° অ্যামিনও পানির H গ্রহণ করে H-বন্ধন বানাতে পারে। অ্যানিলিন পানিতে কম দ্রবণীয় (তেলের মতো ভাসে)।
- নিম্ন অ্যামিনের মাছের মতো গন্ধ (fishy smell)। পচা মাছের গন্ধের প্রধান কারণ ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন (trimethylamine), যা মাছের ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন N-অক্সাইড (TMAO) ভেঙে তৈরি হয়।
প্রোপাইলঅ্যামিন আর ট্রাইমিথাইলঅ্যামিনের আণবিক ভর সমান (C₃H₉N), তবু প্রথমটির স্ফুটনাঙ্ক 47.8 °C, দ্বিতীয়টির 2.9 °C। কেন?
ধাপ ৪: অ্যামিনের প্রস্তুতি
দুটি বিক্রিয়া পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসে:
হফম্যান ক্ষুদ্রাংশকরণ (Hofmann degradation) — অ্যামাইড থেকে এক কার্বন কম অ্যামিন:
নাইট্রোবেনজিন থেকে অ্যানিলিন — Sn আর গাঢ় HCl দিয়ে বিজারণ (reduction), তারপর NaOH দিয়ে লবণ থেকে অ্যানিলিন মুক্ত করা:
প্রোপানামাইড (CH₃CH₂CONH₂) Br₂ ও গাঢ় NaOH-এর সঙ্গে উত্তপ্ত করলে কোন অ্যামিন পাওয়া যাবে?
ধাপ ৫: অ্যামিন শনাক্তকরণ — কার্বিল অ্যামিন ও নাইট্রাস এসিড পরীক্ষা
কার্বিল অ্যামিন পরীক্ষা (carbylamine test): 1° অ্যামিন (অ্যালিফেটিক বা অ্যারোমেটিক) ক্লোরোফর্ম ও অ্যালকোহলীয় KOH-এর সঙ্গে গরম করলে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত আইসোসায়ানাইড (isocyanide, কার্বিল অ্যামিন) তৈরি হয়। 2° ও 3° অ্যামিন এ পরীক্ষা দেয় না।
বিক্রিয়ায় 1° অ্যামিন আর CHCl₃ দুটোই লাগে — তাই একই পরীক্ষা দিয়ে ক্লোরোফর্মও শনাক্ত করা যায় (অ্যানিলিন + KOH দিয়ে)। আইসোসায়ানাইড বিষাক্ত; এ পরীক্ষা শুধু ভার্চুয়ালি করো।
নাইট্রাস এসিড পরীক্ষা (nitrous acid test): HNO₂ অস্থায়ী, তাই পরীক্ষার সময় তৈরি করা হয়: ।
| অ্যামিন | ঠান্ডা HNO₂-এর সঙ্গে | উদাহরণ |
|---|---|---|
| 1° অ্যালিফেটিক | ঠান্ডাতেই N₂-এর বুদবুদ, অ্যালকোহল | |
| 1° অ্যারোমেটিক | 0–5 °C-এ স্বচ্ছ ডায়াজোনিয়াম লবণ; গরমে N₂ + ফেনল | ধাপ ৬ |
| 2° (যেকোনো) | হলুদ তৈলাক্ত N-নাইট্রোসঅ্যামিন (N-nitrosamine) | |
| 3° অ্যালিফেটিক | শুধু লবণ হয়ে দ্রবীভূত, দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই |
নিচের চারটি নলে চারটি অজানা অ্যামিন। HNO₂ দাও, গরম করো, তারপর প্রতিটির শ্রেণি বলো:
প্রথমে চারটি নলেই ঠান্ডা নাইট্রাস এসিড (nitrous acid, HNO₂ — NaNO₂ + HCl থেকে তৈরি) যোগ করো।
একটি অ্যামিন কার্বিল অ্যামিন পরীক্ষা দেয় না, কিন্তু ঠান্ডা HNO₂-এর সঙ্গে হলুদ তৈলাক্ত পদার্থ দেয়। এটি কোন শ্রেণির?
ধাপ ৬: ডায়াজোনিয়াম লবণ ও অ্যাজো কাপলিং
ডায়াজোকরণ (diazotisation): 1° অ্যারোমেটিক অ্যামিনকে 0–5 °C-এ NaNO₂ ও বাড়তি HCl-এর সঙ্গে বিক্রিয়া করালে বেনজিনডায়াজোনিয়াম ক্লোরাইড (benzenediazonium chloride) তৈরি হয়:
C₆H₅–N⁺≡N আয়নের ধনাত্মক চার্জ বেনজিন বলয়ের π মেঘের সঙ্গে অনুরণনে কিছুটা ছড়িয়ে থাকে, তাই ঠান্ডায় এটি টিকে থাকে। অ্যালিফেটিক ডায়াজোনিয়াম আয়নের এমন সুযোগ নেই — সঙ্গে সঙ্গে N₂ ছেড়ে ভেঙে যায় (ধাপ ৫)।
কেন 0–5 °C? গরম পানিতে ডায়াজোনিয়াম লবণ ফেনলে পরিণত হয় — N₂ একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল অণু, তাই সহজেই চলে যায়:
এই ক্ষয়ের হার তাপমাত্রার সঙ্গে খুব দ্রুত বাড়ে (প্রায় প্রতি 5 °C-এ দ্বিগুণ):
| তাপমাত্রা (°C) | অর্ধায়ু (half-life) | 30 মিনিট পরে বাকি |
|---|---|---|
| 0 | 12.3 দিন (days) | 99.9% |
| 5 | 5.0 দিন (days) | 99.7% |
| 10 | 2.1 দিন (days) | 99% |
| 25 | 4.4 ঘণ্টা (h) | 92% |
| 30 | 2.0 ঘণ্টা (h) | 84% |
| 40 | 29 মিনিট (min) | 49% |
| 50 | 7.5 মিনিট (min) | 6% |
| 60 | 2.1 মিনিট (min) | 0% |
0–5 °C-এ অর্ধায়ু কয়েক দিন — বিক্রিয়ার 20–30 মিনিটে প্রায় কিছুই নষ্ট হয় না। তার ওপর ডায়াজোকরণ তাপোৎপাদী (exothermic), HNO₂ নিজেও গরমে ভেঙে যায়, আর তৈরি হওয়া ফেনল অবশিষ্ট ডায়াজোনিয়ামের সঙ্গে জুড়ে আলকাতরার মতো উপজাত (tarry by-products) দেয়। আর শুকনো ডায়াজোনিয়াম লবণ বিস্ফোরক — তাই এটি কখনো আলাদা করা হয় না, ঠান্ডা দ্রবণেই সরাসরি ব্যবহার করা হয়।
অ্যাজো কাপলিং (azo coupling): ডায়াজোনিয়াম আয়ন একটি দুর্বল ইলেকট্রোফাইল (electrophile)। এটি শুধু খুব সক্রিয় বলয়ে — ফিনক্সাইড আয়ন বা অ্যারোমেটিক অ্যামিন — সাধারণত প্যারা (para) অবস্থানে ইলেকট্রোফিলিক প্রতিস্থাপন (electrophilic substitution) ঘটায়। দুটি বলয় –N=N– দিয়ে যুক্ত হয়ে তৈরি হয় রঙিন অ্যাজো যৌগ (azo compound):
প্রথমটি 4-হাইড্রক্সিঅ্যাজোবেনজিন (4-hydroxyazobenzene) — ক্ষারীয় দ্রবণে কমলা; দ্বিতীয়টি 4-(ডাইমিথাইলঅ্যামিনো)অ্যাজোবেনজিন বা “বাটার ইয়েলো” (butter yellow) — হলুদ। 2-ন্যাফথলের (2-naphthol) সঙ্গে হয় লাল-কমলা সুদান I (Sudan I)। (বাটার ইয়েলো এককালে মাখন রাঙাতে আর সুদান রঞ্জক মরিচের গুঁড়োয় ভেজাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো — দুটিই ক্যানসার-সৃষ্টিকারী, খাদ্যে নিষিদ্ধ।)
রং কোথা থেকে? –N=N– মূলক দুই বলয়ের π ইলেকট্রনকে একটানা যুক্ত করে দৃশ্যমান আলো শোষণ করায় — একে বলে ক্রোমোফোর (chromophore, গ্রিক chroma = রং, phoros = বাহক)। –OH আর –NR₂ নিজে রং দেয় না, কিন্তু জোড়-ইলেকট্রন দিয়ে ক্রোমোফোরের রং গাঢ় করে — এরা অক্সোক্রোম (auxochrome, গ্রিক auxein = বাড়ানো)।
pH কেন গুরুত্বপূর্ণ? ফেনলের সক্রিয় রূপ ফিনক্সাইড আয়ন (phenoxide, C₆H₅O⁻), যা তৈরি হতে মৃদু ক্ষার (pH 9–10) লাগে। N,N-ডাইমিথাইলঅ্যানিলিনের সক্রিয় রূপ মুক্ত অ্যামিন — বেশি অম্লে তা অ্যানিলিনিয়াম আয়নে আটকা পড়ে, আর দুর্বল অম্লেই (pH 4–5) যথেষ্ট মুক্ত অ্যামিন থাকে। আর বেশি ক্ষারে ডায়াজোনিয়াম আয়ন নিজেই নিষ্ক্রিয় ডায়াজোটেটে (diazotate, ArN=N–O⁻) পরিণত হয়। pH ঘুরিয়ে দেখো:
- ফিনক্সাইড আয়ন (phenoxide, ArO⁻)
- 0.10%
- ডায়াজোনিয়াম আয়ন বাকি (ArN₂⁺)
- 1.0e+2%
মৃদু ক্ষারে (mildly alkaline) ফিনক্সাইড আয়ন (–O⁻) তৈরি হয় — –OH-এর চেয়ে বহু গুণ সক্রিয়। ডায়াজোনিয়াম আয়ন প্যারা (para) অবস্থানে আক্রমণ করে রঞ্জক বানায়।
- ফেনল বেছে pH ঘুরিয়ে খোঁজো কোথায় কাপলিং সবচেয়ে দ্রুত।
- N,N-ডাইমিথাইলঅ্যানিলিন বেছে দেখাও যে pH 4–5-এই কাপলিং দ্রুত হয় — ক্ষার লাগে না।
- মিথাইল অরেঞ্জ বেছে pH 3-এর নিচে আর 4.4-এর ওপরে নিয়ে রং বদলাও।
বক্ররেখাটি প্রবণতা (trend, illustrative): সক্রিয় সঙ্গী যৌগের অংশ × ArN₂⁺-এর অংশ, সর্বোচ্চ = 1। pKa: ফেনল 9.99, 2-ন্যাফথল 9.51, C₆H₅NH(CH₃)₂⁺ 5.07 (CRC)। ডায়াজোটেটের pK ≈ 11 আনুমানিক। সবুজ পট্টি = ল্যাবে ব্যবহৃত pH, লালচে = ডায়াজোটেট অঞ্চল।
মিথাইল অরেঞ্জ (methyl orange), যা তুমি টাইট্রেশনে নির্দেশক (indicator) হিসেবে ব্যবহার করো, নিজেও একটি অ্যাজো রঞ্জক: অম্লে লাল, pH 4.4-এর ওপরে হলুদ (pKa 3.47)।
বেনজিনডায়াজোনিয়াম ক্লোরাইডের সঙ্গে ফেনলের কাপলিং মৃদু ক্ষারীয় দ্রবণে (pH 9–10) করা হয় কেন?
ধাপ ৭: ক্লোরোফর্মের সংরক্ষণ
কার্বিল অ্যামিন পরীক্ষার বিকারক ক্লোরোফর্ম (CHCl₃) একসময় চেতনানাশক (anaesthetic) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আলো আর বাতাসের O₂-এর উপস্থিতিতে এটি জারিত হয়ে বিষাক্ত ফসজিন (phosgene, কার্বনিল ক্লোরাইড) তৈরি করে:
তাই ক্লোরোফর্ম রাখা হয় (১) বাদামি বোতলে — আলো ঢোকে না, (২) মুখ পর্যন্ত ভরে — বাতাস থাকে না, আর (৩) 1% ইথানল মিশিয়ে — তৈরি হওয়া ফসজিনকে নিরীহ ডাইইথাইল কার্বনেটে বদলে দেয়:
বিশুদ্ধতা পরীক্ষা: কয়েক ফোঁটা ক্লোরোফর্ম AgNO₃ দ্রবণে দিলে, জারিত হয়ে থাকলে HCl থেকে AgCl-এর সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে: । বিশুদ্ধ CHCl₃-এ মুক্ত Cl⁻ নেই, তাই অধঃক্ষেপ পড়ে না।
নতুন, বিশুদ্ধ ক্লোরোফর্ম (chloroform)। স্লাইডার টেনে বোতলটি কয়েক সপ্তাহ রোদ-আলোয় রাখো।
- স্বচ্ছ, অর্ধেক ভরা বোতল কমপক্ষে 30 দিন রোদে রেখে AgNO₃ পরীক্ষা করো।
- ঠিক নিয়মে রাখো (বাদামি, ভরা, 1% ইথানল) — 60 দিন পরেও কি পরীক্ষা পাস করে?
মডেলটি গুণগত (qualitative, illustrative): শুধু কোন ব্যবস্থা কতটা সাহায্য করে তা দেখায়, আসল হার নয়। ইথানল ফসজিনকে নিরীহ ডাইইথাইল কার্বনেটে (diethyl carbonate) বদলায়, কিন্তু HCl থেকে যায়।
ক্লোরোফর্মে 1% ইথানল মেশানো হয় কেন?
ধাপ ৮: এবার নিজে করে দেখো — অ্যাজো রঞ্জক ও অ্যামিন শনাক্তকরণ ল্যাব
ল্যাবে দুটি টেবিল:
- ১. ডায়াজোকরণ ও কাপলিং: বিকারে অ্যানিলিন আর পানি। ক্রম মেনে চলো — পাত্র বেছে নাও → গাঢ় HCl → NaNO₂ অংশে অংশে (থার্মোমিটারে চোখ রাখো) → স্টার্চ-আয়োডাইড কাগজ নীল হওয়া পর্যন্ত → সঙ্গী যৌগে ঢালো। ভুল পাত্র বা ভুল pH হলে ফলনও (yield) কমবে।
- ২. অ্যামিন শনাক্তকরণ: জানা অ্যামিন, অজানা X, Y, Z আর অজানা তরল M। একটি নমুনা বেছে বিকারক দাও, পর্যবেক্ষণ থেকে শ্রেণি বের করে খাতায় লেখো। pH কাগজের মান দিয়ে পাঁচটি ক্ষারককে ক্রমে সাজাও।
অ্যাজো রঞ্জক ও অ্যামিন — ভার্চুয়াল ল্যাব
Azo dye & amine lab⚠ শুধু ভার্চুয়াল (virtual only): অ্যানিলিন, ফেনল, NaNO₂, ডায়াজোনিয়াম লবণ, ক্লোরোফর্ম, আইসোসায়ানাইড আর নাইট্রোসঅ্যামিন বিষাক্ত বা ক্যানসার-সৃষ্টিকারী। শুকনো ডায়াজোনিয়াম লবণ বিস্ফোরক।
- ডায়াজোনিয়াম (diazonium)
- 0%
- অ্যানিলিন বাকি
- 100%
- নষ্ট → ফেনল + N₂
- 0%
- অর্ধায়ু (half-life) এখন
- 2.0 ঘণ্টা (h)
- সময় (lab time)
- 0 মিনিট
বিকারে (beaker) পানি আর কয়েক ফোঁটা অ্যানিলিন — অ্যানিলিন পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়, তেলের ফোঁটা ভাসছে। শুরু করো গাঢ় HCl দিয়ে।
মডেল: বিকারের তাপমাত্রা পাত্রের দিকে যায় (≈ 3 মিনিট সময়-ধ্রুবক), প্রতি অংশ NaNO₂-এ +4 °C — এগুলো আনুমানিক (illustrative)। ডায়াজোনিয়াম ক্ষয় প্রথম ক্রম (first order), 25 °C-এ t½ ≈ 4 ঘণ্টা (approximate)। ঘড়ি: 1 s = 2 মিনিট।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/7- অ্যানিলিন থেকে কমলা রঞ্জক (orange dye) বানাও — ফলন (yield) কমপক্ষে 90%, ডায়াজোনিয়াম লবণ N₂ হয়ে নষ্ট না করে
- এবার লাল-কমলা রঞ্জক বানাও (2-ন্যাফথল দিয়ে), ফলন কমপক্ষে 80%
- অজানা Y একটি 2° অ্যামিন — নাইট্রাস এসিড (HNO₂) পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করে সিদ্ধান্ত লেখো
- pH কাগজ দিয়ে মেপে পাঁচটি ক্ষারককে ক্ষারকত্বের ক্রমে সাজাও (সবচেয়ে ক্ষারীয় আগে)
- অজানা তরল M কি ক্লোরোফর্ম? কোন পরীক্ষা অ্যামিনের পাশাপাশি CHCl₃-ও শনাক্ত করে — খুঁজে বের করো
- অ্যানিলিনকে ফেনলে (phenol) পরিণত করো
- চারটি অজানা নমুনা X, Y, Z, M-এর শ্রেণি শনাক্ত করে সিদ্ধান্ত লেখো (0/4)
পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
এখনো কিছু লেখা হয়নি — পরীক্ষা করলে এখানে জমা হবে।
বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে:
- পৃ. 284: অ্যানিলিনের গঠনের নিচে লেখা “মিথাইল অ্যামিন বা অ্যানিলিন” — এটি ফিনাইলঅ্যামিন (phenylamine) বা অ্যানিলিন; মিথাইলঅ্যামিন হলো CH₃NH₂।
- পৃ. 285: 3° অ্যামিনো মূলক ”(=N–)” লেখা — 3° অ্যামিনের N-এ তিনটি একক বন্ধন: >N–।
- পৃ. 286: অ্যামাইডকে “Na ও ইথানল” দিয়ে বিজারিত করে অ্যামিন — Na/ইথানল নাইট্রাইল বিজারিত করে, অ্যামাইডের জন্য LiAlH₄ লাগে।
- পৃ. 286: অ্যাসিটামাইডের হফম্যান সমীকরণে শেষে “H₂O” — হবে 2H₂O (ওপরের সাধারণ সমীকরণটি ঠিক আছে)।
- পৃ. 287: Sn/HCl বিজারণে NaOH ধাপটি নেই — অম্লে অ্যানিলিন C₆H₅NH₃⁺Cl⁻ লবণ হিসেবে থাকে, NaOH দিয়ে মুক্ত করতে হয়। ইথিন + NH₃ থেকে ইথাইলঅ্যামিনের “শিল্প পদ্ধতি” বাস্তবে প্রচলিত নয় (শিল্পে ইথানল + NH₃ বা অ্যাসিট্যালডিহাইডের বিজারণমূলক অ্যামিনেশন) — শুধু বইয়ের প্রথা হিসেবে মনে রাখো।
- পৃ. 288: “অক্সোক্রোমস (oxochromes)” — সঠিক শব্দ অক্সোক্রোম (auxochrome), গ্রিক auxein = বাড়ানো।
- পৃ. 288: N,N-ডাইমিথাইলঅ্যানিলিনের কাপলিং “লঘু NaOH”-এ দেখানো — অ্যামিনের সঙ্গে কাপলিং হয় দুর্বল অম্লীয় দ্রবণে (pH 4–5, অ্যাসিটেট বাফার); ক্ষারীয় মাধ্যম শুধু ফেনলের জন্য।
- পৃ. 289: কার্বিল অ্যামিন সমীকরণ দুটিতে “H₂O” — হবে 3H₂O। আর আইসোসায়ানাইড CH₃–N=C আঁকা — সঠিক গঠন R–N⁺≡C⁻।
- পৃ. 289: অ্যানিলিন + HNO₂ (গরম) → ফেনল + N₂ সমীকরণে H₂O নেই; দ্বিতীয় ডায়াজোকরণ সমীকরণে একটি H₂O — হবে 2H₂O (পৃ. 288-এ ঠিক আছে)।
- পৃ. 289: মিথাইলডায়াজোনিয়াম ভেঙে “মুক্ত CH₃⁺” তৈরি হয় বলা হয়েছে — মিথাইল ক্যাটায়ন এত অস্থিতিশীল যে মুক্ত অবস্থায় তৈরি হয় না; পানি সরাসরি CH₃N₂⁺-কে আক্রমণ করে, আর উৎপাদ আসলে মিশ্রণ (মিথানল, CH₃Cl ইত্যাদি)। বোর্ডের উত্তরে CH₃OH + N₂ + H₂O লিখলেই চলে।
- পৃ. 290: “2CHCl₃ + O₂ → COCl₂ + 2HCl” — হবে 2COCl₂ (একই পাতার নিচে ঠিক আছে)।
- পৃ. 291: “পচা মাছের দুর্গন্ধ মিথাইল অ্যামিন” — প্রধান কারণ ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন, যা মাছের TMAO ভেঙে তৈরি হয়।
ঘরে বসে পরীক্ষা: মাছের গন্ধ আর লেবু
মাছের সঙ্গে লেবু কেন দেওয়া হয় — সেটাই অ্যামিনের ক্ষারধর্মের প্রমাণ!
- একটি ছোট কাপে কাঁচা মাছের একটি টুকরো সামান্য পানিতে ধুয়ে নাও। টুকরোটি সরিয়ে পানিটা শুঁকে দেখো — মাছের গন্ধ (মূলত ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন, একটি উদ্বায়ী ক্ষার)।
- দুটি আলাদা কাপে এই পানি ভাগ করো। একটিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা ভিনেগার দাও, অন্যটিতে সমান পরিমাণ সাধারণ পানি।
- এক মিনিট পর দুটো শুঁকে তুলনা করো। লেবুর কাপে গন্ধ অনেক কম — এসিড অ্যামিনকে অনুদ্বায়ী (non-volatile) লবণে পরিণত করেছে: । লবণ বাতাসে ওড়ে না, তাই নাকেও পৌঁছায় না।
- বাড়িতে হলুদ গুঁড়ো থাকলে একটি কাগজে হলুদ মাখিয়ে মাছ-ধোয়া পানিতে ছোঁয়াও — খুব বেশি ক্ষারীয় হলে লালচে হয় (মাছ-ধোয়া পানি সাধারণত সামান্য ক্ষারীয়, পরিবর্তন হালকা হতে পারে)।
নিরাপত্তা: শুধু রান্নার মাছ, লেবু, ভিনেগার আর হলুদ ব্যবহার করো — অন্য কোনো রাসায়নিক নয়। কাঁচা মাছ ধরার পর সাবান দিয়ে হাত, কাপ আর রান্নাঘরের জায়গা ভালো করে ধুয়ে ফেলো। ল্যাবের অ্যামিন, ফেনল বা ক্লোরোফর্ম কখনো শুঁকে দেখবে না।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. CH₃NH₂, NH₃ ও C₆H₅NH₂-কে ক্ষারকত্বের ক্রমে সাজাও ও কারণ লেখো। 0.10 M মিথাইলঅ্যামিন দ্রবণের pH নির্ণয় করো (pKb = 3.36)।
ক্রম: CH₃NH₂ (pKb 3.36) > NH₃ (4.75) > C₆H₅NH₂ (9.37)। CH₃-এর +I প্রভাব N-এ ইলেকট্রন ঘনত্ব বাড়ায়, আর CH₃NH₃⁺ পানিতে H-বন্ধনে স্থিতিশীল — তাই NH₃-এর চেয়ে শক্তিশালী। অ্যানিলিনের জোড়-ইলেকট্রন বলয়ের অনুরণনে জড়িত, H⁺ নিলে অনুরণন-স্থিতিশীলতা হারায় — তাই সবচেয়ে দুর্বল।
। থেকে M (দ্বিঘাত সমাধান; ধরলে )।
pOH = 2.19, pH = 14.00 − 2.19 = 11.81।
২. কার্বিল অ্যামিন পরীক্ষা কী? সমীকরণসহ লেখো। এ পরীক্ষায় কী কী যৌগ শনাক্ত করা যায়?
1° অ্যামিনকে CHCl₃ ও অ্যালকোহলীয় KOH-এর সঙ্গে গরম করলে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত আইসোসায়ানাইড তৈরি হয়:
শনাক্ত হয়: (ক) যেকোনো 1° অ্যামিন (অ্যালিফেটিক ও অ্যারোমেটিক) — 2° ও 3° অ্যামিন দুর্গন্ধ দেয় না; (খ) ক্লোরোফর্ম (এবং CHBr₃ ইত্যাদি হ্যালোফর্ম) — কোনো 1° অ্যামিন + KOH দিয়ে।
৩. তিনটি অজানা অ্যামিন X, Y, Z (সংকেত C₃H₉N)। ঠান্ডা NaNO₂/HCl যোগ করলে X থেকে বুদবুদ বের হয়, Y থেকে হলুদ তৈলাক্ত পদার্থ পৃথক হয়, Z-এ কোনো পরিবর্তন হয় না। X, Y, Z-এর সম্ভাব্য গঠন ও সমীকরণ লেখো।
X = 1° অ্যামিন, যেমন প্রোপাইলঅ্যামিন: (আসলে অ্যালকোহল-অ্যালকিনের মিশ্রণ; বোর্ডের উত্তরে অ্যালকোহল)।
Y = 2° অ্যামিন, যেমন N-মিথাইলইথাইলঅ্যামিন: (হলুদ N-নাইট্রোসঅ্যামিন)।
Z = 3° অ্যামিন, ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন: — শুধু লবণ হয়ে দ্রবীভূত।
৪. ডায়াজোকরণ বিক্রিয়া 0–5 °C-এ করা হয় কেন? পানিতে বেনজিনডায়াজোনিয়াম আয়নের বিয়োজন প্রথম ক্রমের, 25 °C-এ অর্ধায়ু 4.4 h ও 50 °C-এ 7.5 min ধরলে 30 মিনিটে কত অংশ নষ্ট হয়?
উচ্চ তাপমাত্রায় ডায়াজোনিয়াম লবণ পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফেনল ও N₂ দেয় (), বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী, HNO₂ গরমে ভেঙে যায় আর শুকনো লবণ বিস্ফোরক। 0–5 °C-এ অর্ধায়ু কয়েক দিন, তাই প্রায় কিছুই নষ্ট হয় না।
প্রথম ক্রম: বাকি অংশ ।
25 °C: → নষ্ট ≈ 7.6%।
50 °C: অর্ধায়ু, → নষ্ট ≈ 94%।
৫. অ্যাসিটামাইড থেকে মিথাইলঅ্যামিন কীভাবে পাবে? 5.91 g অ্যাসিটামাইড থেকে তাত্ত্বিকভাবে কত গ্রাম মিথাইলঅ্যামিন পাওয়া যাবে? নাইট্রোবেনজিন থেকে অ্যানিলিন প্রস্তুতির সমীকরণ লেখো।
হফম্যান ক্ষুদ্রাংশকরণ:
M(CH₃CONH₂) = 59.07 g/mol → 5.91 g = 0.100 mol → 0.100 mol CH₃NH₂ × 31.06 g/mol = 3.11 g।
অ্যানিলিন: ; অম্লে তৈরি C₆H₅NH₃⁺Cl⁻ থেকে NaOH দিয়ে অ্যানিলিন মুক্ত করে বাষ্প-পাতনে (steam distillation) আলাদা করা হয়।
৬. ক্লোরোফর্ম বাদামি বোতলে মুখ পর্যন্ত ভরে রাখা হয় কেন? এর বিশুদ্ধতা কীভাবে পরীক্ষা করবে?
আলো ও বাতাসের O₂-এ ক্লোরোফর্ম জারিত হয়ে বিষাক্ত ফসজিন দেয়: । বাদামি বোতল আলো আটকায়, ভরা বোতলে বাতাস থাকে না। 1% ইথানল তৈরি হওয়া ফসজিন নষ্ট করে: ।
পরীক্ষা: AgNO₃ দ্রবণে কয়েক ফোঁটা ক্লোরোফর্ম দাও। সাদা অধঃক্ষেপ (AgCl) পড়লে HCl আছে — ক্লোরোফর্ম জারিত, অব্যবহারযোগ্য: । অধঃক্ষেপ না পড়লে বিশুদ্ধ।